• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • EXCLUSIVE: বাংলা নির্বাচন থেকে শুরু করে এক দেশ-এক নির্বাচন, জেনে নিন কী বললেন CEC সুনীল অরোরা

EXCLUSIVE: বাংলা নির্বাচন থেকে শুরু করে এক দেশ-এক নির্বাচন, জেনে নিন কী বললেন CEC সুনীল অরোরা

নিউজ ১৮ ইন্ডিয়ায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার সুনীল অরোরা

নিউজ ১৮ ইন্ডিয়ায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার সুনীল অরোরা

নিউজ ১৮ ইন্ডিয়ায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার সুনীল অরোরা

  • Share this:

    Niraj Kumar

    #নয়াদিল্লি: করোনা (Coronavirus) এখনও বিদায় নেয়নি। তার মাঝেই সামনের বছর পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন। এ দিকে বাংলার রাজনীতিতে ধীরে ধীরে জাঁকিয়ে বসছে গেরুয়া শিবির। শাসকদল থেকে নেতা-কর্মীদের দল বদলের ধারাও অব্যাহত। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক হিংসাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিধানসভার আসন দখল করতে তৎপর বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দুই দলই। এই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হিংসা ও করোনার মাঝে বাংলায় কী ভাবে সম্পূর্ণ হবে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন? জেনে নিন, কী বলছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার সুনীল অরোরা।

    করোনা পরিস্থিতিতে কি নির্বাচন সম্ভব হবে? করোনার মাঝেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এখনও সংক্রমণ জারি। এই পরিস্থিতিতে পরের বছর পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে করোনার কথা মাথায় রেখে পাঁচ রাজ্যে কী ভাবে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি?

    সুনীল অরোরা: এই নিয়ে একাধিক সমীক্ষা চলছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের CBSC-এর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন আমাদের সেক্রেটারি জেনেরাল। স্কুল-কলেজের পরীক্ষার তারিখ নিয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার প্রথমে রাজ্য পরিদর্শন করবেন। অন্য দিকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক উমেশ সিনহা তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি পরিদর্শনে যাবেন। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।

    নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এ বার রাজনৈতিক লড়াইও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগেও বিজেপি সভাপতির গাড়ির উপরে হামলা চালানো হয়েছিল। নির্বাচনের সময়ে সেনা মোতায়েন, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ-সহ একাধিক বিষয় নিয়েই মুখিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। কী বলবেন আপনি?

    সুনীল অরোরা: অনেক সময়ে রাজনৈতিক ইস্যুগুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। নানা ভাবে খবরের শিরোনামে উঠে আসে ইস্যুগুলি। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত নির্বাচন কমিশন। বিজেপির প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন। নির্বাচন কমিশন যে রাজ্য পরিদর্শন করবে, তাঁদের সেই সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে DEC-থেকে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট পাওয়ার পরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আপনার কি মনে হয়, নির্বাচনের সময়ে বাংলায় কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটবে না?

    সুনীল অরোরা: কোনও কিছু গ্যারান্টি দিতে পারছি না আমরা। তবে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার চেষ্টা করা হবে। এই পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সমস্ত প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। ভবিষ্যতেও সফল হবে বলে আশা করছি।

    আপনি বলেছিলেন, বাংলা থেকে রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে...

    সুনীল অরোরা : নির্বাচন কমিশনের পুরো টিম পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্য রাজ্যগুলি পরিদর্শন করবে। যাঁরা রাজ্যগুলি ঘুরে দেখবেন, তাঁদের রিপোর্ট খুব উল্লেখযোগ্য। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক হবে। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্যগুলির পরিস্থিতি নিয়ে আপনাদের থেকেও বেশি চিন্তিত আমরা। সর্বত্র নজর রাখা হয়েছে।

    ক'টি পর্যায়ে নির্বাচন হবে এবং কবে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে?

    সুনীল অরোরা : একটি সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে। সেখানে আপনাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেখানেই সমস্ত কিছু বিস্তারিত জানানো হবে।

    মধ্যপ্রদেশে লোকসভা নির্বাচনের সময় CBDT রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আপনার মতে, এই পদক্ষেপের ভিত্তি কী ছিল?

    সুনীল অরোরা: CBDT রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য ছিল। এটি কারও সঙ্গে শেয়ারও করা হয়নি। আমাদের বৈঠকে এই CBDT রিপোর্ট নিয়ে বিশদে আলোচনা করা হয়। বৈঠকেই CBI তদন্তের জন্য DOPT-এর কাছে রিপোর্ট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, মধ্যপ্রদেশের চিফ ইলেকশন অফিসারের কাছেও পাঠানো হবে রিপোর্ট। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলির নাম নিইনি আমরা।

    এই ইস্যুতে কি অন্য কোনও পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন? ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে কি?

    সুনীল অরোরা: রিপোর্টটি নিয়ে এখনও বিশদে আলোচনা চলছে। ঘটনার সাপলিমেন্টারি রিপোর্টগুলিও ২০০-২৫০ পাতা পর্যন্ত দীর্ঘ। তবে পুরো বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন। এটুকু বলতে পারি- আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধেও কি কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

    সুনীল অরোরা: আপাতত কোনও ইচ্ছা নেই। তবে পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন।

    জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতির পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে কতটা আশাবাদী?

    সুনীল অরোরা : জম্মু ও কাশ্মীর এবং আরও বেশ কয়েকটি এলাকাতেই লোকসভা নির্বাচন পরিচালনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়েও নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়েছে। যখন নির্বাচন কমিশনকে কোনও দায়ভার দেওয়া হয়, তখন তা পালন করা থেকে পিছু হটে না কমিশন। ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালন থেকে পিছু হটবে না কমিশন।

    এক দেশ এক নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে এখন আর কোনও আলোচনার প্রয়োজন নেই। এটি এখন দেশের প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মর্মে পদক্ষেপের জন্য কতটা প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন?

    সুনীল অরোরা: আমরা তৈরি। যদি প্রশাসন সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, তা হলে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুত।

    NRI ভোটারদের নিয়ে আইন মন্ত্রকে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন আপনি। পোস্টাল ব্যালট নিয়েও বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলছে। তা হলে কি আগামী বছর পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের অধিকার পেতে চলেছেন NRI-রা?

    সুনীল অরোরা: ২০১১ সালে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনই এ নিয়ে ভাবা খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। আমরা বিদেশ মন্ত্রকে চিঠি পাাঠিয়েছি। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি আলোচনা হবে। যদি আগামী বছর এই বিষয়টি লাগু হয়ে যায়, তা হলে তো ভালোই হবে। তবে কোনও বিশেষ দেশের NRI-দের সুবিধা দেওয়ার যে খবর প্রকাশ্যে এসেছে, তা মিথ্যা। আমাদের কাছে, সমস্ত দেশের NRI সমান। তারা আমাদের দেশেরই নাগরিক। আপাতত, বিদেশ ও আইন মন্ত্রকের তরফে যথাযথ পদক্ষেপের অপেক্ষা। তার পরই কাজ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন।

    ভোটার কার্ড ডিজিটাইজেশন কী পরিস্থিতিতে রয়েছে? এখনও কি প্রস্তাবের পর্যায়ে আটকে রয়েছে পুরো বিষয়টি?

    সুনীল অরোরা: না, প্রস্তাবের পর্যায়ে নেই বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় এখনও বিবেচনাধীন। আসলে শিক্ষিত ও যুবক ভোটারদের জন্য অর্থপূর্ণ ডিজিটাল কার্ড। এ ক্ষেত্রে কার্ডে একটি বার কোড ও QR কোড থাকবে, যা সমস্ত তথ্য বহন করবে। তবে আগামী অর্থবর্ষ বা এই অর্থবর্ষের শেষের দিকেই শুরু হতে পারে এই কাজ। আমাদের উদ্দেশ্য, সবাইকে এই পরিষেবা দেওয়া। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

    পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন কমিশন কী কী পদক্ষেপ করছে, মানুষজন তা দেখছেন। আর এই মুহূর্তে বাংলার দিকেই সমস্ত নজর। কী বলবেন?

    সুনীল অরোরা : আমরা করোনা পরিস্থিতির শিকার। নির্বাচন প্রক্রিয়া চলার সময় যে কেউ করোনা-আক্রান্ত হতে পারেন। সংক্রমিত না হওয়ার বিষয়টি তো আর নির্বাচন কমিশন সুনিশ্চিত করতে পারবে না। তাই একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন। বিহারে নির্দিষ্ট নিয়মবিধি মেনে ভোট হয়েছে। মানুষজনকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। তবে বিহারের মানুষকে ধন্যবাদ। প্রত্যেকে সচেতন ভাবে ভোটদানে অংশ নিয়েছেন। সর্বোপরি স্থানীয় প্রশাসনগুলি দারুণ কাজ করেছে।

    আগামী বছর যে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন হবে, সেখানেও একই ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করার চেষ্টা করবে নির্বাচন কমিশন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, এখনই পশ্চিমবঙ্গে প্যারা-মিলিটারি ফোর্স মোতায়েনের কোনও ক্ষমতা নেই নির্বাচন কমিশনের। কী বলবেন?

    সুনীল অরোরা : রাজনৈতিক নেতাদের বিবৃতির উপরে কোনও মন্তব্য করতে চাই না!

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: