• Home
  • »
  • News
  • »
  • features
  • »
  • SOBHABAZAR RAJBARI OBSERVES SNANYATRA WITH ALL HERITAGE AND RITUALS ARC

দুধ, ঘি, মধু, আখের রসের পর সহস্রঝারায় ১০৮ ঘটি গঙ্গাজলে স্নানযাত্রা শোভাবাজার রাজবাড়ির গৃহদেবতার

শোভাবাজার রাজবাড়িতে স্নানযাত্রা

বনেদি এই পরিবারের গৃহদেবতা কিন্তু শাক্ত দেবী দশভুজা নন, সেখানে শোভা পান গোপীনাথ জিউ ও গোবিন্দ জিউ ৷

  • Share this:

    কলকাতা : কোনও এক সময় কলকাতা ছিল এই বাড়িকে ঘিরেই ৷ কলকাতার দুর্গোৎসবও আবর্তিত হত এই বাড়ির ঠাকুরদালানকে ঘিরেই ৷ বনেদি এই পরিবারের গৃহদেবতা কিন্তু শাক্ত দেবী দশভুজা নন, সেখানে শোভা পান  গোবিন্দ জীউ ও গোপীনাথ জীউ ৷  শ্রীকৃষ্ণের এই অবতার রাজবাড়িতে সেই ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে পূজিত হয়ে আসছেন জগন্নাথ মহাপ্রভু রূপে ৷ জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমায় যে তিথিতে শ্রীক্ষেত্রে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা হয়, সেদিন এ বাড়ির গৃহদেবতারও স্নানাভিষেক হয় ৷

    কথিত, জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ থেকে গৃহদেবতাকে মুক্তি দিতেই এই পার্বণের আয়োজন ৷ কোনও কোনও বছর এই পার্বণ পালিত হয় আষাঢ়েও ৷ যেমন এ বছর হল৷ বৃহস্পতিবার, ৯ আষাঢ় স্নানযাত্রা হল গোবিন্দ জীউ ও গোপীনাথ জীউয়ের ৷ সনাতন রীতি ও ঐতিহ্য পালন করে গৃহদেবতার বিগ্রহকে এ দিন অর্চনা করা হয় দুধ, ঘি, মধু, গোচনা, গোময়, আখের রস, গোলাপজল, কেওড়াজল, অগুরু-সহ অন্যান্য উপকরণ সহকারে ৷ এর পর ১০৮ ঘটি গঙ্গাজল বিগ্রহের উপর বর্ষিত হয় সহস্রঝারা এবং দক্ষিণাবর্ত শঙ্খের মাধ্যমে ৷ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হয় এই পুণ্যস্নান ৷

    রাজা নবকৃষ্ণ দেবের উত্তরসূরিদের আজ দু’টি তরফ ৷ দীর্ঘ দিন অপুত্রক থাকায় তিনি দত্তক নিয়েছিলেন অগ্রজপুত্র গোপীমোহনকে ৷ গোপীমোহন দেবের বংশধররা পরিচিত বড় তরফ বলে ৷ এর পর প্রায় জীবন-উপান্তে পৌঁছে পুত্রসন্তানের পিতা হন রাজা নবকৃষ্ণ ৷ ছেলের নামকরণ করা হয় রাজকৃষ্ণ ৷ যেহেতু তিনি ছিলেন অনুজ, তাই রাজকৃষ্ণ দেবের উত্তরসূরিরা আজ পরিচিত ছোট তরফ বলে ৷ তাঁদের আরাধ্য গৃহদেবতা গোপীনাথজীউ ৷  বড় তরফে পূজিত হন গোবিন্দ জীউ ৷ দুই তরফের গৃহদেবতাই পূজিত হন স্নানযাত্রায় ৷

    বড় তরফে  স্নানযাত্রা ও হোম

    ছোট তরফের সদস্য তীর্থঙ্করকৃষ্ণ দেব জানালেন, ‘‘১৭৫৭ থেকে এই স্নানযাত্রা পার্বণ পালিত হয়ে আসছে ৷ তবে পুরীতে এর পর জগন্নাথদেব একপক্ষকাল অদর্শনে থাকেন ৷ আমাদের দুই তরফের গৃহদেবতা কিন্তু দর্শন দেন ৷ তাঁদের নিত্যপুজো চলে নিয়ম মেনেই ৷’’

    গৃহদেবতার নিত্যসেবা আজও এ বাড়িতে রাজকীয়ই ৷ রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সময় থেকে এখনও বৈশাখ মাসে গৃহদেবতাকে ‘ঝারা’ দেওয়ার রীতি পালিত হয়ে আসছে ৷ শীতল জলে সিক্ত করা হয় গৃহদেবতাদের এবং নারায়ণ শিলাকে ৷ শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য শ্রীবিষ্ণু ও পঞ্চদেবতাকে উৎসর্গ করা হয় ফলের নৈবেদ্য ৷ চার দেবদেবীর প্রত্যেককে আলাদা করে মোট চারটি থালা নিবেদন করা হয় রোজ ৷ সেখানে থাকে মাখন, মিছরি, ডাব, পেঁপেঁ, কলা, পেয়ারা, আম, লিচু, তরমুজ, খেজুর, কিসমিস, কাজু, পেস্তা ও দই ৷ বৈশাখ মাসে পালিত হয় শীতলা অষ্টমীও ৷

     

    প্রতি বছর বৈশাখ থেকে শুরু করে চৈত্র মাস পর্যন্ত শারদোৎসব-সহ সব পুজোপার্বণ পালন করার দায়িত্ব পড়ে পরিবারের একাংশের উপর ৷ তাকে বলা হয় পালাদার ৷ প্রাচীন নিয়মে নির্দিষ্ট করা হয়, কে হবেন পালাদার ৷ দেবসেবার ব্যয় বহনের জন্য রাধাকান্ত দেব স্থাপিত তাঁরই নামাঙ্কিত নিজস্ব এস্টেট আছে ৷ এস্টেটের অন্যান্য কাজের মধ্যে অন্যতম সম্বৎসরের দেবসেবার ব্যয়বহন ৷

    গোবিন্দজী ও গোপীনাথজীর নিত্যসেবায় রোজ সকালে থাকে আতপচাল, দুধ ও কলা ৷ সন্ধ্যায় লুচি, মিঠাই চাকতি বা একপ্রকার মিঠে গজা, ক্ষীরের মিষ্টি দেওয়া হয় গৃহদেবতাকে ৷ নিত্যসেবার জন্য যে পুরোহিত থাকেন রাজবাড়িতে তাঁকে বলা হয় হয় অধিকারীমশাই ৷

    স্নানযাত্রা ও তার পর রথযাত্রা থেকেই এ বাড়ির ঠাকুরদালানে দশভুজার আগমনের প্রস্তুতি শুরু ৷ সোজা রথের দিন বড় তরফে এবং উল্টোরথের তিথিতে ছোট তরফে শারদোৎসবের খুঁটিপুজো হয় ৷

    গত বছর থেকে উৎসবের আনন্দ ম্লান হলেও এ বছরও সব রীতি মেনে পালিত হল গৃহদেবতার স্নানযাত্রা ও হোম ৷ সনাতন রীতির পাশাপাশি ছিল অতিমারিবিধিও ৷ সবকিছুর মাঝে সকলের মঙ্গলপ্রার্থনায় স্নানাভিষেক হল প্রাচীন বনেদি পরিবারের গৃহদেবতাদের ৷ সাক্ষী থাকল বহু ইতিহাসের ধুলোরেণু মাখা দালান ৷

    (ঋণস্বীকার-হরানো দিন পুরানো কথা, প্রতীপ দেব

    ছবি ও ভিডিয়ো সৌজন্য-সৌমিত নারায়ণ দেব ও তীর্থঙ্করকৃষ্ণ দেব )

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: