Mehul Choksi: ভারত না অ্যান্টিগা, চোকসি এখন কোন দেশের নাগরিক? কী বলছে আইন?

মেহুল চোকসি৷

চোকসির আইনজীবী বিজয় আগরওয়াল দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে চোকসি (Mehul Choksi) অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব পেয়েছেন৷ ফলে সেই সময় থেকেই তিনি আর ভারতীয় নাগরিক নন৷

  • Share this:

    #দিল্লি: ভারত নাকি অ্যান্টিগা- কোন দেশের নাগরিক মেহুল চোকসি? তার উপরই নির্ভর করছে তাঁর ভারতে প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা৷ কারণ পলাতক এই হিরে ব্যবসায়ী ২০১৮ সালে অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন৷ সেই কারণেই অ্যান্টিগার আদালতে ভারত প্রমাণের চেষ্টা করবে যে মেহুল চোকসি আসলে এ দেশেরই নাগরিক৷

    ইতিমধ্যেই ডমিনিকা থেকে মেহুল সরকারকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য আট জনের বিশেষ দল পাঠিয়েছে ভারত৷ ডমিনিকা হাইকোর্টে আজই মেহুল চোকসির বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা৷ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চোকসিকে ডমিনিকা থেকে অন্য কোনও দেশে পাঠানোর উপরে স্থগিতাদেশও জারি করেছে সেদেশের আদালত৷

    চোকসির আইনজীবী বিজয় আগরওয়াল দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে চোকসি অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব পেয়েছেন৷ ফলে সেই সময় থেকেই তিনি আর ভারতীয় নাগরিক নন৷ নিজের দাবির স্বপক্ষে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদকে সামনে এনেছেন তিনি৷

    নাগরিকত্ব বাতিল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আইনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'কোনও ভারতীয় নাগরিক যদি স্বাভাবিক ভাবে, নথিভুক্তির মাধ্যমে অথবা স্বেচ্ছায় অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ভারতীয় নাগরিক থাকবেন না৷' যদিও নাগরিকত্ব বাতিলের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি শর্ত আছে৷

    নাগরিকত্ব আইনের ওই অনুচ্ছেদেই এর ব্যতিক্রম রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ আইনজীবী স্বপ্নিল কোঠারী৷ তিনি বলেন, '১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে এটাও বলা আছে কখন, কোন পদ্ধতিতে এবং কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তা যাচাই করে দেখার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের৷'

    ওই আইনজীবীর আরও দাবি, নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর উপধারায় বলা আছে, ফৌজদারী মামলা চলছে এমন কোনও ব্যক্তি যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে কেন তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে চাইছেন৷ সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে৷ তার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তারা৷

    নীরব মোদি এবং মেহুল চোকসি দু' জনেই ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত থেকে পালিয়ে যান৷ দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে ভুয়ো নথি দেখিয়ে ১৩,৬০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে৷ এই মুহূর্তে নীরব মোদি ব্রিটেনের জেলে রয়েছেন৷ তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তাই নিয়ে সেদেশে মামলা চলছে৷ অন্যদিকে চোকসি অ্যান্টিগায় গিয়ে সেদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন৷

    চোকসির তরফে দাবি করা হচ্ছে, ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার অনেক আগেই ২০১৭ সালে তিনি অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন৷ ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়৷ ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি সিবিআই প্রথম চোকসির বিরুদ্ধে ২৮০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে প্রথম ফৌজদারি মামলা দায়ের করে৷ ৩১ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷

    ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে দেন চোকসি৷ ততদিনে অবশ্য মেহুল চোকসি এবং নীরব মোদির বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক প্রতারণার একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে আরও মামলা৷

    স্বভাবতই এমন গুরুতর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত চোকসি চাইলেও তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করবে না ভারত৷ আইনজীবী স্বপ্নিল কোঠারী বলেন, 'চোকসি পালিয়ে গিয়েছেন এবং সম্ভাব্য অপরাধী৷ ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল না করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং চোকসিকে ভারতীয় আইন অনুযায়ী তিনি জবাবদিহি করতে বাধ্য৷'

    পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইনে ১৮ নম্বর ধারাতেও কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে৷ এই আইনবলেই ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পদ্ধতি মসৃণ করতে ৪৩টি বিধি কার্যকর করে৷ যার মধ্যে ২৩ নম্বর বিধিতে স্পষ্ট করে বলা আছে যে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের আগে আবেদনকারীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে কোন পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে চাইছেন৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: