জল ছাড়া মাছ বাঁচে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া আমি বাঁচব না: সোনালি গুহ

সোনালির আকুতিতে হাসি চওড়া মমতা ব্রিগেডের।

কেন এত ভুল সংশোধনে মরিয়া সোনালি?

  • Share this:

#কলকাতা:  বিলম্বিত বোধদয়? অনুশোচনা? ঠেকে শেখা? সোনালি গুহর পথচলাকে কোন অভিধায় ভূষিত করা যায় বলা মুশকিল। তবে আপাতত তাঁর অনুশোচনার খোলা চিঠি হাসি চওড়া করেছে তৃণমূলের। কারণ মসনদে বসেই দলবদলুদের দুটি শব্দে বার্তা দিয়েছিলেন মমতা। বলেছিলেন, দরজা খোলা। আর সেই আহ্বানেই প্রথম সাড়া তাঁরই স্নেহভাজন সোনালির। খোলা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন,  মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে  ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চরম ভুল ছিল। কেন এত ভুল সংশোধনে মরিয়া সোনালি?

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে যাওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েক জন বিজেপিতে গিয়ে নাম লিখিয়ে টিকিট পেয়েছেন, বেশ কয়েকজন টিকিট পাননি। আবার  ভোটের ফল বেরনোর পরে দেখা গেল অনেকেই বিজেপির টিকিট পেয়েও সুবিধে করতে পারেননি, পরাস্ত হয়েছেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে আসার পরে অনেকেই তাই অস্তিত্ব সংকটে পড়েই মত বদল করতে শুরু করেছেন। সেই তালিকায় এবার নবতম সংযোজন হলেন সোনালি গুহ। তাই তো আজ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ছাড়া বাঁচবেন না।

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দীর্ঘ দিনের ছায়া সঙ্গী সোনালি গুহ। সাতগাছিয়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তাঁর নাম নিয়েই বলেছিলেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করেনি। তবে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ গোপন রাখেননি সোনালি। তীব্র অভিমান ধরা পড়েছিল তাঁর গলায়। এমনকি তার প্রঁতি সুবিচার হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন সোনালি গুহ। অথচ ভোটের খেলা সাঙ্গ হতে সেই তিনিই এবার খোলা চিঠি লিখে তার সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছিল বলে জানাচ্ছেন।

এদিন ৮ লাইনের চিঠি লিখেছেন সোনালি গুহ। সম্মানীয় দিদি উল্লেখ করে  চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছেন, "আমার প্রণাম নেবেন, আমি সোনালী গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলেছি যে, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম অভিমানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়ে ছিলাম যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না,তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দিন।"

শোনারি গলাতে এখন তীব্র অনুশোচনার সুর। এ দিন কলেজ স্ট্রিটের বাড়িতে বসে সোনালি গুহ অবশ্য জানিয়েছেন, ''দলে ফিরে আর কোনও ওস্তাদি নয়। আমাকে দল যা করতে বলবে আমি তাই করব।"

সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবার কালীঘাটে যাবেন সোনালি গুহ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অসীম বন্দোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন, তাঁর শোক সভায় যাবেন তিনি। তবে তিনি নিজে থেকে চেষ্টা করবেন না মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার।

সোনালি গুহ জানিয়েছেন, তিনি বিজেপিতে টিকিট পেতে যাননি। তাঁকে বিজেপি জোড়াসাঁকোতে প্রার্থী হতে বলেছিল। যদিও তিনি টিকিট নেননি। এদিন তিনি পরিষ্কার করেছেন গত মার্চ মাস থেকেই 'দমবন্ধ' হয়ে আসছিল। তাই বুঝতে পেরেছিলেন সেখানে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। অবশেষে ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরতে চান। এখন শুধু অপেক্ষা দল কবে ফিরিয়ে নেন তাদের ঘরের মেয়ে সোনালি গুহকে।

Published by:Arka Deb
First published: