Apiculture News: চাকরি খুঁজে সময় নষ্ট করার দিন শেষ, কোটি টাকার ব্যবসা শেখাচ্ছে স্কুল! ট্রেনিং নিয়ে ভাগ্য ফিরেছে অনেকের
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
East Bardhaman Apiculture: চাকরির পাশাপাশি পড়ুয়াদের বাড়তি উপার্জনের রাস্তা তৈরি হচ্ছে বিশেষ প্রশুক্ষণে। ইতিমধ্যে অনেকে ট্রেনিং নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। রোজগারের পাশাপাশি উপকার হচ্ছে পরিবেশেরও।
পূর্বস্থলী ২ ব্লকের মাজিদা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে হল মৌমাছি পালন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। বর্তমান সময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই লক্ষ্যেই বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের উদ্যোগে এই অভিনব প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ পরিবেশে স্বল্প খরচে লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে মৌমাছি পালন এক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, এই বার্তাই তুলে ধরা হচ্ছে পড়ুয়াদের সামনে। (তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী)
advertisement
বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শিক্ষক জহিরউদ্দিন শেখ জানান, ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বহু ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বনির্ভর হয়েছে। কেউ ছোট ব্যবসা শুরু করেছে, আবার কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও পেয়েছে। তাঁর কথায়, “মৌমাছি পালন একটি অত্যন্ত ভাল প্রজেক্ট। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যতে এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।”
advertisement
এই প্রশিক্ষণে শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে। পড়ুয়াদের শেখানো হচ্ছে মৌচাক তৈরির পদ্ধতি, মৌমাছির পরিচর্যা, মৌমাছির প্রজাতি চেনার উপায়, এবং কীভাবে সঠিকভাবে ও নিরাপদে মধু সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়াও মধু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রাথমিক ধারণাও দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে-কলমে পুরো প্রক্রিয়াটি শিখতে পারছে।
advertisement
মৌমাছি পালন কীভাবে কাজ করে, তাও বিস্তারিতভাবে বোঝানো হচ্ছে প্রশিক্ষণে। মৌমাছিরা ফুল থেকে মধুরস সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে, যা পরবর্তীতে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় মধুতে পরিণত হয়। একটি নির্দিষ্ট বাক্স বা কাঠের চাকে মৌমাছিদের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে কয়েক মাসের মধ্যেই মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। কম পুঁজি, অল্প জায়গা এবং সীমিত পরিশ্রমেই এই কাজ শুরু করা যায়, যা গ্রামীণ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিশেষভাবে উপযোগী।
advertisement
এই উদ্যোগের ফলে পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, তারা ছোট থেকেই উদ্যোগপতি হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বাড়িতে বসেই তারা অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও মৌমাছির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, কারণ পরাগায়ণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাই এই প্রশিক্ষণ শুধু আয়ের পথই খুলে দিচ্ছে না, বরং পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকেও এক বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠছে। (তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী)








