• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • আগামিকাল রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমফান বিধ্বস্ত অঞ্চল পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক বৈঠক

আগামিকাল রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমফান বিধ্বস্ত অঞ্চল পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করেন, রাজ্যে এসে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখুন ৷ ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখে রাজ্যকে সাহায্যের আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: আমফানের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রাজ্য জুড়ে৷ সুপার সাইক্লোনের দাপটে প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের ৷ সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আকাশপথে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তিনি ৷

    জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশেষ বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ বাকি বিজেপি নেতানেত্রীরা ৷ সেখান থেকে এরপর মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দুই ২৪ পরগণা, কলকাতা সহ ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে যাওয়া এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তারা ৷ এরপর উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির তালিকায় ৷

    বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করেন, রাজ্যে এসে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখুন ৷ ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখে রাজ্যকে সাহায্যের আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷ এদিন ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতির খোঁজ নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ সেই ফোনেই রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতি জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি নিজেই এই কথা জানান ৷ এরপরই প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে তাঁর রাজ্যে আসার কথা জানানো হয় ৷

    বৃহস্পতিবার রাজ্যে আমফানে মৃতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, ‘এই দুর্যোগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারকে সহানুভূতি জানানোর ভাষা নেই আমার ৷ তবু যদি এই টাকাগুলো পেয়ে কিছুটা উপকার হয় ৷ ’

    রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে গুড়িয়ে গিয়েছে দুই পরগণা ৷ তছনছ কলকাতা ৷ সুপার সাইক্লোন আমফানে মৃত্যু বহু মানুষের ৷ এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে ৷সাইক্লোন আমফানের জেরে খোদ কলকাতার বুকে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ খাস কলকাতায় রিজেন্ট পার্ক এলাকায় সাইক্লোনের সময় গাছ উপড়ে মা -ছেলের মৃত্যু হয়েছে ৷ রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মৃত ৭, উত্তর ২৪ পরগনায় আমফানে ১৭ জনের মৃত্যু, হাওড়ায় মৃত্যু ৩ জনের, হুগলিতে মৃত্যু ৪ জনের, পূর্ব মেদিনীপুরে আমফানের বলি ৬ ৷ পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেও ২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে ৷ পূর্ব বর্ধমানে আমফানের বলি ১, নদিয়ায় আমফানের জেরে ৪ জনের মৃত্যু, সুন্দরবনে ৪ জনের মৃত্যু, ডায়মন্ড হারবার থেকে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে,পূর্ব মেদিনীপুর ৬, রানাঘাট থেকে ৬ ও বারুইপুর থেকে ৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে ৷

    সুপার সাইক্লোন আমফানের তাণ্ডবের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাটতে চলেছে ৷ এখনও বোঝা সম্ভব হয়নি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৷ গ্রাম থেকে শহর আমফানে বিপুল ক্ষতিগ্রস্থ ৷ আয়লা, বুলবুল, ফণী....ক্ষতি হয়েছে অনেক। কিন্তু আমফান ছাপিয়ে গেছে সেসবকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধ্বংসী আমফানের সঙ্গে তুলনা টানা যায় শুধু ১৭৩৭ ও ১৮৬৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ের। মৃত্যু সংখ্যায় নয়, ঝড়ের দক্ষযজ্ঞে। আমফানে তাণ্ডবে ধূলিসাৎ বহু গুড়িয়ে গিয়েছে দুই পরগণা ৷ তছনছ কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর ৷ সুপার সাইক্লোন আমফানে মৃত্যু বহু মানুষের ৷ এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে ৷ সাইক্লোন আমফানের জেরে খোদ কলকাতার বুকে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন-টেলি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৷ উপড়ে গিয়েছে লক্ষাধিক গাছ ৷ আমফানের তাণ্ডবলীলা দেখে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি ৷ কত ক্ষয়ক্ষতি বুঝতে বুঝতেই ৩-৪ দিন লেগে যাবে ৷এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা রাজ্যে কত ক্ষয়ক্ষতি আধিকারিকদের সাতদিনের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ৷

    Published by:Elina Datta
    First published: