মধ্যপ্রাচ্যের আঁচ পড়েছে ভারতে! চারদিকে গ্যাসের জন্য হাহাকার! ভারত-সহ পশ্চিমবঙ্গে। নানা জায়গায় গ্যাসের অফিসের বাইরে লম্বা লাইন। অভিযোগ ফোনে বুক করা যাচ্ছে না। বুক করলেও মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বাড়তি সিলিন্ডার বুক করে রাখছেন ভয়ে! শুক্রবার সরকারের তরফে জানানো হল, 'প্যানিক বায়িং' নয়, দেশে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক-ই আছে।
No need for panic buying of fuel, LPG supply to households uninterrupted despite concerns: Govt
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ, তার প্রভাব পড়ছে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে ভারতে। রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার। লম্বা লাইন। ভিড়ে ভিড়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ ভারত-সহ পশ্চিমবঙ্গে। নানা জায়গায় গ্যাসের অফিসের বাইরে লম্বা লাইন। অভিযোগ ফোনে বুক করা যাচ্ছে না। বুক করলেও মিলছে না। অভিযোগ, কোথাও বুকিংয়ের পরেও মিলছে না রান্নার গ্যাস। কোথাও আবার বুকিং নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি। গ্যাস না থাকলে রান্না হবে কীভাবে। খাবেন কী। এই দুশ্চিন্তায় নানা জায়গায় গ্যাসের অফিসের সামনে লম্বা লাইন।
কিন্তু শুক্রবার কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। জ্বালানি বা এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে ‘প্যানিক’ করতে হবে না। বাড়তি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করে রাখারও প্রয়োজন নেই। সরকার আশ্বস্ত করেছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সমস্ত রিফাইনারি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের মজুতও রয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৫ মার্চ থেকে দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
advertisement
#WATCH | Delhi: Sujata Sharma, Joint Secretary (Marketing & Oil Refinery), Ministry of Petroleum & Natural Gas, says, “As far as crude oil is concerned, we possess a refining capacity of 258 million metric tons. We are self-sufficient in the production of petrol and diesel;… pic.twitter.com/0t8hUXUjWL
শুক্রবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, “অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে আমাদের মোট শোধন ক্ষমতা ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদনে আমরা সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এই জ্বালানি দু’টি আমদানি করার কোনও প্রয়োজন ভারতের নেই।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের সব রিফাইনারিই ১০০ শতাংশ বা তারও বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে, “রিফাইনারিগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে জ্বালানির সরবরাহও বজায় রাখা হচ্ছে।” গৃহস্থালির জন্য পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) এবং যানবাহনের জন্য কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG)-এর সরবরাহও কোনও ধরনের বাধা বা কাটছাঁট ছাড়াই নিশ্চিত করা হচ্ছে। সুজাতা শর্মা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই!” দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সারা দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।
advertisement
তবে তিনি স্বীকার করেন, এলপিজি সরবরাহ কিছুটা উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবুও তিনি আশ্বাস দেন, গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কে পড়ে বাড়তি গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং না করার আবেদন জানান। বুকিং না করার আহ্বান জানান।
#WATCH | Delhi: Sujata Sharma, Joint Secretary (Marketing & Oil Refinery), Ministry of Petroleum & Natural Gas, says, “Petrol and diesel are available in adequate quantities at all petrol pumps… Regarding LPG, I would like to state that this remains a matter of concern for us.… pic.twitter.com/eThJxHWDir
শুক্রবারের সংবাদিক সম্মেলনে সুজাতা শর্মা বলেন, ” বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের ২৫ হাজার ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে কোথাও গ্যাস সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ার (ড্রাই-আউট) ঘটনা ঘটেনি। তাই সকল দেশবাসীর কাছে আমার আবেদন, গুজবে কান দেবেন না এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুকিং করবেন না।” তিনি আরও জানান, গত ৫ মার্চ থেকে দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে যেখানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৫.৭ লক্ষ বুকিং হত, সেখানে এখন তা বেড়ে ৭৫.৭ লক্ষে পৌঁছেছে। ফলে এটা স্পষ্ট, মানুষ প্যানিকং করে বাড়তি গ্যাস বুক করছেন।
advertisement
সুজাতা শর্মা বলেন,রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি জেলায় কেরোসিন বিতরণের জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে কেন্দ্র সরকারের নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত যে ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে বিতরণের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।