Home /News /kolkata /

Revolt in Bengal BJP: বিজেপি-তে বিদ্রোহ, বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বৈঠক করে বোমা ফাটানোর হুঁশিয়ারি শান্তনুর

Revolt in Bengal BJP: বিজেপি-তে বিদ্রোহ, বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বৈঠক করে বোমা ফাটানোর হুঁশিয়ারি শান্তনুর

দলের রাজ্য নেতৃত্বের উপরে ক্ষুব্ধ শান্তনু ঠাকুর৷

দলের রাজ্য নেতৃত্বের উপরে ক্ষুব্ধ শান্তনু ঠাকুর৷

শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার, সায়ন্তন বসু, সমীরণ সাহা, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায়, রীতেশ তিওয়ারি সহ দলের একাধিক পুরনো নেতা (Revolt in Bengal BJP)৷

  • Share this:

#কলকাতা: বিদ্রোহী নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে বোমা ফাটানোর হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)৷ আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বিজেপি-র বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে৷ স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপি-র (BJP West Bengal) বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হবেন বিদ্রোহী নেতারা৷ কিন্তু যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন উত্তর প্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যের ভোট নিয়ে ব্যস্ত, তাই আপাতত কিছু দিন সময় নিচ্ছেন বিক্ষুব্ধরা৷

এ দিন দলের একঝাঁক বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে কলকাতায় পোর্ট ট্রাস্টের অতিথিশালায় বৈঠক করেন শান্তনু ঠাকুর৷ বৈঠকের শেষে নাম না করেই সরাসরি রাজ্যে দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সরব হন তিনি৷ বিজেপি-র অস্বস্তি বাড়িয়ে শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, 'একজন নেতাই দলের সংগঠনকে কুক্ষিগত করতে চাইছেন৷ সেই কারণেই দলের পুরনো অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিয়ে সংগঠনে অনভিজ্ঞদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে৷' কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশেই দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন কয়েকজন নেতা৷

আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারি চার পুরসভার ভোট, হাইকোর্টের পরামর্শ নতুন দিন ঘোষণা কমিশনের

শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার, সায়ন্তন বসু, সমীরণ সাহা, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায়, রীতেশ তিওয়ারি সহ দলের একাধিক পুরনো নেতা৷ ঘটনাচক্রে যাঁরা প্রত্যেকেই দলের নতুন রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন৷ এ ছাড়াও অশোক কীর্তনীয়া, সুব্রত ঠাকুর, মুকুটমণি অধিকারী সহ বেশ কয়েকজন বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন৷ বৈঠক শেষে শান্তনু দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আরও অনেক নেতা আছেন৷ তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, বিক্ষুব্ধ কোনও নেতাই দল ছাড়ার কথা ভাবছেন না৷ বরং বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির হাত শক্ত করতেই একজোট হচ্ছেন তাঁরা৷

বৈঠক শেষে শান্তনু বলেন, 'সংগঠনকে নিজের কুক্ষিগত করার জন্য অভিজ্ঞ, সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি তৈরি করেছে৷ যাঁরা এ রাজ্যে বিজেপি-কে ২ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছে দিয়েছেন (ভোট প্রাপ্তির হারে), তাঁদের নব্বই শতাংশকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে৷ এই অসৎ উদ্দেশ্য আমরা সফল হতে দেব না৷ মতুয়া সম্প্রদায় থেকে তো বটেই, এসটি, ওবিসি থেকেও সেভাবে কোনও প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি৷ জেলা, ব্লক, বুথ স্তর থেকেও একই ভাবে পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে৷ আবার কি চারা গাছ থেকে বিজেপি-কে তৈরি করতে হবে? '

আরও পড়ুন: উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত, আচার্যকে কড়া ট্যুইট শিক্ষামন্ত্রীর

ইঙ্গিত স্পষ্ট করলেও সরাসরি কোনও নেতার নাম করেননি শান্তনু ঠাকুর৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'সংগঠনের একজন নেতা, কে দায়িত্বে আছেন আপনারা বুঝে গেছেন৷ তাঁর কী প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে আছে জানি না৷ একজনের জন্য বিজেপি-কে শেষ হতে দেব না৷ অপসারণ চাই৷ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি, আগামী দিনেও জানাবো৷' কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, 'কোথায় বোমা ফাটাবো তা এখন বলব না, আর এর মানে দল ছাড়া নয়৷ বোমা ফাটানোর অনেক উপায় আছে৷' প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে গিয়েও শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছিলেন কয়েকজন বিক্ষুব্ধ নেতা৷

যদিও এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ নেতাদের কটাক্ষ করে বিজেপি-র অন্য শিবির থেকেই পোর্ট ট্রাস্টের অতিথিশালার বাইরে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়৷ এ বিষয়ে এ দিন প্রশ্ন করলে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের সংক্ষিপ্ত জবাব, 'পোস্টার পাল্টা পোস্টার লাগানো বিজেপি-র সংস্কৃতি নয়৷ যাঁরা এসব করছেন, তাঁরা বিজেপি করেন না৷' বিক্ষুব্ধ নেতাদের বৈঠক নিয়েও সেভাবে কিছু বলতে চাননি শমীকবাবু৷ সবমিলিয়ে বিক্ষুব্ধদের একজোট হওয়া নিয়ে চরম অস্বস্তি রাজ্য বিজেপি-তে৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

Tags: BJP, Shantanu Thakur

পরবর্তী খবর