• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ICHAPUR COUPLE DESPERATELY LOOKING FOR JUSTICE IN FINDING THE REASON BEHIND THE MYSTERIOUS DEATH OF THEIR SON ARC

Calcutta High Court : ছেলের মৃত্যুর সুবিচারের আশায় হাইকোর্টের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন হতভাগ্য দম্পতি

ছেলের মৃত্যুর সুবিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব ছবি

২০২০-র ১৭ জুলাইয়ের রিপোর্ট (Covid 19 Report)এত দিনে শুভ্রজিতের পরিবারের কাছে এল

  • Share this:

কলকাতা : ইছাপুরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় করোনা হয়নি। তবে মৃত্যু হয়েছে ৷  মৃত্যুর কারণ এখনও অধরা। সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যাচ্ছে পরিবার।

১ বছর পর সোমবার বেলঘরিয়া থানা থেকে ছেলের কোভিডপরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছে পরিবার । কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেই রিপোর্ট নেগেটিভ । ২০২০-র ১৭ জুলাইয়ের রিপোর্ট এত দিনে শুভ্রজিতের পরিবারের কাছে এল ৷

অথচ গত বছর ১০ জুলাই কোভিড পজিটিভ বলে মুর্মূষু শুভ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেয় কামারহাটির মিডল্যান্ড হাসপাতাল । তাঁর জন্য  হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘুরেছে পরিবার ৷ কামারহাটি ইএসআই হাসপাতাল থেকে পরিজনরা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন মিডল্যান্ড হাসপাতালে ৷ আবার তাঁরা যান ইএসআই হাসপাতালেই ৷ তার পর তাঁরা পৌঁছন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৷

এর পরেও তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে ছিল দুর্ভোগ ৷ অভিযোগ, ১০ জুলাই বিনা চিকিৎসায় শুভ্রজিৎকে দীর্ঘ সময় ধরে  ফেলে রাখা হয়েছিল মেডিক্যাল কলেজে ৷ উপায় না দেখে শেষে অসহায় মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় আত্মহত্যার হুমকি দেন হাসপাতাল চত্বরে৷ এর পর ভর্তি করা হয় শুভ্রজিৎকে।

১১ জুলাই ছেলের মৃত্যুসংবাদ পায় শুভ্রজিতের পরিবার ।  মৃত্যু কেন ?  তদন্তের দাবিতে বৌবাজার থানায় সে সময় গিয়েছিল তাঁর পরিবার । তারও পরে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় । হাইকোর্টের নির্দেশে ময়নাতদন্ত হয় শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের । নেওয়া হয় কোভিড পরীক্ষার নমুনা । তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি । বিভিন্ন রিপোর্ট যথাসময়ে না আসার জন্য মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না, এরকমই জানানো হয় রিপোর্টে।

এক বছর পর কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ পেয়েই মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর কাছে আসেন শুভ্রজিতের মা ও বাবা । হেল্থ কমিশন পরিবারকে হয়রানির জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ।  হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছে । তাই ক্ষতিপূরণের অঙ্কও পায়নি পরিবারটি।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের রিপোর্ট হাতে পাওয়ায় পর  এটা অন্তত স্পষ্ট যে ভুল কোভিড রিপোর্টে কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে শুভ্রজিতের। হাইকোর্টের বারান্দায় কাঁদতে কাঁদতে বলে চলেন তাঁর মা শ্রাবণী ৷

উচ্চমাধ্যমিকে ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন, যদিও রেজাল্ট দেখে যাওয়া হল না শুভ্রজিতের । ছেলের মৃত্যুর জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁর বাবা শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় । আইনজীবী হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল ছেলের। ছেলের স্বপ্ন পূরণ হয়নি,  সুবিচারের আশায় এখন আইনজীবীদেরই সাহায্যপ্রার্থী শুভ্রজিতের পরিবার ।

হাইকোর্টের বারান্দায় সঠিক তদন্ত চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অকালমৃত শুভ্রজিতের হতভাগ্য মা ও বাবা । তাঁদের দায়ের করা মামলা এখনও বিচারাধীন । নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে, সিবিআই তদন্ত চেয়ে আবেদন করবে শুভ্রজিতের পরিবার, জানাচ্ছেন তাঁদের আইনজীবী  বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় । শীঘ্রই বিষয়টি বিচারপতির নজরে আনা হবে বলেও জানান তিনি। চিকিৎসায় গাফিলতি ও হয়রানি অভিযোগে কামারহাটি হাসপাতালকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন । সেই মামলাও এখন বিচারাধীন হাইকোর্টে।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: