ঐতিহ্যের বয়স ৩০০ বছর, উমা বিসর্জনের খবর মহাদেবকে দিতে ওড়ানো হয় নীলকণ্ঠ পাখি
Last Updated:
সময়ের চাকায় বয়স বেড়েছে বারুইপুরের রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে। বট-পাকুর-শ্যাওলার উঁকিঝুঁকি নিয়ে ধীরে ধীরে বার্ধক্যের চাদর জড়িয়েছে সে। তবুও আভিজাত্যের অহংকার অমলিন।
#বারুইপুর: ঐতিহ্যের বয়স তিনশো বছর। বারুইপুরে রাজা রাজবল্লভ রায়চৌধুরী শুরু করেন দুর্গা আরাধনা। এখন জমিদারবাড়ির গায়ে ইতিহাসের ক্ষয়ের আঁকিবুঁকি। তবে সেসময়ের কোনও উপাচার, কোনও নিয়মই আজও টাল খায়নি। আজও উমা বিসর্জনের খবর মহাদেবকে দিতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয় বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ি থেকে।
সময়ের চাকায় বয়স বেড়েছে বারুইপুরের রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে। বট-পাকুর-শ্যাওলার উঁকিঝুঁকি নিয়ে ধীরে ধীরে বার্ধক্যের চাদর জড়িয়েছে সে। তবুও আভিজাত্যের অহংকার অমলিন। বছরভর যে জমিদারবাড়ি চুপ করে থাকে, পুজো এলেই তার অন্য মেজাজ। হোক না সে, তিনশো বছরের বুড়ো। দুর্গার আরাধনায় জমিদার বাড়ির প্রতি কোণা যেন আবার ফিরে পায় তারুণ্য।
তখন পরাধীন ভারত। তৎকালীন নবাবের থেকে বারুইপুর থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত এলাকা যৌতুক পান জমিদার রাজবল্লভ চৌধুরী। পান রায়চৌধুরী উপাধি। লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে বিদেশি সংস্থাকে দিয়ে এই বাড়ি তৈরি করান তিনি। তিনিই শুরু করেছিলেন দুর্গাপুজো। নৈবেদ্যর ডালা সাজিয়ে ভিড় করতেন প্রজারা। আয়োজনের ধুমে আর উৎসবের জৌলুসে রায়চৌধুরীদের পুজো তাক লাগাত।
advertisement
advertisement
সময় বদলেছে। জমিদারি নেই। তবে নিয়ম বদলায়নি। এখনও তিন পুরোহিত পুজো করেন। সপ্তমী থেকে নবমী নিশি পর্যন্ত ছাগল বলি দেওয়ার রীতি। দেশে বিদেশে ছড়ানো ছেটানো রায়চৌধুরীদের অনেকেই। তবে অষ্টমীর দিন দালানে আড্ডা জমে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে দশমীর দিন এখনও দু’টি নীলকণ্ঠ পাখি উড়ে যায় রায়চৌধুরীদের দুর্গাদালান থেকে ।
advertisement
আশপাশে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজোর ধুম। তবুও বারুইপুরের রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ির পুজো নিজের বৈশিষ্ট্যে আলাদা। সোনারপুর, জয়নগর, মন্দিরবাজার, কুলতলি থেকে মানুষের ভিড় জমে ঠাকুরদালানে। ঢাকের বোলে বেজে ওঠে ইতিহাস।
Location :
First Published :
Sep 06, 2019 11:06 PM IST










