Home /News /national /
West Nile Fever in India: ভারতে পশ্চিমী নীল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু! জানুন মশাবাহিত এই নয়া ভাইরাসের উপসর্গ

West Nile Fever in India: ভারতে পশ্চিমী নীল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু! জানুন মশাবাহিত এই নয়া ভাইরাসের উপসর্গ

West Nile Virus Culex Mosquito

West Nile Virus Culex Mosquito

West Nile Virus Symptoms: প্রায় ৮০ শতাংশ সংক্রামিতেরই দেহে কোনও উপসর্গ দেখা যায় না এবং যাদের WNV আছে তাঁরা অসুস্থও বোধ করেন না।

  • Share this:

    West Nile Virus: ত্রিশুর জেলায় পশ্চিমী নীল জ্বর বা West Nile Virus-এ আক্রান্ত হয়ে রবিবার মৃত্যু হল ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির! এই মৃত্যুর পরেই কেরল জুড়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত তিন বছরে মশাবাহিত রোগের কারণে এটি রাজ্যে প্রথম মৃত্যু। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে মশার প্রজনন স্থানগুলিকে নির্মূল করার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার।

    কী এই West Nile Virus (WNV) বা পশ্চিমী নীল জ্বর?

    কেরলের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পশ্চিমী নীল জ্বর বা West Nile Virus কিউলেক্স প্রজাতির মশা দ্বারা ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এটি মানুষের মারাত্মক স্নায়বিক রোগের কারণ হতে পারে, তবে বেশিরভাগ সংক্রামিতেরই দেহে কোনও লক্ষণ দেখা যাবে না। এটি মূলত সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানিয়েছে, West Nile Virus মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত রোগের প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পাখিরা West Nile Virus-এর প্রাকৃতিক বাহক। ভাইরাসটি পাখি এবং মশার মাধ্যমে ছড়ালেও মানুষ, ঘোড়া এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী সংক্রামিত হতে পারে।

    আরও পড়ুন- জানেন, আপনি কীভাবে মোবাইল ফোন ধরেন তাই বলে দিতে পারে আপনি কেমন মানুষ?

    অঙ্গ প্রতিস্থাপন, রক্ত ​​সঞ্চালন এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রান্সপ্ল্যাসেন্টাল (মা থেকে সন্তানের) West Nile Virus সংক্রমণের একটি ঘটনাও দেখা গিয়েছে, জানিয়েছে WHO।

    কিন্তু নৈমিত্তিক যোগাযোগের মধ্যে থাকা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ এখনও ঘটেছে বলে  জানা যায়নি।

    উপসর্গ কী?

    কেরলের আক্রান্ত ব্যক্তি ১৭ মে জ্বর এবং অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন, তাঁকে ত্রিশুরের সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় যেখানে তার পশ্চিমী নীল জ্বর ধরা পড়ে। কিন্তু, প্রায় ৮০ শতাংশ সংক্রামিতেরই দেহে কোনও উপসর্গ দেখা যায় না এবং যাদের WNV আছে তাঁরা অসুস্থও বোধ করেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব, মাঝে মাঝে ত্বকে ফুসকুড়ি এবং লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, প্রবল জ্বর, ঘাড় শক্ত হওয়া, মূঢ়তা, বিভ্রান্তি, কোমা, কম্পন, খিঁচুনি, পেশীর দুর্বলতা এবং পক্ষাঘাত। সাধারণত ৩ থেকে ১৪ দিন স্থায়ী হয় এই লক্ষণগুলি।

    আক্রান্ত ১৫০ জনের মধ্যে মাত্র একজন গুরুতরভাবে ভুগতে পারেন। WNV যেকোনও বয়সের মানুষের গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

    আরও পড়ুন- নিয়মিত ধূমপান? নিজের যৌন জীবনে কী কী চরম ক্ষতি ডেকে আনছেন দেখুন

    কীভাবে প্রথম নজরে আসে এই রোগ?

    কেরলের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৩৭ সালে উগান্ডার একজন মহিলার মধ্যে ভেক্টর-বাহিত রোগটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল। ইজরায়েলে এনসেফালাইটিস এবং পক্ষাঘাতের লক্ষণ সহ আরও মারাত্মক স্ট্রেন বিভিন্ন পাখির প্রজাতির মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

    WNV-এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলি কী কী?

    মানুষের ক্ষেত্রে WNV প্রতিরোধ করার জন্য কোনও টিকা বা ওষুধ নেই। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সচেতনতার মাধ্যমেই ভাইরাসের ঝুঁকি এবং সংক্রমণ কমাতে পারে। মশার প্রজনন স্থান নির্মূল করে, আশেপাশের জমে থাকা ড্রেন ও জল পরিষ্কার করে মশার সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। মশারি ব্যবহারে জনগণকে সচেতন করতে হবে। হালকা রঙের পোশাক, লম্বা-হাতা জামা ও প্যান্ট পরার মাধ্যমে মশার কামড় প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

    Published by:Madhurima Dutta
    First published:

    পরবর্তী খবর