শীতের সঙ্গেই হাজির একজিমা, কীভাবে মুক্তি পারবেন জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

শীতের সঙ্গেই হাজির একজিমা, কীভাবে মুক্তি পারবেন জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

চিকিৎসা পরিভাষায় একজিমাকে বলে অ্যটোপিক ডার্মাটাইটিস। পরিবারের কারোর এলার্জিজনিত অ্যাজমা বা হাঁপানির টান থাকলে সেই পরিবারে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

  • Share this:

Abhijit Chanda

#কলকাতা: একজিমা কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই চর্মরোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একজিমা মূলত শুষ্ক ত্বকের সমস্যা। হাতের খাঁজে, গলায় ,ঘাড়ে উচু উচু বাদামি ছোপ রয়েছে, প্রচণ্ড চুলকায়,রক্ত বেরিয়ে যায়। শীতকালের শুকনো,রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়ায় একজিমার সমস্যা বাড়ে। এই একজিমা আসলে এলার্জির কারণে হয়। একজিমা তাদেরই বেশি হয়, যাদের এলার্জিক রাইনাইটিস বা এলার্জি জনিত এজমার ঝোঁক আছে অর্থাৎ যাদের দ্রুত যখন তখন সর্দি, কাশি, হাঁচি হয়। তবে অনেকেরই ভুল ধারণা বা কুসংস্কার রয়েছে, যে একজিমা অত্যন্ত ছোঁয়াচে। ফলে যাদের এই একজিমা হয়, তাদেরকে সমাজে অনেকটাই কুণ্ঠিত থাকতে হয়। তবে ত্বক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, একজিমা ছোঁয়াচে রোগ, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। এলার্জি কখনোই ছোঁয়াচে নয়। বরং সর্দি কাশি হাঁচি অনেক বেশি ছোঁয়াচে।জীবাণুর কারণে হয় বলেই এগুলো ছোঁয়াচে। যাদের ড্রাই স্কিন বা খুব শুকনো চামড়া তাদের ক্ষেত্রে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চিকিৎসা পরিভাষায় একজিমাকে বলে অ্যটোপিক ডার্মাটাইটিস। পরিবারের কারোর এলার্জিজনিত অ্যাজমা বা হাঁপানির টান থাকলে সেই পরিবারে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অর্থাৎ জিনগত কারণে একজিমা হতে পারে। এর সঙ্গে যাদের ড্রাই স্কিন বা শুকনো ত্বক তাদেরও একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারা বিশ্বে পনেরো থেকে কুড়ি শতাংশ শিশু একজিমায় আক্রান্ত।

কলকাতার বিশিষ্ট শিশু ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সন্দীপন ধর বলছেন, একজিমা নিয়ে অকারণে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। কোনভাবেই এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। পুরোপুরি সারিয়ে ফেলা হয়তো যাবেনা, তবে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সহজেই। তবে অনিয়ম করলে এই রোগ সেরে যাওয়ার পর আবার ও ফিরে আসতে পারে। ত্বকে লাগানোর ওষুধ ও খাওয়ার ওষুধ সঙ্গে এন্টি এ্যালার্জিক ওষুধ খেতে হবে। চামড়া যেন শুকনো খসখসে না থাকে। স্নান করার পরই ভালো করে মুছে খাঁটি নারকেল তেল ভাল করে মাখতে হবে। পারলে দিনে বেশ কয়েকবার নারকেল তেল ও ময়েশ্চারাইজার দিয়ে চামড়া নরম রাখতে হবে। কোন রকম সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। ধুলো-ময়লা যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। হাতের নখ কেটে ফাইল দিয়ে ঘষে রাখতে হবে। একজিমা আক্রান্ত জায়গায় নখ লাগালে রক্ত বার হয়ে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। কষ্ট হলেও নখের আঁচড় লাগানো যাবে না।এই সাধারণ নিয়মগুলো মানলেই একজিমা একেবারে জব্দ।

First published: 11:56:06 PM Dec 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर