রাত পোহালেই কুমারী পুজো, জেনে নিন কেন দেবতারা কুমারীরূপে উপাসনা করেছিলেন দুর্গার!
- Published by:Dolon Chattopadhyay
- news18 bangla
Last Updated:
নবরাত্রির সবক'টি দিনেই যেমন কুমারী কন্যাদের ভোজন করানোর রীতি রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাঙালির পুজোয় অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজার রেওয়াজ।
#কলকাতা: এক দিকে সর্বভারতীয় স্তরে চলছে নবরাত্রি উদযাপন। অন্য দিকে, বাঙালি মেতেছে তার বড় সাধের দুর্গাপুজোয়। যে দিক থেকেই দেখা হোক না কেন, শারদীয়া এই উপাসনার অন্যতম অঙ্গ কুমারী পূজা। নবরাত্রির সবক'টি দিনেই যেমন কুমারী কন্যাদের ভোজন করানোর রীতি রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাঙালির পুজোয় অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজার রেওয়াজ।
আজ মহাসপ্তমী। রাত পোহালেই দুর্গাষ্টমীর পুণ্য লগ্নে শুরু হবে কুমারী পূজা। তার আগে জেনে নেওয়া যাক এই পূজার পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ইতিবৃত্ত।
বৃহদ্ধর্ম পুরাণ আমাদের বলছে যে দেবতারা স্বয়ং না কি পূজা করেছিলেন দেবীর এই কুমারী রূপের। যে কাহিনি কি না আবার শারদীয়া দুর্গাপুজোর সঙ্গেই জড়িত!
advertisement
আমরা সবাই জানি, দেবী দুর্গার পূজা প্রচলিত ছিল বসন্ত কালে। কেন না সেই সময়ে সূর্য অবস্থান করেন তাঁর উত্তরায়ণ গতিতে। পুরাণ মতে, সেটা দেবতাদের জেগে থাকার সময়। তাই চৈত্র মাসের নবরাত্রিই ছিল দুর্গার আরাধনার জন্য প্রশস্ত এবং প্রচলিত।
advertisement
ও দিকে, লঙ্কাধিপতি রাবণ সীতাহরণ করলে অযোধ্যার জ্যেষ্ঠ রাজকুমার রামের প্রয়োজন হল দেবী আরাধনার। রামায়ণ আমাদের বলে যে সীতাহরণের ঘটনাটি ঘটেছিল শরৎ ঋতুর শুরুর দিকে। যে হেতু রাবণ ছিলেন শৈব বা শিবের উপাসক, তাই তাঁকে পরাস্ত করার জন্য রামের প্রয়োজন ছিল দেবীর কৃপা!
দেবতারা এ কাজে কী ভাবে রামকে সাহায্য করা যায়, তা জানার জন্য দ্বারস্থ হলেন ব্রহ্মার। সেই সময়ে সূর্যের দক্ষিণায়ণ চলছে, অর্থাৎ তা দেবীর ঘুমের সময়ে। তাই ব্রহ্মা স্তব করলে এক কুমারীর বেশে আবির্ভূতা হলেন দেবী। পরামর্শ দিলেন বিল্বমূলে অকালবোধনের। দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন যে এক বেলগাছের শাখায় ঘুমিয়ে রয়েছে এক বালিকা। তাঁরা বুঝলেন, ইনিই সাক্ষাৎ দেবী! অতঃপর তাঁরা সেই বেল গাছের মূলে অবস্থান করে স্তব করলেন দেবীর। সেই বালিকা জাগরিত হয়ে ধারণ করলেন চণ্ডিকার রূপ!
advertisement
অন্য দিকে আবার বৈষ্ণো দেবীর উপাখ্যান বলে যে মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী আর মহাকালীর এই মিলিত রূপে দেবী স্বয়ং ভক্তদের নবরাত্রির সব দিনেই কুমারী কন্যাদের ভোজন করানোর আদেশ দিয়েছিলেন!
শাস্ত্র এ ক্ষেত্রে বলছে যে এক থেকে ষোল বছরের কুমারীরা দেবীর ষোলটি রূপের প্রতীক। এক বছর সন্ধ্যা, দুই সরস্বতী, তিন ত্রিধা, চার কালিকা, পাঁচ সুভগা, ছয় উমা, সাত মালিনী, আট কুষ্ঠিকা, নয় কালসন্দর্ভা, দশ অপরাজিতা, এগারো রুদ্রাণী, বারো ভৈরবী, তেরো মহালক্ষ্মী, চোদ্দ পীঠনায়িকা, পনেরো ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছর বয়স অন্নদা বা অম্বিকা রূপের প্রতীক।
Location :
First Published :
Oct 23, 2020 5:15 PM IST










