corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে জরুরী খাদ্য সামগ্রী কিংবা রক্তের প্রয়োজন? ফোন করলেই পাশে "আশুতোষ কলেজ পরিবার"

লকডাউনে জরুরী খাদ্য সামগ্রী কিংবা রক্তের প্রয়োজন? ফোন করলেই পাশে

সমাজ গঠনে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম। করোনা মোকাবিলাতেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে ছাত্রসমাজ। নিঃশব্দে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে আশুতোষ কলেজের একঝাঁক ছাত্র-ছাত্রী।

  • Share this:

#কলকাতা: সমাজ গঠনে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম। করোনা মোকাবিলাতেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে ছাত্রসমাজ। নিঃশব্দে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে আশুতোষ কলেজের একঝাঁক ছাত্র-ছাত্রী। রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার হোক কিংবা অসুস্থ মানুষের জন্য রক্ত। হেল্পলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করলেই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে সাহায্য। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে পাশে রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষও। আশুতোষ কলেজ পরিবার নামে এই কর্মকাণ্ড চলছে।    রাজ্যজুড়ে লকডাউন। ফলে বিপর্যস্ত হয়েছে সাধারণ জনজীবন। প্রচুর লোক খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে দুরবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই অবস্থায় দিন কয়েক আগে আশুতোষ কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও অসুস্থ মানুষের কাছে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রথমে খুঁজে দেখা হয় রাজ্যের 294 টি বিধানসভা কেন্দ্রের ব্লকে ব্লকে কোথায় কোথায় আশুতোষ কলেজের বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সদস্য উপস্থিত রয়েছেন, যারা এই কাজে যোগদান করতে পারবেন। তারপর সেই তালিকা তৈরি করে শুরু হয় কাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় হেল্পলাইন নাম্বার গুলি।

এমনিতে লকডাউনে কলেজ বন্ধ। তবে কলেজের অফিস ঘর যেন তৈরি হয়েছে কন্ট্রোল রুম হিসেবে। দিনের বেশিরভাগ সময় কয়েকজন ছাত্র কিংবা অফিস কর্মী সেই ঘরে বসছেন। সাহায্যের জন্য ফোন আসলে লিখে নেওয়া হচ্ছে নাম, ঠিকানা। সংশ্লিষ্ট জায়গায় দায়িত্বে থাকা ছাত্রছাত্রীকে পাঠানো হচ্ছে সেই ব্যক্তির বাড়ি। সত্যিই সাহায্য প্রয়োজন কিনা আর প্রয়োজন হলে কি ধরনের সাহায্য প্রয়োজন সেটা প্রথমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর সেই ছাত্র-ছাত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী অসহায় মানুষদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। অনলাইনে কলকাতা থেকে সেই ছাত্র-ছাত্রী একাউন্টে পৌছে যাচ্ছে টাকা। সেই অর্থ দিয়ে সব কেনা হচ্ছে। রক্তের প্রয়োজন হলেও ফোন আসছে হেল্পলাইন নাম্বারে। সংশ্লিষ্ট জায়গার ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে দায়িত্বে থাকা ছাত্রছাত্রীরা রক্ত দিচ্ছেন। পরিবর্তে প্রয়োজনীয় গ্রুপ অনুযায়ী রক্ত নিয়ে পৌছে দেওয়া হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তির পরিবারের হাতে। এই মহা কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাক্তন,বর্তমান প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের সাধ্যমত অনুদান দিয়েছেন। কলেজের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে 1 লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক,শিক্ষিকার সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। প্রয়োজনে আরও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে। আশুতোষ কলেজ পরিবারের উদ্যোগের পাশে রয়েছেন গভর্নিং বডির সভাপতি সাংসদ সৌগত রায়। ভিডিও বার্তায় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।

গত 7 দিন ধরে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ হয়ে কালীঘাটের যৌনপল্লী,বজবজ থেকে সুন্দরবন আশুতোষ কলেজ পরিবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত 18টি জেলার 243 টি পরিবারের, 951জন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। রক্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে 4জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু, 5জন ক্যানসার রুগী ও 3জন মুমূর্ষু ব্যক্তিকে। এর বাইরেও হাজরা, কালীঘাট এলাকার কুকুরের খাবার দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। সব মিলিয়ে আশুতোষ কলেজ পরিবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সমাজের কাছে।

Published by: Akash Misra
First published: May 12, 2020, 8:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर