Bengal 7th Phase Polls: 'ভোট আসবে যাবে, জীবন ফিরবে না', জয় পরাজয় ভুলে করোনা মোকাবিলাই চিন্তা ফুয়াদের

Bengal 7th Phase Polls: 'ভোট আসবে যাবে, জীবন ফিরবে না', জয় পরাজয় ভুলে করোনা মোকাবিলাই চিন্তা ফুয়াদের

বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী ফুয়াদ হালিম৷

২০১১ সালে এই বালিগঞ্জ কেন্দ্রেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে হারতে হয়েছিল সিপিএম প্রার্থী ফুয়াদ হালিমকে৷ লড়াইটা তাই খুবই কঠিন৷

  • Share this:

    #কলকাতা: নির্বাচনের আর ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই৷ মূল প্রতিপক্ষ রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী এবং দুঁদে রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ তবু ভোটের হার জিতের থেকেও করোনার দ্বিতীয় ধাক্কাই বেশি ভাবাচ্ছে বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী ফুয়াদ হালিমকে৷ কারণ তাঁর কথায়, 'নির্বাচন আসবে যাবে৷ কিন্তু একজন মানুষের জীবন চলে গেলে ফেরানো যাবে না৷ আমার কাছে তাই ভোটে হার জিতের থেকেও করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলাটাই অগ্রাধিকার পাবে৷'

    নিজে চিকিৎসক৷ বহু বছর ধরেই নিম্নবিত্ত মানুষকে স্বল্পমূল্যে বা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন৷ কিন্তু গত এক বছরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি গরিবের ডাক্তার বলে খ্যাত হয়েছেন৷ কারণ করোনা অতিমারি পর্বে তাঁর চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষকে নিরন্তর পরিষেবা দিয়ে গিয়েছেন৷ ৫০ টাকায় ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করে সমাজের সব স্তরের প্রশংসা কুড়িয়েছেন৷ নিজে করোনা আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন৷ কিন্তু ফিরে এসে দ্বিগুন উদ্যমে ফের করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন৷ এখনও পর্যন্ত সাত বার প্লাজমা দান করেছেন৷ যার নজির এ রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷ এমন কি, ভোটের প্রচারের মধ্যে থেকেও সময় বের করে নিয়মিত রোগী দেখেছেন৷

    কিন্তু গরিবের ডাক্তার হিসেবে এই সুখ্যাতি কি ভোট বাক্সে তাঁকে কোনও বাড়তি সুবিধে দেবে? ২০১১ সালে এই বালিগঞ্জ কেন্দ্রেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে হারতে হয়েছিল তাঁকে৷ লড়াইটা তাই খুবই কঠিন৷ ফুয়াদ নিজেও অস্বীকার করছেন না, বালিগঞ্জ কেন্দ্র জুড়ে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা তাঁর অসংখ্য রোগীই এবারের নির্বাচনে তাঁর বড় ভরসা৷

    রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত হাসিম আব্দুল হালিমের পুত্র ফুয়াদ বলেন, 'বালিগঞ্জ কেন্দ্রে আমার ৮ হাজারের বেশি রোগী রয়েছেন৷ এই কেন্দ্রের প্রায় ৬ হাজার মানুষের চোখের ছানি অপারেশেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি৷ বালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রায় প্রতিটি অলি গলিতেই আমার পরিচিত কোনও রোগীর সঙ্গে দেখা হচ্ছে৷ এঁদের সঙ্গে আমার সারা বছরের যোগাযোগ৷' এর পাশাপাশি অবশ্য বালিগঞ্জের বহু পুরনো পার্কিং, নিকাশীর সমস্যারও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তুলছেন ফুয়াদ৷ ২০১১-র তুলনায় ২০১৬ সালে তৃণমূলের সঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান কমায় এার আরও আশাবাদী ফুয়াদ৷

    তবে রাজনীতির এই চেনা হিসেব নিকেশ করলেও এখনও করোনা বিরুদ্ধে লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান বালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী৷ পেশায় চিকিৎসক বলেই হয়তো তিনি বলছেন, 'কোভিডের মোকাবিলাই এখনও আমার কাছে প্রাথমিক গুরুত্ব পাবে৷ নির্বাচনের প্রচারেও আমি বার বার কোভিড বিধি মানার কথা বলেছি৷ নির্বাচন আসবে যাবে, ভোটে হার জিতও থাকবে৷ কিন্তু একজন মানুষের জীবন চলে গেলে তো তাঁকে ফেরানো যাবে না৷ ফলে মানুষের জীবনের ঊর্ধ্বে কোনও কিছুই নয়৷ প্রশাসন যেভাবে করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের সামনে আমি তা তুলে ধরেছি৷'

    যদিও অন্যতম প্রতিপক্ষের চিকিৎসক হিসেবে এই সুখ্যাতি নিয়ে খুব একটা ভাবিত নন বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর দাবি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই৷ ভোট বাক্সে এর কোনও প্রতিফলনই হবে না৷

    চিকিৎসক হিসেবে ব্যতিক্রমী পথে হেঁটেছেন৷ প্রার্থী হিসেবেও ভোটের অঙ্কের থেকেও করোনার মোকাবিলাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ফুয়াদ হালিম৷ কিন্তু বালিগঞ্জের মানুষ কি তাঁকে নিয়ে অন্যরকম ভাববেন? উত্তর জানা যাবে ২ মে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:
    0