Noida Software Engineer Death: ৭০ ফুট গভীর নালায় গাড়ি, বাবার সামনে তিলে তিলে মৃত্যু ছেলের! নয়ডায় গাফিলতির বলি ২৭ বছরের ইঞ্জিনিয়ার
- Published by:Debamoy Ghosh
- news18 bangla
Last Updated:
নয়ডা: ঘন কুয়াশার মধ্যে ৭০ ফুট গভীর নালায় গাড়ি পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল ২৭ বছর বয়সি এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের৷ শনিবার ভোর রাতে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ৷ বাঁচার জন্য ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রায় দু ঘণ্টা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ৷ অসহায়ের মতো নিজের ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী থাকলেন ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বাবা৷
এমন কি, একজন ডেলিভারি বয় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করতে নালার জলে নামলেও বিপর্যয় মোকাবিলী বাহিনী অথবা পুলিশের কেউ সেই চেষ্টাটুকুও করেননি বলে অভিযোগ মৃত যুবকের বাবার৷ মৃত ওই যুবকের নাম যুবরাজ মেহতা৷ একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজের জন্য খোড়া নালার মধ্যে গাড়ি পড়ে যাওয়ার পর প্রাণে বাঁচতে মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন যুবরাজ৷ দরজা খুলে কোনওমতে গাড়ির ছাদে উঠে পড়েন তিনি৷ এর পর সাহায্যের জন্য নিজের বাবা এবং বন্ধুদের ফোনও করেন ওই যুবক৷ যদিও শেষ রক্ষা হয়নি৷ ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই গভীর নালার জল থেকে যুবরাজের দেহ এবং গাড়িটি উদ্ধার করা হয়৷
advertisement
জানা গিয়েছে, গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন ২৭ বছর বয়সি ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার৷ শনিবার রাতে কাজ শেষ করার পর রোজকার মতো নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি৷ কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ রাস্তার একটি তীক্ষ্ণ বাঁক ঠাহর করতে পারেননি তিনি৷ অভিযোগ, ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকলেও তীক্ষ্ণ ওই বাঁকের কাছে চালকদের সতর্ক করার জন্য কোনও পথ নির্দেশিকা ছিল না৷ এমন কি, ওই নালা লাগোয়া যে দেওয়ালটি ছিল সেটিরও ভগ্নপ্রায় দশা ছিল৷ ফলে সেই দেওয়াল ভেঙে গাড়িটি সোজা গিয়ে জল ভর্তি ওই গভীর নালার মধ্যে পড়ে৷
advertisement
advertisement
#NoidaTragedy | A 27-year-old software engineer, Yuvraj Mehta, drowned after his SUV broke through a damaged boundary wall and plunged into a flooded pit at a commercial site in Sector 150 around midnight. His father spoke exclusively to CNN News18 about the incident… pic.twitter.com/KvBgiSfZy8
— News18 (@CNNnews18) January 18, 2026
advertisement
যে জায়গায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, ওই যুবকের বাড়ি তার থেকে খুব বেশি দূরে নয়৷ ফলে ছেলের ফোন পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছন যুবরাজের বাবা রাজ মেহতা৷ পৌঁছে যায় পুলিশও৷ অভিযোগ, এর পরেই টানাপোড়েনের শুরু৷
যুবরাজের বাবা এবং বন্ধুদের অভিযোগ, তাঁকে উদ্ধারের জন্য একটি নৌকার প্রয়োজন ছিল৷ কিন্তু সেই নৌকা আনতে আনতেই দু ঘণ্টা পেরিয়ে যায়৷ যুবরাজের বাবার কথায়, ‘ও আমাকে ফোন করে বলল, বাবা আমি একটা গভীর নালায় পড়ে গিয়েছি৷ আমি ডুবে যাচ্ছি৷ দয়া করে তাড়াতাড়ি এসে আমাকে বাঁচাও৷ আমি মরতে চাই না৷ যুবরাজ সাঁতারও জানতেন না৷’
advertisement
আক্ষেপ করতে করতেই রাজ মেহতা বলেন, ‘রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাত তিনটে নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ ওরা প্রথমে একটি জেসিবি আনায়৷ এর পর নৌকার বন্দোবস্ত করে জলে নামাতে নামাতে দু ঘণ্টা পেরিয়ে যায়৷ যুবরাজের বাবার আরও অভিযোগ, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কাছে যে দড়িটি ছিল, সেটি আমার ছেলের কাছে পৌঁছচ্ছিল না৷ একটি ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় ওই রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু চালকদের সতর্ক করতে কোনও রিফ্লেক্টর অথবা অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ তাহলে আমার ছেলের এই পরিণতি হত না৷’
advertisement
চোখের সামনে নিজের ছেলেকে কীভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখলেন, তা বর্ণনা করে রাজ মেহতা বলেন, ‘আমি সবার কাছে গিয়ে অনুরোধ করে বললাম কেউ সাঁতার জানলে আমার ছেলেটাকে বাঁচান৷ ও বাঁচার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছিল৷ কিন্তু দড়িটাই ওর কাছে পাঠানো গেল না৷ সরকারি আধিকারিকরা নানা রকম অজুহাত দিচ্ছে৷ শুধু পরিকাঠামোর অভাবে আমি নিজের ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলাম না৷ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি ওঁর মনের জোর বাডা়নোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সব বিফলে গেল৷’
advertisement
যুবরাজের বাবার কথায়, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর ছেলেকে বাঁচাতে শুধু এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত ছুটে বেরিয়েছেন তিনি৷ শেষ পর্যন্ত যখন যুবরাজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, চিকিৎসকরা জানান কিছুক্ষণ আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷
মৃতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পঙ্কজ টোকাসের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীরা জানিয়ে দেন, তাঁরা কেউ সাঁতার জানেন না৷ আবার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দলের কাছে যুবরাজকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না৷ তাঁর কথায়, ‘যুবরাজের ছ ফুট উচ্চতা ছিল৷ ও খুব ফিটও ছিল, কিন্তু সাঁতার জানত না৷’ পঙ্কজের কথায়, ক্রেন, দড়ি সহ সবকিছুই আনা হয়৷ কিন্তু সেগুলি নিয়ে যুবরাজকে উদ্ধার করতে কেউ জলে নামেনি৷ পঙ্কজের আক্ষেপ, ‘রাত আড়াইটের পর থেকে যুবরাজের আর্তি বন্ধ হয়ে যায়৷’
সন্তান হারানোর পর যুবরাজের বাবা রাজ মেহতার আক্ষেপ, ‘আমার একমাত্র ছেলে ছিল যুবরাজ৷ আমার মেয়ে বিদেশে থাকে৷ ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল৷ এই জায়গায় পৌঁছতে ও কঠোর পরিশ্রম করেছিল৷’
তবে পুলিশ অথবা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যা পারেননি, সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন মনিন্দর নামে এক ডেলিভারি বয়৷ ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়ার সময় সব কিছু শুনে কোনও সাজ সরঞ্জাম ছাড়াই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুবরাজকে বাঁচাতে জলে নেমে পড়েন তিনি৷ কিন্তু যুবরাজের গলার স্বর শুনতে পেলেও ঘন কুয়াশার মধ্যে তিনি কোথায় রয়েছেন, তা খুঁজে পাননি মনিন্দর৷ তাঁরও অভিযোগ, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল শুধুমাত্র সাহায্য করার নাটক করছিলেন৷ বাস্তবে কোনও উদ্যোগই নেননি তাঁরা৷
মনিন্দর বলেন, ‘রাত ১.৪০ মিনিট নাগাদ ওই এলাকায় আমার একটি ডেলিভারি ছিল৷ ঘটনাস্থলে ভিড় দেখে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রাত ১২টা একজন ওই নালায় পড়ে গিয়েছে৷ পুলিশ, দমকলও ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসে৷ একটু পরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী আসে৷ প্রায় দু ঘণ্টা ওই যুবকের গাড়ি জলে ভাসছিল৷ উনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন৷ প্রায় ১০০ জন ওখানে ছিল৷ কেউ ওই যুবককে বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি৷ শেষে কয়েকজন এসে আমাকে বলল আমি সাঁতার জানি কি না? আমি জলে নামতে রাজিও হলাম৷ কিন্তু কেন দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কেউ জলে নামছে না সেই প্রশ্নও করেছিলাম৷ দমকলের কাছে লাইফ জ্যাকেট, ক্রেন সবই ছিল৷ ওরা চাইলে নিশ্চিত ভাবে ওই যুবককে বাঁচাতে পারত৷’
দেশের সব লেটেস্ট খবর ( National News in Bengali ) এবং বিদেশের সব খবর ( World News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Jan 18, 2026 6:43 PM IST









