Corona Vaccine নেবেন কি না ভাবছেন? তার আগে একবার অবশ্যই জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলি

সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী টিকাদান অভিযান

সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী টিকাদান অভিযান

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকেই বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়েছে ভয়ানক সংক্রামক ভাইরাস SARS COV 2-এর দাপট, যা কোভিড ১৯ (Covid 19) রোগের উৎসস্থল। এই মারণ ভাইরাসের জেরে দেশ জুড়ে মানুষ শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক ভাবে জোর রকম আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে। এই মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেশ কিছু চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর কোনওটাই সঠিক ভাবে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে না। সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী টিকাদান অভিযান।

বর্তমানে আমাদের দেশে দু’ধরণের ভ্যাকসিন রয়েছে, একটি Covaxin এবং অন্যটি Covishield। এই ভ্যাকসিন সম্পর্কিত বহু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিকেত রাই (Niket Rai), MBBS, মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজ (Maulana Azad Medical College) এবং লোকনায়ক হসপিটাল, দিল্লির (Lok Nayak Hospital, Delhi) অ্যাসোসিয়েট।

১. টিকা নেওয়া কি বাধ্যতামূলক?

-কোনও চিকিৎসা বা টিকাদান কখনও বাধ্যতামূলক হয় না। আপনি এটি নেবেন কি না, তা সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত। টিকা গ্রহণের জন্য এই কারণেই সুপারিশ করা হয়, কারণ এটি আপনাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়।

২. কারা টিকা নিতে পারেন?

-১৮ বছরের উর্ধ্বে সকলেই টিকা নিতে পারবেন। যদিও ২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের টিকা প্রদানের জন্য ট্রায়াল চলছে। শীঘ্রই এটি ২ বছরের বেশি বয়সের সকলের জন্য উপলব্ধ হবে।

-গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য ভ্যাকসিন যে সুরক্ষিত তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

-ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, যকৃতের রোগ, থাইরয়েড রোগ, ইমিউনোসপ্রেসিভজনিত অসুস্থতার মতো যে কোনও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন। তবে সেক্ষেত্রে টিকাকরণ কেন্দ্রে তাঁদের রোগ এবং যে ওষুধ তাঁরা গ্রহণ করছেন তার বিস্তারিত জানানো প্রয়োজন।

৩. কারা টিকা নিতে পারবেন না?

-ওষুধ, বিশেষ খাবার বা ভ্যাকসিনে যাঁদের অ্যালার্জি হয় তাঁরা টিকা নিতে পারবেন না।

-প্রথম ডোজ নেওয়ার পর যাঁদের অ্যালার্জি হয়েছে তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন না।

-কাশি, সর্দি, জ্বর ইত্যাদিতে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা গ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়।

-যাঁদের রক্তপাতের কোনও রেকর্ড রয়েছে বা প্লেটলেটের সমস্যা রয়েছে, বা রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাঁদের সতর্কীকরণ মেনে ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন।

৪. কোন ভ্যাকসিন ভালো?

-Covaxin বা Covishield কোনও ভ্যাকসিনই একে অপরের চেয়ে উৎকৃষ্ট নয়। সুতরাং যে কোনও একটি ভ্যাকসিন নেওয়া যেতে পারে।

৫. প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজে কি পৃথক পৃথক ভ্যাকসিন নেওয়া যেতে পারে?

-না। দু'টি পৃথক পৃথক টিকা গ্রহণ করা উচিত নয়।

৬. ভ্যাকসিন নেওয়ার পর আমরা কি গাড়ি চালাতে বা কাজ করতে পারি?

-হ্যাঁ. গাড়ি চালানোর বা মেশিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর সে রকম কোনও প্রভাব নেই।

৭. ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজই কি নেওয়া প্রয়োজন?

-হ্যাঁ। যাঁরা একটি ডোজ পেয়েছেন তাঁদের তুলনায় দু'টি ডোজ প্রাপ্ত মানুষদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

৮. দু'টি ডোজের মধ্যে কতদিনের ব্যবধান থাকা উচিত?

-Covihield: ১২ সপ্তাহ থেকে ১৬ সপ্তাহ

-Covaxin: ২৮ দিন

৯. ভ্যাকসিনের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর দেহে কী পরিবর্তন ঘটে?

-ভ্যাকসিন করোনার ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। এই অ্যান্টিবডিগুলির ঘনত্ব দ্বিতীয় ডোজের পরে বেশি হয় তাই সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম বা সংক্রমণ হলেও ভাইরাল লোড কম হবে।

-মাথা ব্যথা, ক্ষুধা হ্রাস, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, চুলকানি, ফুসকুড়ি, শরীরের ব্যথা, ইনজেকশন নেওয়ার জায়গায় ব্যথা, জ্বর ইত্যাদির মতো হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে এতে চিন্তার কোনও করণ নেই। আপনি চাইলে প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ খেতে পারেন।

১০. সম্পূর্ণ টিকা দেওয়ার পরেও কি মাস্ক পরা প্রয়োজন?

-হ্যাঁ। কোনও টিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ প্রতিরক্ষামূলক নয়। তাই দু'টি টিকা নেওয়ার পরেও মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব, হাত পরিষ্কার করা রাখা সহ সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

১১. কোন ব্যক্তি কোভিড সংক্রমণের পরে ভ্যাকসিন নিতে পারে?

-হ্যাঁ। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওটার পর সকলকে দুটি টিকাই নিতে হবে। যদি করোনা আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রথম ডোজ নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওটার পরেও দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে যদি এখনও অবধি কোনও টিকা না নেওয়া হয়, তবে নতুন নির্দেশিকা অনুসারে করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার ৯০ দিন পর প্রথম ডোজ নিতে পারবে।

১২. ধূমপায়ী এবং মদ্যপায়ীদের ভ্যাকসিন গ্রহণে কি কোনও সমস্যা আছে?

-না, ধূমপায়ী এবং মদ্যপায়ীরাও ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারে। তবে এটি সুপারিশ করা হয় যে, ধূমপান এবং অ্যালকোহল বন্ধ করা উচিত কারণ এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা তাদের বেশি হতে পারে। ধূমপান এবং অ্যালকোহল যেহেতু স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয় তাই এগুলি এড়িয়ে চলা-ই ভালো।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: