ছোট থেকে মোবাইল ব্যবহার করা শিশুরা অনেক বেশি তথ্যনির্ভর হয়, দাবি গবেষকদের

ছোট থেকে মোবাইল ব্যবহার করা শিশুরা অনেক বেশি তথ্যনির্ভর হয়, দাবি গবেষকদের

গবেষকদের কথায়, এই বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক প্লাস্টিকের মতো হয়। এই সময়ে তারা যা যা দেখে, পড়ে কিংবা শোনে, তা তাদের চরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে

গবেষকদের কথায়, এই বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক প্লাস্টিকের মতো হয়। এই সময়ে তারা যা যা দেখে, পড়ে কিংবা শোনে, তা তাদের চরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে

  • Share this:

#বুদাপেস্ট: ঘর চলতি কথায় আদরে বাঁদর হয় শিশুরা। তা জেনেও কোন ছোটবেলায় মন ভোলাতে শিশুদের হতে মোবাইল ফোন, ট্যাব ধরিয়ে দেন অভিভাবকরা। অষ্টপ্রহর তাতেই ঢুবে থাকে শৈশব। তা ঠিক না ভুল, সেটা বিচার না করে দেখে নেওয়া যাক মোবাইল ডিভাইজে পারদর্শী শিশুদের কাছে পৃথিবীটা ঠিক কেমন!

সম্প্রতি কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়র শীর্ষক সমীক্ষামূলক লেখায় জানানো হয়েছে, ছোটকাল থেকে মোবাইল ব্যবহার করা শিশুরা অনেক বেশি তথ্যনির্ভর হয়। খুঁটিনাটি বিষয়ের উপরে থাকে তাদের নজর। কোনও ঢাউস ছবি কিংবা চিত্তাকর্ষক প্রেক্ষাপট সেই শিশুদের আকর্ষণ করে না বলেও জানানো হয়েছে। আর বিষয়টা যে মন্দ নয়, তাও জানাতে ভোলেননি গবেষকরা। বক্তব্য, কেবল তথ্যনির্ভর হয়ে পৃথিবী সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেওয়া যায়। যে সব প্রি-স্কুলার্সরা মোবাইল ডিভাইজ ব্যবহার করে তাদের কাছে তথ্যনির্ভর শর্ট টার্ম গেম বেশি প্রভাব ফেলে বলে দাবি গবেষকদের।

প্রি-স্কুলার্সদের নিয়ে সমীক্ষাটি করেছেন হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের ইয়টভোস লোরান্ড ইউনিভার্সিটির বা ELTE-র গবেষকরা। তাঁদের কথায়, মোবইলে গেম খেলা শিশুরা ভাবনায় অন্যান্য শিশুদের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। মোবাইলে ৬ মিনিটের কোনও বেলুন ফাটানোর গেম খেললে তা শিশুদের একটানা বিশদকেন্দ্রিক মনোনিবেশে প্ররোচিত করে। এই অভ্যাসের বাইরে থাকা শিশুদের ফোকাস অনেকটা বিশ্বকেন্দ্রিক হয়ে থাকে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।

ELTE-র গবেষকদের কথায়, এই বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক প্লাস্টিকের মতো হয়। এই সময়ে তারা যা যা দেখে, পড়ে কিংবা শোনে, তা তাদের চরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অনেকের মতে, শিশুকাল থেকে মোবাইল হাতে  বসে থাকাটা মোটেই ভাল কথা নয়। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় বলে শঙ্কিত হন অনেকে। তাদের সঙ্গে একমত নন হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের ইয়টভোস লোরান্ড ইউনিভার্সিটির বা ELTE-র গবেষকরা। তাদের কথায়, মোবাইল সর্বদাই যে শিশুদের মনে খারাপ প্রভাব ফেলে, তেমনটা নয়। এর ভাল দিকও রয়েছে। সেগুলিকে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয় বলে মনে করেন গবেষকরা।

সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে মোবাইল ডিভাইজে পারদর্শী শিশুরা বিশদকেন্দ্রিক ভাবনায় আলোকিত হয়। পরবর্তী কালে তারা বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনায় অনেক বেশি দক্ষ হয় বলে জানানো হয়েছে। যদিও তাদের সৃজনশীল ও সামাজিক দক্ষতা অন্যান্যদের তুলনায় কম হয় বলেও জানাচ্ছেন গবেষকরা। এর অর্থ এই প্রজন্মের মোবাইল ডিভাইজে পারদর্শী শিশুরা বৈজ্ঞানিক ভাবনায় বিকশিত হয়। তাদের মধ্যে শৈল্পিক ও সামাজিক গুণ কম থাকে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

Published by:Rukmini Mazumder
First published:

লেটেস্ট খবর