• Home
  • »
  • News
  • »
  • india-china
  • »
  • 'লাদাখ ভারতের মাথা, সম্মানের প্রতীক', সেনাকে উদ্বুদ্ধ করে চিনকে বার্তা মোদির

'লাদাখ ভারতের মাথা, সম্মানের প্রতীক', সেনাকে উদ্বুদ্ধ করে চিনকে বার্তা মোদির

লাদাখে নরেন্দ্র মোদি৷

লাদাখে নরেন্দ্র মোদি৷

সেনা জওয়ানদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের বীর সেনারা হাজার বছর ধরে অনেক অত্যাচার, হামলা, আক্রমণের মুখের মতো জবাব দিয়েছেন৷

  • Share this:

    #লেহ: লাদাখ ভারতের মাথা, ১৩০ কোটি দেশবাসীর মান সম্মানের প্রতীক৷ লাদাখে বীর সেনারা সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করেছে বলে লেহতে সেনা জওয়ানদের উদ্ধুদ্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ পাশাপাশি চিনের নাম না করেও বেজিং-কে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিস্তারবাদের যুগ শেষ, বিকাশবাদের যুগ শুরু হয়েছে৷ গোটা বিশ্ব বিস্তারবাদীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী৷

    সীমান্তে চিনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এ দিন আচমকা লেহ- লাদাখ সফরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ নিমুতে ফরওয়ার্ড পোস্টে গিয়ে কম্যান্ডারদের সঙ্গে কথা বলে সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝে নেন তিনি৷ হাসপাতালে গিয়ে চিনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী৷ পাশাপাশি লেহতে সেনা জওয়ানদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি৷

    এ দিন শুরু থেকেই লাদাখে সেনা জওয়ানদের সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, 'ভারতের বীর জওয়ানরা যে সাহস দেখিয়েছেন, তাতে গোটা বিশ্বের কাছে ভারতের শক্তির বার্তা চলে গিয়েছে৷ আমি গালওয়ান উপত্যকায় শহিদ জওয়ানদের আরও একবার প্রণাম জানাই৷ আত্মনির্ভর ভারত তৈরি করার সংকল্প আপনাদের ত্যাগ, বলিদান, সাহসিকতার জন্যই আরও মজবুত হবে৷ ১৪ নম্বর কর্প-এর সেনা জওয়ানরা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা নিয়ে দেশের প্রতিটি বাড়িতে চর্চা চলছে৷ ভারত মাতার শত্রুরা আপনাদের বীরত্ব এবং পরাক্রমের পরিচয় পেয়েছে৷'

    সেনা জওয়ানদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের বীর সেনারা হাজার বছর ধরে অনেক অত্যাচার, হামলা, আক্রমণের মুখের মতো জবাব দিয়েছেন৷ লাদাখের প্রতিটি পাথর ভারতীয় সেনার বীরত্বের সাক্ষী বহন করছে৷ তিনি বলেন, 'আমরা বংশীধারী কৃষ্ণের যেমন পুজো করতে পারি, তেমন সুদর্শন চক্র দিয়ে জবাবও দিতে পারি৷'

    প্রধানমন্ত্রী এ দিনও বলেন, 'ভারত আজ জল, স্থল, নল এবং অন্তরীক্ষেও নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে৷ এর একমাত্র লক্ষ্য মানব কল্যাণ৷ ভারত আজ অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করছে, পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সেনাদের জন্য নিয়ে আসছে৷ ভারত আধুনিক পরিকাঠামোও তৈরি করছে, তারও লক্ষ্যমাত্রা এটাই৷ বিশ্বযুদ্ধ হোক বা শান্তির প্রয়াস, গোটা বিশ্ব আমাদের বীর সৈন্যদের সাহস দেখেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অনুভব করেছে৷ আপনারা আজও ভারতের সেই পরম্পরা বহন করে চলেছেন৷' তিনি বলেন, দুর্বলরা কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না৷ কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠার পূর্ব শর্তই হল সাহসিকতা৷

    লাদাখে গিয়েও এ দিন মুখে চিনের নাম নেননি প্রধানমন্ত্রী৷ তবে গোটা লাদাখই যে ভারতের অংশ তা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করার অপচেষ্টার জবাব দিয়ে চিনের নাম না করেই  তিনি বলেন, 'বিস্তারবাদের যুগ শেষ, এখন বিকাশবাদের যুগ৷ বিস্তারবাদীরা বিশ্ব শান্তির প্রতি বিপজ্জনক৷ গোটা বিশ্ব বিস্তারবাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে৷ ইতিহাস সাক্ষী, বিস্তারবাদীদের দিন শেষ হয়ে গিয়েছে৷'

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশভক্তির কথা মনে করলে আমি ভারত মাতা এবং দেশের পরাক্রমী সেনাদের বীর মায়েদের স্মরণ করি৷' তাঁর সরকার যে লাগাতার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সেনাদের উন্নতিকল্পে কাজ করে চলেছে, এ দিন ভাষণে তারও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, 'সীমান্ত পরিকাঠামোয় খরচ তিন গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ এর ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সড়ক, সেতু বানানোর কাজ দ্রুত গতিতে করা সম্ভব হচ্ছে৷ সেনার কাছে জরুরি রসদও দ্রুত পৌঁছচ্ছে৷' পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি মেনে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের পদ তৈরি করা, এক পদ- এক পেনশন ব্যবস্থা চালু করা, শহিদ জওয়ানদের পরিবারকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ সরকার করেছে বলেও সেনাদের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ মহিলা সেনাকর্মীদেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী৷

    তিনি বলেন, সেনা জওয়ানদের নিরাপত্তা, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের মর্যাদা রক্ষাকে দেশবাসী সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়৷ সেনার আত্মবলিদানের জন্য গোটা দেশ নতমস্তক হয়ে তাঁদের প্রণাম জানায়৷ গালওয়ান ঘাঁটিতে সেনারা যে অদম্য সাহস দেখিয়েছে, তা নিয়ে গোটা দেশ গর্বিত বলে এ দিন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেনার পাশাপাশি আইটিবিপি, বিএসএফ, বিআরও-সহ দেশের নিরাপত্তার কাজে যুক্ত প্রত্যেকটি বাহিনী এবং সংগঠনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন সমস্ত মুশকিল পরিস্থিতিতে ভারত অতীতেও জয়ী হয়েছে, ভবিষ্যতেও জয়ী হবে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: