২৬ দিনে ৬০ সভা, রোড শো! অভিষেককে দিয়েই কেন প্রচারে ঝড় তুলছে তৃণমূল?

২৬ দিনে ৬০ সভা, রোড শো! অভিষেককে দিয়েই কেন প্রচারে ঝড় তুলছে তৃণমূল?

প্রচারে তৃণমূলের বাজি অভিষেক৷ Photo-Facebook

তৃণমূলের অন্দরের খবর বলছে, দলের পরিকল্পনাই হল রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে যাবেন৷

  • Share this:

    #কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলতে নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁকে আক্রমণের নিশানা করেছিল বিজেপি৷ কিন্তু ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূলের হয়ে গোটা রাজ্যে প্রচারে ঝড় তুলেছেন৷ অভিষেকের সর্বশেষ সূচি বলছে, ২৬ দিনে রাজ্যের ১০টি জেলায় ৬০টি বিধানসভায় জনসভা, রোড শো রয়েছে তাঁর৷ মোট ৪৬টি সভা এবং ১৪টি রোড শো করার কথা তৃণমূল সাংসদের৷

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবারের নির্বাচনে অভিষেকই নিঃসন্দেহে তৃণমূলের সবথেকে বড় তারকা প্রচারক৷ বিজেপি যতই তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করুক না কেন, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, সর্বত্র দাপিয়ে প্রচার করছেন তৃণমূলের এই যুব নেতা৷ রাজ্যের চতুর্থ দফার নির্বাচন পর্যন্ত অভিষেকের যা সূচি, তা কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির সমান সমান৷

    নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা- বিজেপি-র শীর্ষ নেতারা অভিষেককে নিয়মিত ব্য়ক্তিগত আক্রমণ করছেন৷ কিন্তু বিজেপি-র এই কৌশলকে কার্যত আমল না দিয়েই প্রচারে ঝড় তুলতে মমতার পরে অভিষেকের উপরেই সবথেকে বেশি নির্ভর করছে শাসক দল৷ অভিষেকের এই চূড়ান্ত ব্যস্ত প্রচার সূচির কারণেই তাঁর জন্য আলাদা একটি হেলিকপ্টারও বরাদ্দ করা হয়েছে দলের তরফে৷

    নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে অভিষেকের সূচির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে দলকে সাফল্য এনে দিতে তিনি কীভাবে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে ছুটছেন৷ ২৭ মার্চ প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য গত ১৪ মার্চ থেকে প্রচার শুরু করেছেন অভিষেক৷ মার্চ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩৯টি জনসভা এবং রোড শো করেছেন তিনি৷ প্রথম দফায় যেহেতু দুই মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে নির্বাচন ছিল, তাই মূলত ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর চষে ফেলেন অভিষেক৷ দ্বিতীয় দফার জন্য দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতেও সভা করেন অভিষেক৷ ৩১ মার্চ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে তিনটি জনসভা করার জন্য চলে আসেন অভিষেক৷ আবার মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করতেই এ দিন তৃণমূল সাংসদ চলে এসেছেন দক্ষিণবঙ্গে তাঁর খাসতালুক ডায়মন্ড হারবারে৷ ২ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে আরও ২১টি জনসভা এবং রোড শো করার কথা তাঁর৷ আর এবার প্রচারে মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতেই জোর দেবেন অভিষেক৷

    তবে শুধু প্রচারই নয়, ভোটের দিনগুলিতেও দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, ভোটের দিনগুলিতে গোটা প্রক্রিয়ার উপর নিবিড় ভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন অভিষেক৷ প্রয়োজনে দলের নেতাদের নির্দেশও দিচ্ছেন তিনি৷ প্রথম দু' দফায় যে দুই দিন ভোট হয়েছে, সেই ২৭ মার্চ এবং ১ এপ্রিল কোনও জনসভা বা রোড শো করেননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ৷ যদিও অভিষেকের সূচি বলছে, তৃতীয় দফার ভোটের দিন আগামী ৬ এপ্রিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতেই প্রচার করবেন তিনি৷ তবে তা বিকেল ৫টার পর৷ যখন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কার্যত শেষ হয়ে যাবে৷

    তৃণমূলের অন্দরের খবর বলছে, দলের পরিকল্পনাই হল রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে যাবেন৷ আবার নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে মমতা- অভিষেক দু' জনেই প্রচার করবেন৷ জঙ্গলমহলের বেশ কয়েকটি বিধানসভা আসনের ক্ষেত্রে যেমন দেখা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সভা করে আসার পরেও সেখানে প্রচারে গিয়েছেন অভিষেক, যাতে দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানো যায়৷

    তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, 'অভিষেকের প্রতি কম বয়সি ভোটারদের আকর্ষণ রয়েছে৷ তাছাড়া অভিষেক তৃণমূলের যুব সংগঠনেরও দায়িত্বে রয়েছেন৷ ওঁর সভাগুলিতেও ভাল ভিড় হয়৷' ভোট প্রচারে তৃণমূলের জনসভাগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাগুলিতে মহিলাদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো৷ আবার অভিষেকের জনসভা বা রোড শোয়ে কম বয়সিদের বেশি করে চোখে পড়ে৷ অন্য এক তৃণমূল নেতার কথায়, 'রাজ্যের কম বয়সি ভোটারদের টার্গেট করতে চাইছে বিজেপি৷ কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অভিষেক কতটা জনপ্রিয় ওদের কোনও ধারণাই নেই৷ মানুষকে টেনে আনার ক্ষমতা অভিষেকের রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর পর অভিষেকই একমাত্র নেতা, যাঁর সভায় ভাল ভিড় হচ্ছে৷ মানুষ ওঁকে একবার দেখতে চায়, ওঁর কথা শুনতে চায়৷'

    মমতার মতো বহিরাগত বলে আক্রমণ করেই বিজেপি নেতাদের নিশানা করছেন৷ পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির থেকে কতটা এগিয়ে, তাও বোঝানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূল সাংসদ৷

    বিজেপি অবশ্য রাজ্য জুড়ে অভিষেকের প্রচার ঝড় নিয়ে বিশেষ ভাবিত নয়৷ এক বিজেপি নেতার কথায়, 'অভিষেক যত বেশি প্রচার করবেন, ততই পরিবারতন্ত্র এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়বে৷ এতে আখেরে বিজেপি-রই সুবিধে হবে৷ ' তৃণমূল অবশ্য বিজেপি নেতাদের ভুল প্রমাণিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে সেই অভিষেকের উপরেই সবথেকে বেশি ভরসা করছে৷

    Aman Sharma

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    লেটেস্ট খবর