'ও আমাকে বলে আমার স্তন ছোট' ! অকোপট স্বীকারোক্তি টিনেজারের ! ট্রমা কাটাতে হবে নিজেকেই

'ও আমাকে বলে আমার স্তন ছোট' ! অকোপট স্বীকারোক্তি টিনেজারের ! ট্রমা কাটাতে হবে নিজেকেই

স্রিয়ার এই গল্প খুব সাধারণ নয়। অনেক মেয়েই আছে যারা অল্প বয়সে শরীর নিয়ে কথা শোনে। এই খারাপ কথা গুলো বেশিরভাগটাই আসে বন্ধু এবং পরিবারের কাছ থেকে।

  • RedWomb
  • Last Updated: February 22, 2020, 4:57 PM IST
  • Share this:

#কলকাতা: স্রিয়ার ১৬ বছর বয়সেই প্রথম প্রেমে পড়ে। সে তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে মাইসোরের একটি বোর্ডিং স্কুলে। তখন সে ক্লাস ১১-এ পড়ে। কিন্তু স্কুলের মধ্যে প্রেম করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু তারা লুকিয়ে দেখা করতে শুরু করে। প্রথম প্রথম সব কিছুই ঠিক ছিল। ছেলেটিকে খুব ভাল লাগত স্রিয়ার। কিন্তু আস্তে আস্তে সে অনেক কিছু নিয়েই স্রিয়াকে কষ্ট দিতে শুরু করে। ছেলেটি স্রিয়াকে বলে সে চায় তার প্রেমিকা সুন্দরী হোক। সে স্রিয়াকে ওজন কমানোর জন্য চাপ দিতে শুরু করে। স্রিয়া জানায়, "ও আমাকে বলে আমার স্তনের সাইজ খুব ছোট।" এই কথা শোনার পর থেকে স্রিয়া ভয় পেতে শুরু করে। যদি তার বয়ফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে চলে যায় এই ভয়ে সে ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করে। স্রিয়া জানায়," আমি অনেকটা রোগা হয়ে যাই। কিন্তু সেটাও তার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সে আমার মোটা হাত এবং ফ্ল্যাট বুক নিয়ে টিস করতে থাকে।"

স্রিয়ার এই গল্প খুব সাধারণ নয়। অনেক মেয়েই আছে যারা অল্প বয়সে শরীর নিয়ে কথা শোনে। এই খারাপ কথা গুলো বেশিরভাগটাই আসে বন্ধু এবং পরিবারের কাছ থেকে। এমনকি প্রেমিকও এই ধরণের কুমন্তব্য করে। এই সময় মেয়েরা খুব সেনসেটিভ থাকে তাদের চেহারা নিয়ে। কে কি বলছে সেটা সোজা তাদের মনে গিয়ে আঘাত করে। আর এর জন্য অনেকটাই দায়ি মিডিয়া। তারা সুন্দর মেয়ে বলতে বোঝায় কার্ভি বডি, ফর্সা, লম্বা, সুন্দর, আর লম্বা চুলের লাস্যময়ীকে। কিন্তু আমরা যা দেখি টিভিতে বা মিডিয়াতে তার অনেকটাই ফোটোশপ ও মেক-আপের জন্য হয়। কিন্তু সাধারণ মেয়েদের পক্ষে ওইরকম সুন্দর দেখানো তো সম্ভব নয়। স্রিয়া বিশ্বাস করতে শুরু করে যে সে সুন্দর নয়। মোটা। তার বডিতে কোনও দিনই কার্ভ আসা সম্ভব নয়। স্রিয়া টিভিতে বা সিনেমায় দেখানো মেয়েদের অপছন্দ করতে শুরু করে। "আমি মডেলদের মতো সুন্দরী হতে চাইতাম। আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের কাছে ক্ষমা চাইবো, এবং প্রমিস করবো আমি ঠিক নিজেকে বদলাবো" -এ কথা স্রিয়া ভাবতে থাকে। স্রিয়া নিজেকে সুন্দর করার জন্য খাওয়া কমিয়ে দেয়। জিম করতে থাকে। অনেক সময় খাবার না খেয়েই থাকতে শুরু করে। সে ভাবে এবার তার বয়ফ্রেন্ড শুধু তাকেই ভালবাসবে। কিন্তু না দিনদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। স্রিয়া জানায়, " আমাকে ও বলে আমি এত ক্লান্ত আর ফ্যাকাসে কেন হয়ে যাচ্ছি। এরকম খারাপ দেখতে মেয়েকে সে বিয়ে করবে না।"

চেহারা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে শুরু করে। ভারতীয় সমাজে দাঁড়িয়ে মেয়েরা ভাবতে শুরু করে সুন্দরী না হলে কোনও সম্পর্কই টিকবে না। আমাদের জীবনে ভালবাসা বা প্রেম সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয় সিনেমা দেখেই। আর সিনেমায় দেখানো হয় নায়ক সব সময় সেই মেয়ের প্রেমেই পড়ে, যে লম্বা, রোগা আবার মোহময়ী সুন্দরী। মেয়েদের উপরে চাপ থাকে প্রবল কি করে সুন্দরী হওয়া যায়। সিনেমা হোক, বা মেয়েদের বিয়ের জন্য অ্যাড হোক বা প্রেম সব সময়ই খোঁজা হয় রোগা, ফর্সা, সুন্দরী মেয়ে।

যাইহোক শেষপর্যন্ত স্রিয়া সত্যিকারের অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবং তাকে এক সপ্তাহের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সে আন্ডারোয়েট হয়ে পড়ে, ম্যালনারিশড আবং ইমুউনিটিও একেবারে কমে যায়। স্রিয়া স্বীকার করে, " আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি নিজের শরীরের এই অবস্থা করেছি শুধু মাত্র সুন্দর দেখানোর জন্য।" স্রিয়া ভাবে সে নিশ্চয় এমন কাউকে পাবে যে তাকে সে যেরকম তেমন ভাবেই ভালবাসবে। ভারতের অনেক মেয়েই ঠিক মতো খায় না। শুধু মাত্র সুন্দর দেখানোর জন্য। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য। এর জন্য মেয়েদের নানা রকম অসুখের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু এখান থেকে তো বেড়োতেই হবে। তাই খাওয়া দাওয়া করতেই হবে। আর সেটা হবে যতক্ষণ না মেয়েরা নিজেদের প্রতি ভালবাসা বাড়াচ্ছে। স্রিয়া নিজের স্কুলের পরীক্ষা দিতে পারে না। সে আবার শারীরিকভাবে সুস্থ হতে চেষ্টা করছে। সেই সময় সে একটি আর্টিকাল লেখে ওনলাইনে। সে লেখে, "আমি বুঝতে পেরেছি আমার সুস্থ শরীর ও আর খুশিই আসল। আমি কখনই একজন মডেলের মতো দেখতে হবো না। বেশিরভাগ মেয়েরাই মডেলদের মতো দেখতে হয় না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা সম্পর্কে খুশি হবে না। সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত যেখানে তুমি আনন্দ পাবে।" এর পর স্রিয়া নিজেই তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেক আপ করে নেয়। সুস্থ হওয়ার পর স্রিয়া নিজের প্রতি যত্নশীল হয়ে ওঠে। স্রিয়া এখন তার স্কুল শেষ করে এবং বিএ পড়তে শুরু করে। এরপর স্রিয়া মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শুরু করে। সে বলে, " আমি চাই না আর কোনও মেয়ে আমার মতো সাফার করুক। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কোনও মেয়ে নিজেকে ঘেন্যা করুক চাই না। কাউকে ভালবাসার আগে দরকার নিজেকে ভালবাসার।" একটা ভাল সম্পর্ক কখনই তোমাকে ইনসিকিওর করবে না। তাই তুমি যেমন আছ তেমনই থাক। আর নিজের ইচ্ছে মতো জীবনকে বাঁচো।

First published: February 22, 2020, 4:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर