পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলছে। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর ইস্যুতে আলোচনা করতেই সোমবার বিকেল ৪টেয় তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গতকালই রাজধানীতে পৌঁছেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে এসআইআর ‘আতঙ্কে’ নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরও যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরাই বর্তমানে বঙ্গভবনে রয়েছেন। এই আবহে সোমবার সকাল থেকেই আচমকা বাড়ানো হয় বঙ্গভবনের নিরাপত্তা। ব্যারিকেড তোলা হয় বঙ্গভবনের বাইরে। হঠাৎই দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী বঙ্গভবন ঘিরে ফেলে।
তিনি বলেন, ‘সীমা খান্না প্রথমেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দিয়েছেন। আদবাণীজিকে সম্মান-সহ বলতে চাইছি, উনি কাগজ দেখাতে পারবেন? আমি ১০০ লোককে নিয়ে এসেছি। তার মধ্যে বিএলওরাও আছেন। ডেড ভোটারদের দেখাচ্ছেন। যাঁরা বেঁচে থাকার পরও মৃত বলে চিহ্নিত।’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এসআইআর করার প্রয়োজন কী ছিল? ইলেকশন বাউন্ড ৪টে রাজ্যকে ছেড়ে দিতেন। অসামে বিজেপির সরকার রয়েছে। নর্থ ইস্টে তো করেননি। আমার জন্মের শংসাপত্রও আমি আনতে পারব না।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের পর টাইটেল বদল হয়ে। তাঁদের নামও বাদ দিয়ে দিয়েছেন— অ্যান্টি উইমেন। ট্রাইবাল, এসটি, এসসি, মাইনরিটি তাহলে বুঝতে পারছেন, মুসলিম দুজন আর হিন্দু কজন? যাঁরা হিন্দু মুসলমান করেন, এরা কারা। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এসআইআর করার প্রয়োজন কী ছিল?”
তিনি বলেন, ‘বন্দ্যোপাধ্যায়, চট্টোপাধয্যায় করে নাম বাদ দিয়েছেন। প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছেন। এআই ব্যবহার করে, কে এই সামা খান্না?’
নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়েই গর্জে উঠলেন মমতা! তিনি বলেন, ‘আমি অনেকদিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। আমি কখনও এরকম নির্বাচন কমিশন দেখিনি। যাঁরা এত অহঙ্কারী, মিথ্যাবাদী। আমরা আপনার চেয়ারকে সম্মান করি।
আপনারা কী করলেন? ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিলেন। সওয়াল করার সুযোগও পেলেন না।’
কিছুক্ষণ আগে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের। জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও দুই নির্বাচন কমিশনারও রয়েছেন সোমবারের বৈঠকে।
এসআইআর আন্দোলন দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মমতা-অভিষেক। এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কমিশনের বিরুদ্ধে এমনিতেই সরাসরি আইনি যুদ্ধের পথে হেঁটেছেন মমতা। রবিবারই দিল্লিতে পৌঁছেছেন মমতা। এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন কিছু পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের রাখা হয়েছে বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়েছে।
মমতা জানান, বাংলা থেকে আসা ৫০ পরিবার এমন রয়েছে, যাঁরা বেঁচে রয়েছেন, কিন্তু তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। ৫০ এমন রয়েছেন, যাঁদের পরিবারের কারোর এসআইআর-এর কারণে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ বেছে বেছে তাঁদেরকেই হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ। আর সেই প্রসঙ্গে দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে গরিবদের কোনও জায়গা নেই।’
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেই মমতা বলেন, “দালালি করবেন না। দিল্লি পুলিশের আচরণ দেখো!” তবে সঙ্গে এও বলেন, “দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই। এটা ওনাদের দোষ নয়। আমাদের কিছু লোকই এসেছে।”
‘এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের’ হেনস্থার অভিযোগ, প্রতিবাদে গর্জে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় নেমে আসা- সকাল থেকেই হেইল রোডে বঙ্গ ভবনে চড়ছে পারদ। সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর চলে যান হেইলি রোডের পুরনো বঙ্গভবনের সামনেও।



