Nusrat and Nikhil : বিয়ে নথিভুক্ত করানোর জন্য আমার অনুরোধ বার বার এড়িয়ে গিয়েছেন নুসরত : নিখিল

নুসরত ও নিখিল, ফাইল ছবি

নিখিলের দাবি, বিবাহিত জীবন নিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে যে ক্রমাগত বিদ্ধ করা হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতেই এই পাল্টা উত্তর ৷

  • Share this:

কলকাতা :  ‘নিখিলের (Nikhil Jain) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়নি’ ৷ নুসরত জাহানের (Nusrat Jahan) এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা তুঙ্গে ৷ এ বার তাঁর বিবৃতির উত্তরে পাল্টা জবাব দিলেন নিখিল জৈন ৷ দীর্ঘ সেই লিখিত  বয়ানে ধাপে ধাপে সাজানো আছে তাঁদের সম্পর্কের ঘটনাক্রম ৷ নিখিলের দাবি, বিবাহিত জীবন নিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে যে ক্রমাগত বিদ্ধ করা হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতেই এই পাল্টা উত্তর ৷

শিল্পপতি নিখিলের দাবি-

# প্রেমে পড়ে আমিই নুসরতকে বিয়ের প্রস্তাব দিই ৷ আমার সেই প্রস্তাব খুশি মনে গ্রহণ করেছিলেন নুসরত ৷ ২০১৯-এর জুনে তুরস্কের বোদরুমে আমরা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করি ৷ পরে রিসেপশন হয়েছিল কলকাতায়৷

# স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করেছি আমরা ৷ সমাজের কাছে নিজেদের পরিচয়ও দিয়েছি দম্পতি হিসেবেই ৷ একজন বিশ্বস্ত ও দায়িত্ববান স্বামীর ভূমিকা পালনের জন্য আমি আমার সময় এবং সামর্থ্য উৎসর্গ করেছি ৷ বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং ঘনিষ্ঠরা সকলে জানেন আমি নুসরতের জন্য কী কী করেছি ৷ তাঁর প্রতি আমার নিঃশর্ত সমর্থন ছিল প্রশ্নাতীত ৷ কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের বিবাহিত জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পাল্টে যায়৷

# ২০২০-র অগস্ট থেকে একটি ছবির শ্যুটিং চলাকালীন আমার স্ত্রীর আচরণ পরিবর্তিত হতে শুরু করে ৷ তার কারণ উনিই সবথেকে ভাল জানেন ৷

# একসঙ্গে থাকার সময় আমি বহু বার নুসরতকে অনুরোধ করি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বা নথিভুক্ত করানোর জন্য ৷ কিন্তু এ বিষয়ে আমার অনুরোধ উনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন ৷

# গত বছর ৫ নভেম্বর ফ্ল্যাট ছেড়ে উনি চলে যান ৷ ওঁর নিজের মূল্যবান জিনিস, কাগজপত্র ও নথি-সহ অন্যান্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যান ৷ নুসরত এর পর তাঁর বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন ৷ এই ঘটনার পর থেকে আমরা এক বারের জন্যও স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাস করিনি ৷ তাঁর অন্যান্য জিনিসও কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ৷ তার মধ্যে ছিল তাঁর আয়কর দাখিলের কাগজপত্রও ৷

# বাইরে তাঁর বিবিধ কার্যকলাপ সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমার হৃদয়ভঙ্গ হয়েছে ৷ আমার নিজেকে প্রতারিত বলে মনে হতে থাকে ৷ শেষে ৮ মার্চ, ২০২১-এ আমি আলিপুর আদালতে নুরসতের বিরুদ্ধে সিভিল স্যুট দায়ের করি ৷

# যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন, আমি আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থেকেছি ৷ এমনকি, আজও আমাদের সম্পর্কের ছন্দপতনের সব কারণ নিয়ে বিশদে কিছু বলতে আমি অপারগ ৷ কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক বিবৃতি আমায় বাধ্য করেছে কিছু তথ্য প্রকাশের জন্য ৷

# বিয়ের পর নুসরতের উপর থেকে বিপুল গৃহঋণের বোঝা কমানোর জন্য পদক্ষেপ করি ৷ ওই ঋণের সমপরিমাণ অর্থ আমি আমাদের পারিবারিক অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠাই নুসরতের অ্যাকাউন্টে ৷ ভেবেছিলাম, যখন ওঁর হাতে অর্থাগম হবে, ওই টাকা আবার কিস্তিতে কিস্তিতে আমাদের পারিবারিক অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেবেন ৷ ওঁর অ্যাকাউন্ট থেকে যে অর্থ আমাদের পারিবারিক অ্যাকাউন্টে এসেছে, তা সবই আসলে ওই ঋণের পরিশোধ, যা আমি তাঁকে বিশ্বাস করে দিয়েছিলাম ৷ বেশ বড় অঙ্কের অর্থ এখনও শোধ করা বাকি রয়েছে ৷ উনি যা অভিযোগ করেছেন, তা সবই ভিত্তিহীন, নিম্নরুচির এবং অসত্য ৷ আমার দাবির পিছনে কাউকে কোনও প্রমাণ খুঁজতে বা প্রমাণ তৈরি করতে হবে না ৷ কারণ আমার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্টই হাজির আছে প্রমাণস্বরূপ ৷ সে সব যথেষ্ট মজবুত প্রমাণ ৷ আমার পরিবার দু’ হাত প্রসারিত করে ওঁকে গ্রহণ করেছিল বাড়ির মেয়ে হিসেবে ৷ জানতে পারিনি, একদিন আমাদের এই দিনও দেখতে হবে ৷

# এই সমস্যাটি ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত এবং এখনও বিচারাধীন ৷ তাই সংবাদমাধ্যমকে আমি অনুরোধ করব এই পরিস্থিতিতে কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে ৷

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই বিবৃতি দেন নিখিল ৷ এর প্রেক্ষিতে নুসরত জাহান এথনও মুখ খোলেননি ৷

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: