corona virus btn
corona virus btn
Loading

কাসাভের থেকেও বড় সন্ত্রাসবাদী কুলভূষণ যাদব : পারভেজ মুশারফ

কাসাভের থেকেও বড় সন্ত্রাসবাদী কুলভূষণ যাদব : পারভেজ মুশারফ

কাসাবের থেকেও বড় অপরাধী যাদব ৷ তাকে ফাঁসি দেওয়া উচিৎ কারণ পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য যাদব ক্ষতিকারক ৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মানবাধিকারের লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিল ভারত। ভারতীয় নৌবাহিনীর অফিসার কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ডে স্থগিতাদেশ দিল আন্তর্জাতিক আদালত। হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসের নির্দেশ, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কুলভূষণকে ফাঁসি দিতে পারবে না নওয়াজ শরিফ সরকার। এর রায়ের পর কুলভূষণ যাদবকে আজমল কাসাবের থেকেও বড় সন্ত্রাসবাদী বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনা প্রধান পারভেজ মুশারফ ৷ ২০০৮-এর ভয়াবহ মুম্বইয়ে যে ১০ জন হামলা চালিয়েছিল তাদের মধ্যে একজন ছিল কাসাভ ৷ এই হামলায় মৃত্যু হয় ১৬৪৷ হামলাকারীদের মধ্যে কেবল কাসাবকেই জীবিত ধরতে সফল হয়েছিল ভারত ৷ পাকিস্তানের ARY সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গকে তুলে এনে মুশারফ জানিয়েছেন, কাসাভ কেবল ছিল দাবার বোড়ে, অথার্ৎ অন্যের হাতের পুতুল ৷ কিন্তু কুলভূষণ যাদব ছিল গুপ্তচর ৷ পাকিস্তানে সেও মানুষ খুন করে থাকতে পারে ৷ এদিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল যাদব ৷ তাই কাসাবের থেকেও বড় অপরাধী যাদব ৷ তাকে ফাঁসি দেওয়া উচিৎ কারণ পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য যাদব ক্ষতিকারক ৷

কুলভূষণের ফাঁসি স্থগিত রাখার নির্দেশ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক আদালত। শুনানিতে যে যে অভিযোগ তুলেছিল ভারত তার অধিকাংশ মেনে নিল আন্তর্জাতিক আদালত। রায়ের প্রথম অংশেই স্পষ্ট হয়ে যায়, কুলভূষণ নিয়ে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে পাকিস্তান। কুলভূষণ মামলায় ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পাকিস্তান, তা খারিজ করে দেন বিচারক। মানবাধিকার ও বিচার নিয়ে সংঘাতের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারে আন্তর্জাতিক আদালত। কুলভূষণের মামলাও একই ধরণের। এই মামলায় গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারপরই এসেছে একের পর এক ধাক্কা। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসের পর্যবেক্ষণ, কুলভূষণের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির প্রমাণ নেই। তবুও তাকে ফাঁসিতে ঝোলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। রায়ে পাক প্রশাসনকে তুলোধনা আন্তর্জাতিক আদালতের। কুলভূষণ রায় --- - আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না - কুলভূষণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে আদালতের - ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী সেই অধিকার আদালতে রয়েছে - কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়াটা আন্তর্জাতিক চুক্তিভঙ্গের আওতায় পড়ে - ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬(১) ধারা লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান - কনসুলার অ্যাকসেস অর্থাৎ ভারতের আইনি সাহায্যের  সুযোগ পাবেন কুলভূষণকে - কুলভূষণ চর, এব্যাপারে প্রমাণ দিতে পারেনি পাকিস্তান - কোথা থেকে তাঁকে গ্রেফতার, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে - কুলভূষণের বিচার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ সঠিক বলে মানছে আদালত গত সোমবার আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণ নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের অবস্থান শুনেছিল আন্তর্জাতিক আদালত।

তখনই কুলভূষণকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলে ভারত। ভারতীয় নৌ-সেনার প্রাক্তন অফিসারকে কোথায় রাখা হয়েছে, কী তাঁর অবস্থা, এখনও জানে না কেন্দ্র। রায় বেরনোর পরই কনসুলার অ্যাকসেস চেয়ে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। চলছে চূড়ান্ত শুনানির প্রস্তুতিও। কুলভূষণ আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই বলেই দাবি করেছিল পাকিস্তান। সেই দাবি খারিজ হওয়ার পর এখন কি করবে নওয়াজ শরিফ প্রশাসন? আদালতের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কুলভূষণকে ফাঁসি দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না। পাক প্রধানমন্ত্রীকে এমনই পরামর্শ দিচ্ছেন আইনজীবীরা। এক রায়েই রীতিমতো ব্রে-আব্রু পাকিস্তানের দ্বিচারিতা।

First published: May 20, 2017, 3:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर