আফগানিস্তানের থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে, আতঙ্কের সেই দিনগুলি ভুলতে চাইছেন বারুইপুরের দুই বাসিন্দা
- Published by:Ananya Chakraborty
Last Updated:
ভয়ঙ্কর সেই পরিস্থিতির কথা এখন ভুলতে পারছেন না বারুইপুরের দুই বাসিন্দা
রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চারিদিকে তালিবানিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে চাইছে হাজার হাজার মানুষ। ভয়ঙ্কর সেই পরিস্থিতির কথা এখন ভুলতে পারছেন না বারুইপুরের দুই বাসিন্দা। শুধু পেটের টানে সুদূর কাবুলিওয়ালাদের দেশ আফগানিস্তানে পাড়ি দিয়েছিলেন তারা। বারুইপুরের কল্যাণপুরের দুই বাসিন্দা জয় গোমস ও রঞ্জিত গোমস। ২০১৯ সালে কাবুলে গিয়েছিলেন জয় গোমস। তার ঠিক এক বছর পর কল্যাণপুরের অপর এক বাসিন্দা রঞ্জিত গোমসও পাড়ি দেন আফগানিস্তানে। দু'জনেই কাবুলের কাছে বাকরামে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে, সেনাদের জন্য রাঁধুনির কাজে যোগ দেন। বেশ ভালোই চলছিল সেখানে। যদিও পরিস্থিতির বদল ঘটতে শুরু করে মাস তিনেক আগে থেকে। আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই শুরু সমস্যার। মূলত আমেরিকা ও ন্যাটো বাহিনীর ভরসায় আফগানিস্তান আগের মতোন অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছিল। তার মধ্যেই দেড় মাস আগে বাকরাম ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা ফিরে যায়। এরপর, জয় ও রঞ্জিত কাবুলে কোম্পানির হেড অফিসে কাজে যোগ দেন। সময় যত এগোতে থাকে ততই গোটা দেশের দখল নিয়ে নেয় তালিবান বাহিনী।অন্যান্যদের মত তারাও কখনো ভাবেননি আমেরিকার সৈন বাহিনী চলে যেতেই রাতারাতি দেশটিতে আবার তালিবানি শাসন শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু আদপে সেটাই ঘটল। তালিবানদের ক্ষমতা দখল কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হল গোটা আফগানিস্তান জুড়ে। সেই অবস্থায় আর আফগানিস্তানে কাজের পরিবেশ নেই জেনেই কোন ঝুঁকি না নিয়ে, এক প্রকার প্রাণ হাতে নিয়ে কাবুল থেকে দেশে ফিরেছেন জয় ও রঞ্জিত গোমস।
অনেক কাটখড় পুড়িয়ে কয়েকদিন আগে বারুইপুরের বাড়িতে ফেরেন জয় গোমস। যদিও, সেপ্টেম্বরে তার আবার যাওয়ার কথা ছিল কাবুলে। কিন্তু এই অবস্থায় আর ওখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তিনি। এখনো তার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন,'ওখানকার অবস্থা এখন খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছে। ফোনে সেই খবরই পাচ্ছি। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। তাই এখন ওখানে যাবো না।'
advertisement
অন্যদিকে, রঞ্জিত গোমস জানান, 'পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে তিনি যে কোম্পানির হয়ে কাজে গিয়েছিলেন তারাই বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। রীতিমতো প্রাণ হাতে নিয়ে আর্মি ক্যাম্প থেকে বুলেট প্রুফ গাড়িতেই বিমান বন্দরে আসতে হয়েছে। ১৫ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে। রাস্তায় টহল দিচ্ছে তালিবান যোদ্ধারা। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে রাস্তার দু'পাশে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের দৌড়ঝাঁপ। ঘটনার কথা বলতে গিয়ে রীতীমতো শিউরে উঠছেন রঞ্জিত। কাবুল থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতায় ফিরেছেন তিনি। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসায় দুশ্চিন্তা কেটেছে পরিবারের। তবে দুজনই এখন সেই আতঙ্কের স্মৃতি ভোলার চেষ্টা করে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছেন।
advertisement
Location :
First Published :
Aug 24, 2021 10:22 AM IST
বাংলা খবর/ খবর/Local News/
আফগানিস্তানের থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে, আতঙ্কের সেই দিনগুলি ভুলতে চাইছেন বারুইপুরের দুই বাসিন্দা







