প্রেম বা চুমু কখনও দিনক্ষণ দেখে আসে না ! জুটে যায় ! আজ হলই বা সরস্বতী পুজো

প্রেম বা চুমু কখনও দিনক্ষণ দেখে আসে না ! জুটে যায় ! আজ হলই বা সরস্বতী পুজো
photo source collected

প্রেম ভালবাসা চুমু কি আর দিনক্ষণ দেখে হয় ! ও তো জুটে যায়। ঠিক যেমন হঠাৎ করেই জুটে যায় বন্ধুর বাড়ির ছাদ !

  • Share this:

#কলকাতা: অনি কলেজে ঢুকেই প্রেমে পড়লো রাইয়ের। পড়তে নয়, যেন প্রেমে পড়তেই এসেছিল। চোখাচোখি থেকেই মন পেতে চাইলো ঠোঁটের ছোঁয়া। বন্ধুরা কড়া প্রহরী। আনকোরা অনি চেনে না শহরের প্রেমের গলি। কিন্তু আজ যে সরস্বতী পুজো। একটু একান্তে কোথাও না বসতে পারলেই যে নয়। সেই শপিং মল বা সিনেমা হল বড্ড একঘেয়ে। রাই বললো," চল সোজা ভিক্টোরিয়ায় যাই"। রানির বাগানে আবার সর্বক্ষণ হ্যাংলা দর্শকের আনাগোনা। তবুও ঝোপেঝাড়ে চলছে ঘাম-চুমু খেলা। প্যাঁ-পুঁ বাঁশির নজর বাঁচাতেই চুমুওয়ালাদের বেলা গড়িয়ে দুপুর। ধুস ! ধুস ! এখানে আবার প্রেম জমে নাকি? হাত ধরবে কি তার আগেই দশ চক্ষু রাইয়ের হলুদ শাড়ির ফাঁকে উঁকিঝুঁকিতে ব্যস্ত। রাইয়ের মন অস্থির, অনিকে কোথায় নিয়ে যায়। পালাতে পালাতে পায়ে হেঁটে ময়দান।

মাঠে বসতেই পিছনে ঘোড়ায় সওয়ারি বাঁশিওয়ালা। ইনি বাঁশি-কেষ্ট নন, ধিনি কেষ্ট। মাঠে বসলেই খেদিয়ে দেন। কী মুশকিল ! একে তো বাঁদরওয়ালার ' দে দো বাবু'তে কান ঝালাপালা তায় আবার বসায় এত মানা! এ শহর কি প্রেম করে না ? বাঁচে কী করে এরা ! ব্যাজার মুখে হাঁটতে হাঁটতে ময়দানের পাশে জায়গা জুটলো এলিয়ট পার্কে। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে ! এমন জায়গা থাকতে ঘুরে মরা ! দামড়া লোকগুলো অন্যের শরীরের আনাচে কানাচে হাত বুলিয়ে মহা মজা পাচ্ছে। আড়চোখে অনির পাংশু মুখ দেখে রাইয়ের শরীরেও বরফ কুচি। আচ্ছা, প্রেমিকার মতো, "মানব বোমা" পাশে থাকতে কেউ কি ব্যাগে 'টাইম বোমা' রাখে ! কে বোঝাবে এদের। যাইহোক সব পেরিয়ে গাছ তলায় বসে একটু হাতে হাত রাখতেই কেলো। জগিং করতে আসা পিসিমণির দুষ্টু চাহনি। ধুর বাবা ! এখানেও মুক্তি নেই। বিরক্ত হয়ে অনি বললো," চল তো বাড়ি ফিরি।" কী আর করে রাই? চুমুর বারোটা বাজিয়ে ময়দান মেট্রোতে ওঠে। তবে একেই বলে ভাগ্য ফাঁকা জায়গায় যা হল না, ঠাসাঠাসিতে তাই ছুঁয়ে গেল। অনির বুকে তখন রাইয়ের ঘন নিশ্বাস। চিঁড়ে চ্যাপ্টা রাই-অনিকে দেখার মতো ফুসরত নেই অফিস ফেরত যাত্রীদের। রাইয়ের চোখের উপর থেকে চুলটা সরিয়ে অনি গুনগুন করে, "সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি, পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি। জেনো উড়বোই, তুমি ঠোঁটে নিও খরকুটো।"
ফিরতে ফিরতে রাই প্ল্যান করে ফেলল। কাল আর কোনও ঝুঁকি নয় সোজা এমপি। মানে বাবুঘাট। এ বছর আবার দুদিন সরস্বতী পুজো। তাই কালও কলেজে নো ক্লাস। বাড়িতেও নো বাড়তি চাপ। সব মাফ। তবে যদি কপাল হয় মন্দ কি করবে গোবিন্দ! প্রেম তো দূর অস্ত, এখানে বসতে গেলেও পাশের জনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাবে। তবুও কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করেই একঝাঁক ছেলে মেয়ে চেয়ারে বসেই তেড়ে খেয়ে চলেছে চুমু। যেন বিরিয়ানি ! গোগ্রাসে যতটা পার গিলে নাও। আবেগ-টাবেগের নামগন্ধ নেই। কিন্তু এরা কারা ! কলেজ বা স্কুলে নিশ্চয়ই তারা আর যায় না।  না এখানেও বসা যাবে না। দুদন্ড পাশে বসারও যে কোনও জায়গা নেই গোটা শহরে। "জানি না কাঁদায় কেন সহজ সুরে শয়তানি, উত্তর আসবে না, তুমি আসবেই আমি জানি।" চুমুর নয়, শয়তানি দিব্যি খেয়েও এখানে কোনও একান্ত আপন জায়গা জোটানো যাবে না। ইকো পার্ক সে তো ফ্যামিলি প্যাকেজ। আর সেন্ট্রাল পার্ক সেখানে ছাতার মেলা। কারো কারো হাতে আবার এক চোখা ছাতা। সেখানে বসলে রাতে একচোখা দৈত্য স্বপ্নে আসতে বাধ্য। তবে যে সুনীল, শক্তি, জয়, শ্রীজাতরা এত কাব্যি করে, সবই কি শুধু মগজের কারবার ? শহরে না থাক, গ্রামে গঞ্জে কোথাও কি নেই কোনও প্রেমের স্টপেজ ! না কোথাও কোনও জায়গা নেই। চুমুর দিব্যি খেয়ে সেই দারস্থ হতে হল আইনক্সের। অনির হাতে রাইয়ের হাত, সামনে স্ক্রিনে 'দ্বিতীয় পুরুষ"। এখানে বাতিওয়ালার উৎপাত নেই। লালবাতি, নীলবাতি কুপোকাত। চুমুর ইচ্ছে অনির ঠোঁট থেকে উড়ে গিয়ে বসলো 'দ্বিতীয় পুরুষ'-এর ঠোঁটে। মেলায়, রাস্তায়, হলে, গঙ্গার ঘাটে শুধু হাতে রইল আর একটি হাত। ঠোঁটে ঠোঁট মেলানোর জায়গাই যে জুটলো না। আসলে এই বয়সের প্রেম অনেকটা এমনই হয়। সরস্বতী পুজোর আলোতে মাখামাখি হয়ে থেকে যায়। কোনো রাই-অনিরাই গুছিয়ে চুমুটা খেয়ে উঠতে পারে না। হাতে হাত তো থাকে। কনুইয়ের ছোঁয়াতে মজা তো থাকেই। আর থাকে হোয়াটসঅ্যাপে 'মুহহহা' আর লাভ ইমোজি। প্রেম ভালবাসা চুমু কি আর দিনক্ষণ দেখে হয় ! ও তো জুটে যায়। ঠিক যেমন হঠাৎ করেই জুটে যায় বন্ধুর বাড়ির ছাদ বা শহুরে ফাঁকা গলি কিম্বা কোনও ফ্লপ সিনেমার শো। যেখানে চুমু এসে পড়ে নিজের ছন্দে। মন বলে ওঠে, 'এখুনি জল ছুঁয়ে জাগবে অধরের শ্বাস, বারো মাস।" সোশ্যাল মিডিয়ার কচকচানির মাঝেও সেই চুমুটাই জীবনের প্রথম চুমু হয়ে থেকে যায়। যেমন থাকে শুকনো গোলাপ ডায়েরির পাতায়। তার জন্য দরকার হয় না কোনো পুজো বা স্পেশ্যাল দিনের। এই চুমুর কোনো সেলফি হয় না !
First published: January 29, 2020, 10:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर