ব্যাগ ভর্তি টাকা পেয়েও সত্ পথেই থাকলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার বিনোদ

এক ব্যাগ টাকা। দিকভ্রষ্ট হলেন না সামান্য বেতনের এই সিভিক ভলেন্টিয়ার।

এক ব্যাগ টাকা। দিকভ্রষ্ট হলেন না সামান্য বেতনের এই সিভিক ভলেন্টিয়ার।

  • Share this:

#কলকাতা: এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের সততায় টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের ডেবিট কার্ড ফেরত পেলেন শহর কলকাতার এক বাসিন্দা| পয়লা জুন রাত আটটা নাগাদ হাওড়া স্টেশন চত্বরে ট্রাফিক সামলানোর কাজ করছিলেন হাওড়া স্টেশন ট্রাফিক গার্ডের কর্মী, হাওড়া সিটি পুলিশের সিভিক পুলিশ বিনোদ রজক। ওই এলাকায় টহল দেওয়ার সময় একটি পার্স খুঁজে পান বিনোদ। খুলে দেখেন সেই ব্যাগে রয়েছে বেশ কিচু টাকা ও একাধিক কাগজ পত্র। ব্যাগটি উদ্ধার করে নিজের দফতরে জমা দেওয়াই শুধু নয়, ব্যাগ থেকে পাওয়া বেশ কিছু ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা শুরু করেন তিনি। ব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন সিভিক ভলেন্টিয়ার বিনোদ। শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ হয় কলকাতার বাসিন্দা রিজানুরের সঙ্গে। হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে কাজের জন্য বাইরে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ব্যাগটি যে তাঁরই সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

শনিবার তিনি কলকাতায় ফিরে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ ফেরত নিয়ে যান। ব্যাগের টাকার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বেশ কিছু ডকুমেন্টস, সেগুলি ফেরত পাওয়ায় নিশ্চিন্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রিজানুর। একইসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশ ও বিনোদ রজককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিনোদ বাবুর দাবি, তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাড়তি কিছুই করেননি। মানুষকে সহায়তা করাই পুলিশের কাজ। তিনি সেটাই করেছেন। যদিও বর্তমানে সত্ভাবে দায়িত্ব পালন করাটাই যে ব্যতিক্রমী কাজ! বিনোদ রজক এদিন বলেছেন, ''ব্যাগে থাকা টাকাগুলো হয়তো আমার সংসারে অনেকটাই কাজে লাগত। কিন্তু অন্যের হারিয়ে যাওয়া টাকা আমার যতটা প্রয়োজন, হয়তো আসল মালিকের আরো বেশি প্রয়োজন! আর অসৎ উপায়ে টাকা অর্জন করার শিক্ষা পাইনি কোনোদিন। তাই এই ব্যাগ ফেরত দিতে পেরে অমি খুব খুশি।''

এই মুহূর্তে রাজ্যের সিভিক পুলিশ নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন স্তরে। অন্যদিকে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়েও অনেক ক্ষোভ বিক্ষোভ রয়েছে সিভিক পুলিশ কর্মীদের মধ্যে। একে তো সামান্য বেতন, তার উপর প্রতি মাসে সেটাও সঠিক সময় না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক সিভিক ভলেন্টিয়ারের। কু়ড়িয়ে পাওয়া ব্যাগের ভিতর যে টাকা ছিল তা হয়তো বিনোদবাবুর এক মাসের বেতনের থেকে অনেকটাই বেশি। তবুও সেই অর্থ তাঁকে দিকভ্রষ্ট করতে পারেনি। সততার নজির গড়লেন বিনোদ রজক। দিন আনা দিন খাওয়া, রোদে পোড়া, জলে ভেজা নীল পোশাকের চাকরিতেই তিনি খুশি, সন্তুষ্টও।

Published by:Suman Majumder
First published: