যাদবপুর,কলকাতার পর অবশেষে নির্বিঘ্নেই পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করলেন রাজ্যপাল

যাদবপুর,কলকাতার পর অবশেষে নির্বিঘ্নেই পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করলেন রাজ্যপাল

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভোটের অনুসরণেই হোক এ রাজ্যে পৌরসভার ভোট।এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

  • Share this:

#কলকাতা: অবশেষে এই প্রথমবার কোন অশান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নেই পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন এর সভাপতিত্ব করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। গত রবিবারই ট্যুইট করে সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করার কথা নিজেই উল্লেখ করেছিলেন রাজ্যপাল। মঙ্গলবার সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে অশান্তির আশঙ্কা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত রাজ্যপালের উপস্থিতিতেই নির্বিঘ্নেই শেষ করা গেল। সমাবর্তনের বক্তব্য রাখতে গিয়ে অবশ্য তার এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাতের প্রসঙ্গের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন "তার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে যাবতীয় সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর পড়ছে।তাই তিনি সেই দ্বন্দ্ব মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং করবেন।" এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে রাজ্যপাল আরও বলেন "পশ্চিমবঙ্গে এখন সেই সময় এসেছে যখন এখানকার মানুষদের বুঝতে হবে কারো কোন বিরুদ্ধমত থাকলে সেই মত এর ক্ষেত্রেও সৌজন্যে দেখানো উচিত।" সমাবর্তন মঞ্চ থেকে পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে তিনি তার 'সাতবচন' আবেদন ও রাখেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক কালে যতবারই তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গেছেন  ততবারই তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়ে সমাবর্তনে যোগ না দিয়ে তাকে  ফিরতে হয়েছিল। আবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে ডিলিট এর শংসাপত্র স্বাক্ষর করে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। যা ঘিরে তিনি বিভিন্ন সময় নিজের ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভের পরিস্থিতি থেকে  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কে উদ্ধার করতে যান খোদ রাজ্যপাল। এরপরই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গেলে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল।এমনকি কর্মচারীদের  একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্যাম্পাস ঢুকতে না পেরে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল। একই ছবি দেখা যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কে কেন্দ্র করেও। সমাবর্তন স্থলে রাজ্যপাল হাজির হওয়া মাত্রই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তার জেরে  তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ না দিয়েই ফিরতে বাধ্য হন। কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন কে কেন্দ্র করে ও বিতর্ক তৈরি হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আচার্য হিসাবে তাকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ আনেন রাজ্যপালই।

সামগ্রিকভাবে দু সপ্তাহ আগে রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক, পরবর্তীকালে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক অনেকেই রাজ্য রাজ্যপাল সংঘাত পর্ব মিটতে চলেছে বলেই আশা করেছিল। তবে এদিনের সমাবর্তনের সামগ্রিক ছবি দেখে অনেকেই রাজ্যপাল রাজ্যের সংঘাতের ইতির আশার আলো দেখছে।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

First published: February 25, 2020, 6:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर