দেশ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

Mumbai 26/11: 'বলল ফিরতে দেরি হবে, তারপর আর ফোন আসেনি...'

Mumbai 26/11: 'বলল ফিরতে দেরি হবে, তারপর আর ফোন আসেনি...'
নিজস্ব চিত্র

১০ বছর আগের সেই স্মৃতি আজও টাটকা মণীশার কাছে৷ এখনও সেই রাতের কথা উঠলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন৷ চোখেমুখে আতঙ্ক বেশ স্পষ্ট৷ মণীশার স্বামী ছিলেন মুম্বই পুলিশের কনস্টেবল ও ২৬/ ১১ মুম্বই হামলায় শহিদ অফিসার বিজয় সালাসকারের ড্রাইভার৷

  • Share this:

মধুরা নেরুকার

সে দিন রাতে তিন কন্যাকে নিয়ে একাই বাড়িতে ছিলেন মণীশা চিত্তে৷ আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ঢুকবেন৷ রোজ এই সময়েই আসেন৷ মেয়েরা পড়ছে৷ মণীশা টিভি দেখছেন৷ ফোন বাজল৷ মণীশাই ধরেন ফোনটি৷ ওপার থেকে, 'ডিউটি শেষ৷ কিন্ত‌ু বসের সঙ্গে আরও কিছু ক্ষণ থাকতে হবে৷ মুম্বইয়ে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে৷' মণীশা খানিক হতাশ গলায়, 'সাবধানে থেকো৷ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করো৷' ওটাই ছিল মণীশার স্বামীর শেষ ফোন৷ আর গলা শুনতে পাননি৷ পাবেনও না কোনও দিন৷\

আরও পড়ুন: হাসপাতালে হেডলি, বেধড়ক মারে মৃত্যুমুখে মুম্বই হামলার 'হোতা'

১০ বছর আগের সেই স্মৃতি আজও টাটকা মণীশার কাছে৷ এখনও সেই রাতের কথা উঠলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন৷ চোখেমুখে আতঙ্ক বেশ স্পষ্ট৷ মণীশার স্বামী ছিলেন মুম্বই পুলিশের কনস্টেবল ও ২৬/ ১১ মুম্বই হামলায় শহিদ অফিসার বিজয় সালাসকারের ড্রাইভার৷

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ডিউটি ওভার হওয়ার পর সালাসকারের থেকে ফোন পান তিনি৷ জাস্ট অফিস থেকে বেরবেন, সেই সময়৷ বিজয় সালাসকারকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তাজ হোটেলের উদ্দেশ্যে৷ সে দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখার জন্য গিয়েছিলেন সালাসকার৷ ওই রাতেই জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হন অরুণ৷

মণীশার কথায়, 'সালাসকার সাহেবের সঙ্গে যাওয়ার আগেই আমায় ফোন করেছিল৷ বলেছিল, মুম্বইয়ে হামলা হয়েছে৷ আমি যাচ্ছি সালাসকার সাহেবের সঙ্গে৷' সে দিন রাতেই শহিদ হন বিজয় সালাসকার, অশোক কামতে ও হেমন্ত কারকারে৷ শহিদ হন সালাসকারের ড্রাইভার অরুণ চিত্তেও৷ ২০০৮ সালে অরুণের বড় মেয়ের বয়স ছিল ৮ বছর৷ মেজ মেয়ে ৭ ও ছোট মেয়ের বয়স ৪৷ ওরা জেনেছিল, ওদের বাবা আর নেই৷ কিন্ত‌ু কী ভাবে মারা গেলেন, তা বুঝতে পারেনি শিশুমন৷

ধারাভি পুলিশ কলোনির বাসিন্দা মণীশার কথায়, 'আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না, অরুণ আমাদের সঙ্গে নেই৷ আমার মেয়েরা তখন খুব ছোট ছিল৷ হঠাত্‍‌ পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল৷ আমাদের আত্মীয়রা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷ তাঁদের জন্যই, আজ আমি বেঁচে আছি৷ প্রথম প্রথম ওঁকে খুব মিস করতাম৷ তারপর বুঝলাম, মেয়েদের বড় করতে গেলে, আমাকে লড়াই করতেই হবে জীবনযুদ্ধে৷ আজ ১০টা বছর কেটে গেল৷ মেয়েরা বড় হয়েছে৷ কঠিন জীবনটা খানিক সরল হয়েছে৷ কিন্ত‌ু একটা দিনও এমন যায়নি, যে দিন অরুণকে মনে করিনি৷ যখনই আমরা ৪ জনে খুব আনন্দ করি, অরুণ যেন আমাদের সঙ্গে হেসে ওঠে৷'

ধাক্কা খেতে খেতে মণীশা এখন শক্ত হয়ে গিয়েছে৷ সরকারি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন৷ মনের সেই খালি জায়গাটা আজও পূরণ হয়নি৷ ১০ বছর পরেও৷

First published: November 26, 2018, 9:02 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर