বিদেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো মুখ! প্রকাশ্যে এল গোবি মরুভূমির নতুন ডাইনোসর! চাঞ্চল্য বৈজ্ঞানিক মহলে

টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো মুখ! প্রকাশ্যে এল গোবি মরুভূমির নতুন ডাইনোসর! চাঞ্চল্য বৈজ্ঞানিক মহলে

এরা প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত লম্বা হত। এদের সামনের হাতের দিকের অংশে দু’টি করে আঙুল থাকত। আর মুখের দিকটা টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো অর্থাৎ চঞ্চু আকৃতির ছিল।

  • Share this:

যত দিন এগোচ্ছে ডাইনোসরের অস্তিত্ব, জীবনযাত্রা ও প্রজাতি নিয়ে নানা নিত্য-নতুন তথ্য আমাদের সামনে আসছে। এ নিয়ে বহু গবেষণা ও বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছে। জীববিজ্ঞানীদের এই সুদীর্ঘ গবেষণার হাত ধরেই ডাইনোসরের এক নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেল। এই প্রজাতির নাম ওকসোকো আবারসান। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই প্রজাতির ডাইনোসরগুলির সাধারণত দু’টি করে আঙুল থাকত। মুখের জায়গায় ছিল দাঁতবিহীন চঞ্চু আকৃতির এক অংশ। মূলত মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত এরা। দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে ওই এলাকাগুলি থেকেও বহু অস্থি, কঙ্কাল ও জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বিজ্ঞানীদের অনুমান, প্রায় ৬৮ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়াত এই ডাইনোসররা।

গবেষণা জানাচ্ছে, এই সর্বভুক প্রাণীদের গায়ে পালক জাতীয় কিছু একটা ছিল। এবং এরা প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত লম্বা হত। এদের সামনের হাতের দিকের অংশে দু’টি করে আঙুল থাকত। আর মুখের দিকটা টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো অর্থাৎ চঞ্চু আকৃতির ছিল। তবে এই ঠোঁটে কোনও দাঁতের অস্তিত্ব পাওয় যায়নি। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এর আগে যে ডাইনোসরদের অনুসন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, তাদের সামনের হাতে বা পায়ে তিনটি করে আঙুল থাকত। এই প্রজাতি দুই আঙুল বিশিষ্ট ডাইনোসরের প্রথম প্রমাণ। বিবর্তনের মাধ্যমেই ডাইনসোরদের সামনের হাত বা পায়ে এই ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এর কারণ হিসেবে তাঁরা নির্দিষ্ট প্রজাতির ডাইনোসরের সংশ্লিষ্ট বাসস্থান, সেখানকার জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভাসকেই দায়ী করেছেন।

এ নিয়ে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ জিওসাইন্সের ড. গ্রেগরি ফানস্টোন বিস্তর গবেষণা চালিয়েছেন। তাঁর কথায়, ওকসোকো আবারসান নামে এই প্রজাতি খুব আকর্ষণীয়। পৃথিবী থেকে লুপ্ত হওয়ার আগে এই ধরনের প্রাণীরা যে অত্যন্ত বৈচিত্রপূর্ণ ছিল, তার প্রমাণও মেলে উদ্ধার হওয়া জীবাশ্মগুলি থেকে। অনুমান করা যায়, এই প্রাণীরা একসঙ্গে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াত। তবে খাদ্য অনুসন্ধান ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতে তাদের সামনের দিকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে হাতে নানা পরিবর্তন এসেছে। মূলত বাসস্থানের জায়গা বদলানোর জেরে ও ক্রমাগত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতে অর্থাৎ অভিযোজনের মাধ্যমে ডাইনোসরগুলির দৈহিক পরিবর্তন হয়েছে।

প্রাণী বিবর্তনের ইতিহাসে এ ধরনের আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রাণীবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, হয়তো এই ধরনের ডাইনোসর থেকেই ধীরে ধীরে পাখিদের শরীরেও নানা বিবর্তন এসেছে।

Published by: Simli Raha
First published: October 8, 2020, 1:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर