Home /News /kolkata /
EXCLUSIVE: পছন্দের শীর্ষে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কিন্তু কেন? রইল বিস্তারিত

EXCLUSIVE: পছন্দের শীর্ষে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কিন্তু কেন? রইল বিস্তারিত

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

Justice Abhijit Ganguly's popularity: "স্যার, বিচারপতি 'ক' বা বিচারপতি 'খ' নয়, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চেই মামলা করে দিন এখানেই আমি সঠিক বিচার পাব।" 

  • Share this:

অর্ণব হাজরা, কলকাতা: জনপ্রিয় হিন্দি ছবির বিচারকের ডায়লগ ছিল...সরকার, পুলিশ, প্রশাসন কথা না শুনলেও আদালত কথা শুনবে। আর ন্যায় বিচার দেবে। এই ভরসার খোঁজেই আজও মানুষ ছুটে চলে শেষ আশ্রয় হিসেবে আদালতের কাছে। কোনও একটি মামলা বা বিচার মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। যেখান থেকে শুরু হয় আস্থা, ভরসা, বিশ্বাস। তারও পরে পছন্দ অপছন্দ। প্রিয় বিচারপতি শব্দবন্ধ প্রাসঙ্গিকতা পায় এখানেই (Calcutta High Court)।

আরও পড়ুন-মনে রাখবেন ভারতে একটা জুডিসিয়ারি আছে: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কেন বললেন এমন কথা? 

আসলে প্রিয় রাষ্ট্রনেতা, প্রিয় অভিনেতা,  প্রিয় ক্রিকেটার, প্রিয় ফুটবলার, প্রিয় খাবার এমনটা ধরে প্রশ্ন করলে সব মানুষের কাছেই একটা না একটা উত্তর আছেই। এবার বাঙালির সেই ‘প্রিয়’ তালিকার চ্যাপ্টারে বিচারপতি যোগ হল সম্ভবত সোমবার। কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ১৭ নম্বর আদালত কক্ষের সোমবারের ঘটনা সেই জল্পনার বাতাস জোরালো করছে। এই ঘরেই যাবতীয় বিচারের কাজ সারেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justic Abhijit Ganguly)। স্কুল সার্ভিস সংক্রান্ত একাধিক মামলা তাঁরই বেঞ্চে। ঘড়ির কাঁটা পৌনে তিনটে। তখন রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলের বদলি অনিয়ম সংক্রান্ত মামলা শেষ হয়েছে সোমবারের মতো, পরবর্তী শুনানির দিনও স্থির করে দিয়েছেন বিচারপতি।

অনিয়ম দেখে ভরা এজলাসে এসএসসি, রাজ্য এবং স্কুলের আইনজীবীদের সামনে ততক্ষণে মন্তব্যও করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য ছিলো" মনে রাখবেন ভারতে একটা জুডিশিয়ারি আছে।"সেই সময়ই আইনজীবী বিশ্বরূপ বিশ্বাস বিচারপতি উদ্দেশ্যে বলেন, ১৭ নম্বর আদালতেই একমাত্র সুবিচার পাওয়া যাবে। সারা রাজ্যে জনমানসে এমন একটা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তাঁর মক্কেলের করা উক্তি শোনান ভরা এজলাসে। "স্যার, বিচারপতি ‘ক’ বা বিচারপতি 'খ' নয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চেই মামলা করে দিন এখানেই আমি সঠিক  বিচার পাব।" এমন মন্তব্য শুনে কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে যান খোদ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন-নিয়মিত ডায়েটে ব্রাউন ব্রেড রাখেন? জানেন কি ব্রাউন ব্রেড খেলে কী হতে পারে?

এখানেই শেষ নয়, আইনজীবী অঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, তাঁর মক্কেল ঠাকুরপুকুরের শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন চাইল্ড কেয়ার লিভের বকেয়া  সঙ্গে বকেয়া আটকে থাকা বেতন পাচ্ছিলেন না। ২০১৮ সাল থেকে সমস্যা। এর আগে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চের নির্দেশের পরও সুরাহা হয়নি। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেঞ্চের নির্দেশ আর তার ২০ দিনের মধ্যে সবকিছুর নিষ্পত্তি। বিচারপতি এমন ঘটনা জেনে মন্তব্য করেন, এর থেকে ভাল খবর কিছু হতে পারে না। এরপর ঠাকুরপুকুরের শিক্ষিকার মামলাটি নিষ্পত্তিও করে দেন বিচারপতি। এসএসসি আন্দোলনকারীদের অনেকে তো জেলায় জেলায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত পোস্টারও ছাপিয়েছে, বেকারের নয়নমণি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অপদার্থ কমিশন ৭ বছরেও নিয়োগ দিতে পারে না। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম শ্রেনীর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি খুঁজতে সিবিআই তদন্ত নির্দেশ। গত কয়েকবছরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বারবার খবরের শিরোনামে।

অনিয়ম, অস্বচ্ছতায় তাঁর বিচার হয়তো মন ছুঁয়েছে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর। তাই প্রিয় বিচারপতি হিসেবে লেটার মার্কস পেয়ে মামলাকারীদের আস্থা ও বিশ্বাসে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। অন্তত সোমবার এজলাসের মন্তব্য গুলি জুড়লে এমনটা বলা অস্বাভাবিক হবেনা।উল্লেখ্য, হাইকোর্টে কোন বিচারপতি কোন ধরণের মামলার বিচার করবেন তা ঠিক করেন প্রধান বিচারপতি। বিচার্য বিষয় স্থির করার এক্তিয়ার তাঁরই হাতে।কাজেই সব মামলা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেঞ্চে স্বাভাবিক কারণেই হতে পারে না।

Published by:Siddhartha Sarkar
First published:

Tags: Calcutta High Court

পরবর্তী খবর