অনলাইন গিফট বাক্সে কুকুর, বিড়াল বিক্রি ! নিশানায় চিন

অনলাইনে কুকুর, বিড়াল বিক্রি চলছে চিনে

চিনে শতাধিক কুকুর-বিড়াল উদ্ধার করেছে চেংদুভিত্তিক প্রাণী উদ্ধার সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, অনলাইনে কেনাবেচার পর গিফট বক্সে ছিল কুকুর-বিড়ালগুলো

  • Share this:

    #বেজিং: একদিকে সারা পৃথিবী যখন তাঁদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, তখন মানতে চায়নি চিন। বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে হাতে রেখে একের পর এক ভুল তথ্য দিয়ে গিয়েছে। আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনে মনে বিশ্বাস করেন পৃথিবীর এই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চিন দায় এড়াতে পারে না। বাদুরের মাধ্যমে নাকি প্যাঙ্গোলিনের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে ছিল কিনা পরিষ্কার নয়।

    চিন অদ্ভুত দেশ! ইউলিন নামক শহরে কুকুরের মাংস বিক্রির কথা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার এমন একটা কাণ্ড ঘটিয়েছে ড্রাগন, যে কারণে আবার শিরোনামে জিনপিংয়ের দেশ। অনলাইন উপহার হিসেবে কুকুর, বিড়ালের ব্যবসা করছে কিছু চিনা সংস্থা। চিনে শতাধিক কুকুর-বিড়াল উদ্ধার করেছে চেংদুভিত্তিক প্রাণী উদ্ধার সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, অনলাইনে কেনাবেচার পর গিফট বক্সে ছিল কুকুর-বিড়ালগুলো। আরো উদ্বেগের বিষয় হল, অনলাইনে যাঁরা কালো গিফট বক্স কিনেছেন, তাঁরা জানেন না আসলে তার মধ্যে কী আছে।

    সেসব ক্রেতাদের কাছে পাঠানোর জন্যই কুকুর-বিড়াল রেখে গিফট বক্স সাজানো হয়েছিল।গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রাণী অধিকারকর্মীরা গত সোমবার ওই কুকুর-বিড়ালগুলো উদ্ধার করেছেন। চিনের ডেলিভারি সংস্থা জেডটিও এক্সপ্রেস কার্যালয় থেকে তারা ওই কুকুর-বিড়ালগুলো উদ্ধার করেন। জানা গেছে, ক্রেতাদের কাছে ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত করে রাখা ১৬০টি বক্স খুললে একের পর এক কুকুর-বিড়াল বেরিয়ে আসে। সেগুলোর কোনোটিতে কুকুর ছিল আবার কোনোটিতে ছিল বিড়াল। সেসব কুকুর-বিড়ালদের মধ্যে অনেকগুলো একেবারে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

    উদ্ধারকারী সংস্থা চেংদু লাভ হোম এনিম্যাল রেসকিউ সেন্টার জানিয়েছে, প্রাণীদের কষ্ট মানতে আমাদের কষ্ট হয়। কোনো গাড়িতে কুকুর-বিড়াল রেখে তাতে বাতাস প্রবেশের সুযোগ না রাখলে প্রাণীগুলো মারা যাবে। আর সেখানে ছোট্ট গিফট বক্সে কুকুর-বিড়াল রাখা ছিল। যে কারণে কয়েকটি কুকুর-বিড়াল মারা গেছে। জেডটিও এক্সপ্রেস কার্যালয়ের বাইরে সেগুলোর দেহ পড়ে আছে।

    উদ্ধার করা কুকুর-বিড়ালের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারটি মারা গেছে। অন্যদের যথাযথ চিকিৎসা দরকার বলে জানিয়েছেন প্রাণীপ্রেমীরা। চিনের এই অমানবিক ব্যবসায় বেজায় চটেছে পশুপ্রেমীরা। তবে কেউ কেউ বলছেন যে দেশে মানুষের জীবনের মূল্য নেই, সেই দেশে জন্তু-জানোয়ারের অবস্থা  এর থেকে কী উন্নত হবে? নিয়মের পরোয়া কখনই করে না ড্রাগন।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: