Malda: শুধুমাত্র কলাইয়ের ডালের গুঁড়ো দিয়েই তৈরি এই জিলাপি
- Published by:Soumabrata Ghosh
Last Updated:
মিষ্টি সুস্বাদের মচমচে জিলাপি।কোন রং বা ভ্যাজাল নেয়। শুধু মাত্র কলাই ডালের গুঁড়ো মিশ্রণ। আর তাতেই খাদ্য রসিকদের মন জয় করে নিয়েছে কলাই ডালের জিলাপি।
মালদহ: মিষ্টি সুস্বাদের মচমচে জিলাপি। কোন রং বা ভ্যাজাল নেয়। শুধু মাত্র কলাই ডালের গুঁড়ো মিশ্রণ। আর তাতেই খাদ্য রসিকদের মন জয় করে নিয়েছে কলাই ডালের জিলাপি। এখনো দোকানে এই জিলিপি তৈরি হলে নিমেষে শেষ হয়ে যায়। মালদহের মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর লালবাধানি গ্রামেই এখন পাওয়া যায় এই মিষ্টান্ন। তবে মানিকচকের কলাই ডালের জিলাপি একসময় জেলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাঁটা পড়েছে এই ঐতিহ্যে। রং আর কেমিক্যাল ব্যবহারে হারিয়ে যাচ্ছে আসল কলাই ডালের জিলিপির স্বাদ। তবে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যপূর্ণ এই মিষ্টির রেসিপি ধরে রেখেছেন মানিকচকের লালবাথানি গ্রামের মিষ্টান্নশিল্পী সুবল সরকার।ষাটোর্ধ্ব সুবলবাবু এই মিষ্টি তৈরির কৌশল শিখে এসেছিলেন বিহার থেকে।তারপর রাজমহল পেরিয়ে এপারে এসে নিজের ছোট্ট দোকানে দীর্ঘ সময় ধরে একাদিক্রমে এই জিলিপি বানিয়ে আসছেন। প্রতি শনিবার বিকেলে নিয়ম করে বানানো হয় এই বিশেষ জিলিপি।এখন প্রতি শনিবার করে সুবলবাবু কলাই ডালের গুঁড়োর জিলাপি তৈরি করেন। গড়ে ১০-১৫ কেজি কলাইডালের গুঁড়ো লেগে যায়। লালবাথানি ছাড়াও মানিকচক, মধুপুর, ধরমপুর, নুরপুর, এনায়েতপুর, রতুয়া বা বাহারাল থেকেও লোক এসে নিয়ে যায়। একসময় পাইকারেরা কিনে হাটে বিক্রি করতো।রমজান মাসে ইফতারির সময়ও বিক্রি কিছুটা বাড়ে।এখন ১২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।সুবলবাবুর ছেলে সঞ্জয় সরকার বলেন,কলাইয়ের ডাল ভাঙানো থেকে আরম্ভ করে পেষাই করা,মাখা থেকে আরম্ভ করে ভাজার পর রসে ডোবানো-সমস্ত কাজটাই নিজের হাতে বাবা করেন। কোন অন্য লোক রাখা হয় না।এই জিলিপিতে সময়ের হিসেবটাই আসল।আমরা এখন ছেলে হিসাবে হাত লাগাই। মিষ্টির দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছে নতুন প্রজন্ম।কেক পেস্ট্রি বা ফিউশন মিষ্টিতেই মজেছে নতুনেরা। সেখানে তাদের কতটা আকর্ষণ করে এই সাবেক মিষ্টি? স্থানীয় যুবক সুদাম রবিদাস বলেন, আমরা যখন শহরে যাই সে সময় প্রেস্ট্রি, সহ অন্যান্য মিষ্টি খাই।সাথে আরো আধুনিক খাবার আমরা খেয়ে থাকি। তবে আমাদের গ্রামের এই সুস্বাদু জিলাপি আর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই এখনও এই জিলাপির কদর রয়েছে। বাইরে থেকে বহু মানুষ এখানে জিলাপির টানে আসেন।
প্রতিবেদক-হরষিত সিংহ( Harashit Singha)
Location :
First Published :
May 03, 2022 6:47 PM IST









