জঙ্গিদের রাইফেলের সামনে বাঁচল ‘বন্ধুত্ব’, প্রাণ গেল ফারাজের

Last Updated:

জীবনদান পেয়েছিলেন ৷ জঙ্গিরা তাঁকে মৃত্যুপুরী থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু সে সুযোগ পেয়েও জঙ্গিদের হাতে নিজের দুই বন্ধুকে ছেড়ে মুক্ত হতে চাননি ফারাজ আইয়াজ হোসেন ৷ জীবনের বদলে বন্ধুত্বকে বেছেছিলেন ফারাজ ৷

#ঢাকা: জীবনদান পেয়েছিলেন ৷ জঙ্গিরা তাঁকে মৃত্যুপুরী থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু সে সুযোগ পেয়েও জঙ্গিদের হাতে নিজের দুই বন্ধুকে ছেড়ে মুক্ত হতে চাননি ফারাজ আইয়াজ হোসেন ৷ জীবনের বদলে বন্ধুত্বকে বেছেছিলেন ফারাজ ৷
বাংলাদেশের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেন। আমেরিকার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বছর কুড়ির ফারাজ, গরমের ছুটি কাটাতে নিজের বাড়ি ঢাকায় ফিরেছিলেন ৷ পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে আবার আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর ৷ ঈদের ছুটিতে তাঁর সঙ্গেই ঢাকায় ফিরেছিলেন সহপাঠী অবীন্তা কবীর ৷ অবীন্তা বাংলাদেশের এক শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের মেয়ে ৷
advertisement
এই দলের তৃতীয় জন ছিলেন ভারতের মেয়ে তারিশি জৈন ৷ তারিশির পিতা সঞ্জীব খান্না ভারতীয় হলেও ব্যবসার কারণে ঢাকায় থাকতেন ৷ তারিশি ফারাজের সঙ্গে একই স্কুলে পড়তেন ৷ আমেরিকার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া তারিশিও গরমের ছুটিতে ঢাকা এসেছিলেন ৷
advertisement
তিনবন্ধু ছুটিতে একই শহরে ৷ তাই শুক্রবার সন্ধেয় আড্ডা মারার জন্য তিনবন্ধু দেখা করেছিলেন স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজানে ৷ সেই কালো রাতের শেষে কী অপেক্ষা করছে তা জানতেন না কেউই ৷
advertisement
অবীন্তা কবীর ও তারিশি জৈন অবীন্তা কবীর ও তারিশি জৈন
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, জঙ্গিদের লক্ষ্য ছিলেন বিদেশিরা ৷ বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে তাঁরা ভাল ব্যবহার করছিলেন এবং এক সময় তাদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয় জঙ্গিরা ৷
সেই রাতে মুক্তি পাওয়া এমনই এক পণবন্দি নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ফারাজ বাংলাদেশের নাগরিক জেনে জঙ্গিরা তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল কিন্তু সে তাঁর দুই বন্ধুকে মৃত্যুমুখে ফেলে একা চলে যেতে চায়নি ৷ তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য বাংলাদেশিরা তাঁকে অনুরোধ করলেও সে অবীন্তা  আর তারিশিকে ফেলে আসতে চায়নি ৷
advertisement
ফারাজ জঙ্গিদের অনুরোধ করেছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর দুই বান্ধবীকেও মুক্তি দিতে, কিন্তু জঙ্গিরা জানত তারিশি ভারতীয় আর অবীন্তার বাংলার টান শুনে তারা ভেবেছিল সে আমেরিকা থেকে এসেছে ৷ তাই ছাড়া পায়নি অন্য দু’জন ৷ আর বন্ধুদের ছাড়তে পারেননি ফারাজ ৷
শনিবার সকালে জঙ্গিমুক্ত করার পর আর্টিজানের ভিতর থেকে ২০ জন পণবন্দির গলার নলি কাটা লাশ মেলে ৷ তাঁর মধ্যে একজন ছিলেন ফারাজ আইয়াজ হোসেন ৷
advertisement
vlcsnap-2016-07-03-20h04m45s170
জঙ্গি কবলে সেদিনের অভিশপ্ত রাতে কাটিয়েও প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে আসা এক পণবন্দি জানিয়েছেন, জঙ্গিরা পণবন্দিদের ধরে ধরে তাদের কী ধর্ম, কোন দেশের বাসিন্দা তা জিজ্ঞেস করে ৷ তারপর সবাইকে আলাদা আলাদা করে কোরান থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে এবং আয়াত মুখস্থ বলতে বলে ৷ যারা তা বলতে পারেনি তাদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ৷
advertisement
না, ফারাজ আইয়াজ হোসেনের কোরানের আয়াত মুখস্থ না বলতে পারার কোনও কারণ ছিল না ৷ ফারাজের দাদু লতিফুর রহমান বলেছেন, নামাজ-কালাম খুব ভাল জানত ফারাজ ৷ হয়ত বন্দুকের নলের সামনে মাত্র বছর কুড়ির এই তরুণের জীবনের বদলে ‘বন্ধুত্ব’-কে বেছে নেওয়ার ঔদ্ধত্য পছন্দ হয়নি সন্ত্রাস ছড়াতে আসা জঙ্গিদের ৷ তাই মৃত্যুতেও ছিন্ন হয়নি বন্ধুত্ব ৷ যে অস্ত্রে গিয়েছে তারিশি আর অবীন্তার প্রাণ, তাতেই বয়েছিল ফারাজেরও রক্ত ৷
view comments
বাংলা খবর/ খবর/ওপার বাংলা/
জঙ্গিদের রাইফেলের সামনে বাঁচল ‘বন্ধুত্ব’, প্রাণ গেল ফারাজের
Next Article
advertisement
Tamil Nadu Bus Accident:  দুটি সরকারি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! মৃত অন্তত ১১
দুটি সরকারি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! মৃত অন্তত ১১
  • তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত ১১৷

  • দুটি সরকারি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ৷

  • বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা৷

VIEW MORE
advertisement
advertisement