হোম /খবর /হাওড়া /
নিজের 'ঘরেই' বিক্ষোভের মুখে রাজীব, ডোমজুড় কি আর নিরাপদ নয়?

নিজের 'ঘরেই' বিক্ষোভের মুখে রাজীব, ডোমজুড় কি আর নিরাপদ নয়?

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়- শুভেন্দু অধিকারীর পর নির্বাচনের আগে যাঁর দলবদল নিয়ে সবথেকে বেশি শোরগোল হয়েছিল, তিনি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু ভোটে নিজের পুরনো কেন্দ্র ডোমজুড়েই হেরে যান তিনি৷ এর পর থেকেই কিছুটা অন্তরালে ছিলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী৷

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়- শুভেন্দু অধিকারীর পর নির্বাচনের আগে যাঁর দলবদল নিয়ে সবথেকে বেশি শোরগোল হয়েছিল, তিনি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু ভোটে নিজের পুরনো কেন্দ্র ডোমজুড়েই হেরে যান তিনি৷ এর পর থেকেই কিছুটা অন্তরালে ছিলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী৷

বাঁকড়ায় প্রচারে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজীব। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকার পরিস্থিতি।

  • Last Updated :
  • Share this:

#হাওড়া: একজন বলছেন তিনি নন্দীগ্রামের 'ঘরের ছেলে', অপরজন ডোমজুড়বাসীকে বলছেন তাঁর আত্মীয়। কিন্তু ভোট প্রচারে বেরিয়ে শুভেন্দু যেভাবে বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন নন্দীগ্রামে, এবার হাওড়ায় ডোমজুড়ের বাঁকড়াতে প্রায় একই ঘটনার মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমানে ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বাঁকড়ায় প্রচারে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজীব। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকার পরিস্থিতি।

রবিবার সকালে প্রচারে বেরিয়েছিলেন রাজীব। প্রচার যখন প্রায় শেষের দিকে, তখনই তৃণমূলের কর্মীরা রাজীব বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কালো পতাকা দেখাতে শুরু করেন। আর এরপরই তাঁদের দিকে তেড়ে যান বিজেপি কর্মীরা। বচসা বেঁধে যায় দু'পক্ষের মধ্যে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপরই দু'পক্ষের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। যদিও রাজীব বলেন, 'তৃণমূলের হার নিশ্চিত বুঝেই ওরা লোক পাঠিয়ে এসব করছে। কিন্তু এসব করে আমাকে আটকানো যাবে না।'

এদিকে সম্প্রতি নন্দীগ্রামের ভেটুরিয়া এলাকায় শুভেন্দুর কনভয় আটকে ঝাঁটা, জুতো হাতে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। যদিও সেই বিক্ষোভকে তৃণমূলের 'ষড়যন্ত্র' বলেই দাবি করেছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু সেই রেশ মিটতে না মিটতেই গত বৃহস্পতিবার ফের শুভেন্দুর প্রচারের সময় অশান্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া। দু'পক্ষের বেশ কয়েকজন আহতও হন। পরে সেই বিষয়েও শুভেন্দু বলেন, 'পাকিস্তান জিতলে যারা পতাকা তোলে, তারাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।' শুভেন্দুর এই মন্তব্য় নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

কিন্তু কেন বারবার শুভেন্দু, রাজীবদের মতো নেতাদের নিজের জায়গাতেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে বলে শুভেন্দুকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিও করতে হচ্ছে তাঁকে। শুভেন্দুর এই রূপ অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। আবার নন্দীগ্রাম আন্দোলনকেও নিজের বলে দাবি করছেন তিনি। মমতার অবদানকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। নিজেকে 'ঘরের ছেলে' বলে দাবি করলেও সদ্যই নন্দীগ্রামের ভোটার লিস্টে নিজের নাম তুলেছেন নব্য বিজেপি নেতা। সেইসঙ্গে নন্দীগ্রামে মমতার চোট পাওয়ার ঘটনাতেও ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের একটা বড় অংশই। ফলে বারবার শুভেন্দুর বিক্ষোভের মুখে পড়া প্রত্যাশিত বলেই মত অনেকের। রাজীবের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তেমন না হলেও ডোমজুড়ে রাজীবকে হারাতে বদ্ধপরিকর শাসক দল, তাই এই ধরনের বিক্ষোভ প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন অনেকে।

Published by:Suman Biswas
First published:

Tags: BJP, Rajib Banerjee, West Bengal Assembly Election 2021