পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার তদন্তে জাতীয় মহিলা কমিশন, অভিযোগের নথি দেখাতে অস্বীকার পুলিশের

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন

  • Share this:

    #কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে হিংসার শিকার মহিলারা। এই অভিযোগে, নিগৃহীতাদের অভিজ্ঞতা শুনতেই রাজ্যে জাতীয় মহিলা কমিশন। তবে বৃহস্পতিবার তদন্তে বড়সড় বাধা পেলেন মহিলা কমিশনের আধিকারিকরা। ভোটে মহিলাদের উপর হিংসার অভিযোগের FIR কপি হাতেই পেল না জাতীয় মহিলা কমিশন। অভিযোগ, পুলিশের তরফে কোনও সহায়তাই করা হয়নি।

    তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত ভোটপর্বের আগে ও ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজনৈতিক কারণে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বা হিংসার শিকার হওয়া ৪৫ জন নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেছে মহিলা কমিশন। অভিযোগ, এদিন তদন্তের কাজে মহিলা কমিশনের আধিকারিকরা নদিয়ার শান্তিপুর থানায় গিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের সময় দায়ের হওয়া হিংসার অভিযোগের FIR কপি দেখতে চাইলে তা দেখাতে অস্বীকার করে পুলিশ। মহিলা কমিশনের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ভোট চলাকালীন এই থানার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় দুটি হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু দুটি কেসের কোনও নথিই মহিলা কমিশনের হাতে তুলে দিতে অসম্মত হন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার।

    পুলিশের এই অসহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সরব হন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। তিনি বলেন, শান্তিপুর থানার অ্যাডিশনাল এসপি তাদের কাজে কোনওরকম সহায়তা করেননি। উল্টে তাদের কেসের কোনওরকম নথি দেখাতে অস্বীকার করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পুলিশ স্টেশনে বসে থাকার পরও পুলিশের তরফ থেকে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রেখা শর্মা।

    আরও পড়ুন

    এ বছর রাষ্ট্রপতি ভবনে হবে না ইফতার পার্টি, সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির

    এখানেই শেষ নয় পুলিশের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে মহিলা কমিশন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মহিলা কমিশন এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছে যে স্থানীয় পুলিশ জনতার কল্যাণের জন্য কোনও কাজই করে না।

    পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্যে মহিলা কমিশনের আসা নিয়ে প্রথম থেকেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। গতকাল পঞ্চায়েত ভোটে মহিলাদের ওপর হিংসার অভিযোগে নজিরবিহীন শুনানির আয়োজন করে জাতীয় মহিলা কমিশন। পাঁচতারা হোটেলে সেই শুনানিতে অবশ্য হাজির ছিলেন হাতেগোণা অভিযোগকারী।

    আর এখানেই উঠছে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ। যেমন--লিখিত অভিযোগ না পেলেও শুধুমাত্র ঘটনা দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মহিলা কমিশনের হাতে। সেক্ষেত্রে, নিগৃহীতদের অবস্থা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যাওয়াই রীতি। কিন্তু, ঘটনাস্থলে কেন গেল না কমিশন? সত্যতা যাচাই বা অভিযোগ নিষ্পত্তিরই বা কী ব্যবস্থা নেওয়া হল? পুলিশ - রাজ্য প্রশাসনের থেকে রিপোর্ট তলব করতে পারে কমিশন। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কিছুই হল না! আর এখানেই উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুনানির আয়োজন, নিগৃহীত মহিলাদের কলকাতায় আনা-- সবেতেই গেরুয়া শিবিরের প্রভাব স্পষ্ট ।

    First published: