সম্মান না অপমান? নেপোলিয়নের স্মৃতিসৌধের উপরে ঝুলিয়ে দেওয়া হল প্রিয় ঘোড়া-র কঙ্কাল; রেগে কাঁই জনতা!

This photograph taken on 7 May 2021 shows a creation entitled 'Marengo', a 3D skeleton of the Napoleon's horse hanging over the Napoleon's tomb by French artist Pascal Convert at the Hotel des Invalides. AFP.

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি- এটি একটি উচ্চমানের শিল্পকর্ম, যা বোঝা সকলের কর্ম নয়।

  • Share this:

#প্যারিস: এই বছরে সম্রাট নেপোলিয়নের (Napoleon) ২০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। আর তাঁকে নিয়ে ফরাসিদের আবেগ থাকাটা খুব স্বাভাবিক। যদিও প্যারিসের মিউজিয়ামের একটি পদক্ষেপে রেগে আগুন হয়ে আছে জনতা। গোলমাল বেঁধেছে নেপোলিয়নের প্রিয় ঘোড়া মারেঙ্গোকে নিয়ে। ফরাসি সম্রাটের সৌধের উপরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি ঘোড়ার নকল কঙ্কাল। দাবি করা হয়েছে সেটি মারেঙ্গোর প্রকৃত দেহাবশেষের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে। দৃশ্যটি মোটেই সুখকর নয় বলে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্যারিসের জনতা।

উল্টো দিক থেকে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি- এটি একটি উচ্চমানের শিল্পকর্ম, যা বোঝা সকলের কর্ম নয়। মেমেনতো মারেঙ্গো নামের এই আর্টওয়ার্ক তৈরি করেছেন শিল্পী পাস্কাল কভাতে। শিল্পী বলেছেন যে ১৮১৫ সালে ওয়াটারলু’র যুদ্ধে ব্রিটিশদের হাতে বন্দী হওয়ার আগে পর্যন্ত সম্রাট নেপোলিয়ন একজন বীরের জীবন বেঁচেছেন। তাঁর সমস্ত যুদ্ধের সঙ্গে এবং জীবনের নানা উত্থান-পতনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মারেঙ্গো। আর সেই অবিচ্ছেদ্য বন্ধন বোঝাতেই এই শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে।

প্রাচীন মিশর থেকে মেসোপটেমিয়া, সব জায়গাতেই প্রথা ছিল সম্রাটের প্রিয় পোষ্যকে মৃতের সঙ্গে জীবিত অবস্থায় কবর দেওয়া। মনে করা হত রাজা বা সম্রাট তাঁদের প্রিয় ঘোড়া, কুকুর বা বিড়ালকে ছেড়ে থাকতে পারবেন না। কভাতে সেই প্রথাকেই ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। লন্ডনের জাতীয় আর্মি মিউজিয়ামে মারেঙ্গোর দেহাবশেষ দেখে তার অনুকরণ করে এই কঙ্কাল বানিয়েছেন তিনি।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল আর্ট হিস্ট্রি ইন্সটিটিউটের প্রধান এরিক দ চাসে বলেছেন যে সবাই হয় তো এই শিল্পকর্মের মর্ম বুঝবেন না। কিন্তু তাঁরা কোনও ভাবেই সম্রাটকে অসম্মান করতে চান না। মিউজিয়াম কমপ্লেকসের মধ্যে যেখানে সম্রাট নেপোলিয়নকে সমাহিত করা হয়েছিল, সেখানে আরও কয়েকটি আধুনিক আর্ট পিস যোগ করা হয়েছে।

দ চাসে এও বলেছেন যে প্রিয় ঘোড়াকে জীবন দান করে আসলে সম্রাটকেই নতুন করে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্যারিসের জনতার এই দৃশ্য ভালো লাগেনি। সেক্ষেত্রে চাসের দাবি যে যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু একটি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। বীর যোদ্ধারা চাইতেনও লড়াই করতে করতে মৃত্যু বরণ করতে। কল্পনা করা হত ঘোড়ায় চেপেই তাঁরা স্বর্গের দিকে যাচ্ছেন।

তবে নেপোলিয়ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক পিয়ের ব্রাদাঁ বলেছেন যে এই দৃশ্য বিকট এবং চমকে দেওয়ার মতো। মহান সম্রাটের সৌধের উপরে একটি ঝুলন্ত কঙ্কাল মেনে নিতে পারেননি এই ফাউন্ডেশনের প্রধান থিয়েরি লেজও।

Published by:Debalina Datta
First published: