ইরানে তেলের ডিপোতে একের পর এক হামলা মার্কিন-ইজরায়েল বাহিনীর! তেহরানকে প্যাঁচে ফেলার নতুন পন্থা ট্রাম্পদের!
- Published by:Soumendu Chakraborty
- news18 bangla
Last Updated:
রান-ইজরায়েলের যুদ্ধ ক্রমেই চরম আকার নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, তেহরানের আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলিতে সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান: ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ ক্রমেই চরম আকার নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, তেহরানের আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলিতে সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই হামলার ফলে দেশের ভেতরে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা, পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমর্থন নিয়ে ইজরায়েল তেহরানের কাছাকাছি থাকা একাধিক বৃহৎ জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক ও ডিপোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব ডিপোতে বিপুল পরিমাণে পেট্রোল, ডিজেল এবং সামরিক জ্বালানি মজুত রাখা হয়, যা রাজধানী তেহরানসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরবরাহ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ক্ষতি করা নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে দুর্বল করে দেওয়া।
advertisement
হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে ছিল শাহর-ই-রে রিফাইনারি কমপ্লেক্স, শাহরান অঞ্চলের জ্বালানি ডিপো, কুহাক এলাকা এবং কারাজ ও ফারদিসের সংরক্ষণাগার। এগুলি তেহরান মহানগর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে শাহরান এবং শাহর-ই-রে অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর প্রধান জ্বালানি বিতরণ নেটওয়ার্কের অংশ।
advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিপোতে হামলা হলে শুধু সামরিক যানবাহন বা সেনা সরঞ্জামের জ্বালানি সরবরাহই নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। কারণ তেহরানের মতো জনবহুল শহরে গণপরিবহণ, ব্যক্তিগত যানবাহন, শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র—সবই জ্বালানি সরবরাহের উপর নির্ভরশীল।
advertisement
সংঘাতের শুরুতে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং সরকারি কাঠামো। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে এখন এই সংঘাত ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। জ্বালানি সংরক্ষণাগার, রিফাইনারি এবং সরবরাহ কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা মানে দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন ব্যবস্থার উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা।
advertisement
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর কাছাকাছি এমন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার উপর মানসিক ও বাস্তব—দুই ধরনের চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তেহরান এবং আশপাশের এলাকায় কয়েক কোটি মানুষ বসবাস করেন। সেখানে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, পণ্যের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া এবং জনজীবনে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
advertisement
এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ইরানের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কারণ জ্বালানি সরবরাহ একটি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ফলে এই হামলাকে অনেকেই ইরানের উপর কৌশলগত চাপ বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
দেশের সব লেটেস্ট খবর ( National News in Bengali ) এবং বিদেশের সব খবর ( World News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 08, 2026 11:21 AM IST









