একলা থাকবে? কলকাতার প্রশ্ন চিহ্নে নাকাল হচ্ছে মেয়েরা, শহর নাকি প্রাপ্তবয়স্ক !

Last Updated:

সারাদিন ধরে একের পর বাড়ি ভাড়াতে 'রিজেকশন' । কিন্তু ঘর তো একটা চাই । কি আর করা যাবে ? পরের উইকএন্ডে আবার অফিস কলিগদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ে নিধি।

#কলকাতা: আপনি কি একলা মেয়ে ? পেশার তাগিদে শহরে ঘর খুঁজছেন ? সব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে এই শহরে আপনার ঠাঁই নেই! শত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও ‘ঘর’ পাবেন না । তবুও যদি কপাল জোরে ঘরের খোঁজ পান, গুণতে হবে মোটা টাকা ।
খাতায় কলমে শহরের বয়স বাড়ছে ঠিকই । কিন্তু মনের দিক থেকে ? আদৌ কি প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে আমার 'তিলোত্তমা' ? উত্তরটা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে ।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয় । আমার এক অফিস কলিগের থেকেই শোনা গল্পটা । ওরই একজন পরিচিত নিধি শর্মা । দিল্লির একটি মাল্টিন্যাশনাল সংস্থায় কাজ করত । ট্রান্সফার করা হয় তাঁকে কলকাতায় । একেবারে অচেনা শহরে এসে একটু নার্ভাস হয়েছিল বটে নিধি । কিন্তু অফিস কলিগদের আতিথেয়তায় সে ভুলেই গিয়েছিল যে, নতুন শহরে এসে পড়েছে সে । প্রথম ক'দিন অফিসের গেস্ট হাউসে দিব্বি কেটেছিল তার । কিন্তু একমাসের মধ্যেই ঘর খুঁজতে হবে । অচেনা শহরে তাই অফিস কলিগই ভরসা । তাদেরকেই বলেছিল নিধি একটা ভাড়া ফ্ল্যাট খুঁজে দেওয়ার জন্য । অবশেষে, একটা ছুটির দিনে আয়েশা তার দুই অফিস কলিগকে নিয়ে ঘর খুঁজতে বেরোয় । কিন্তু শহরে একলা মেয়েকে ঘর ভাড়া দেওয়া নিয়ে যে একটা বড়সড় ট্যাবু রয়েছে , তা নিধির অফিস কলিগরা কানাঘুষো শুনলেও সেদিন চাক্ষুষ করল ।
advertisement
advertisement
দমদম । ট্রেন, বাস, মেট্রো । যা চাই । সবই হাতের মুঠোয় । 'ব্রোকার'-দাদাদের ধরে কোনওমতে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে দিন পেরিয়ে রাত হয়ে অবশেষে নিরাশ হয়ে ফিরে এল তারা । তবে, ঘরের আকাল কিন্তু নেই । একলা মেয়ে । দিল্লিতে থাকে । শুনেই কেমন যেন নাক সিঁটকে দৌড় দিচ্ছিলেন সকলে । আবার কেউ কেউ তো বলেই বসলেন, 'একলা মেয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে উটকো ঝামেলা বাড়াই আর কি ! রাত বিরেতে শুরু হবে শেষে বেল্লালাপানা । কে সামলাবে ? না বাবু ওসব হবে না । এটা ভদ্দরলোকের পাড়া ।'
advertisement
সারাদিন ধরে একের পর বাড়ি ভাড়াতে 'রিজেকশন' । কিন্তু ঘর তো একটা চাই । কি আর করা যাবে ? পরের উইকএন্ডে আবার অফিস কলিগদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ে নিধি। এবার ডেস্টিনেশন দক্ষিণ কলকাতা । দক্ষিণ কলকাতায় মেস বা পিজি ভাড়া বলতে বেশির ভাগ লোক যাদবপুরকেই বেছে নেয়। যাতায়াতের সুবিধে। বাস-ট্রেন, এমনকী সামনেই মেট্রো স্টেশন। আর সবথেকে বড় কথা, ‘কলোনি’র তকমা ঝেড়ে এখন ফ্ল্যাট সংস্কৃতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে অনেকটাই আধুনিকতার মোড়কে মুড়ে নিয়েছে যাদবপুর । ওই তল্লাটে প্রচুর ফাঁকা ঘরও পাওয়া যায়। তুলনামূলক ভাড়া একটু বেশি । কিন্তু মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে যাদবপুর এখনও কলকাতার 'সেরা ঠিকানা' । তবে, যাদবপুর সাজ পোশাকে আধুনিক হয়েছে বটে । কিন্তু মন ? সেদিক থেকে দেখতে গেলে যাদবপুরও এখনও আটকে আছে সেই সংকীর্ণ চিন্তা-ভাবনায়! সেখানে ভাড়া খুঁজতে গিয়ে তো আরও অপমানিত হতে হল আয়েশাকে । 'একাধিক ছেলে কিন্তু একেবারেই অ্যালাউ করব না ।' কিংবা কখনও শুনতে হল 'রাত দশটার পর বাড়ি ফেরা যাবে না ।' আবার কেউ তো বলেই বসলেন, ‘পেপারে যা দেখছি ৷ রাত বিরেতে যদি কিছু হয় ৷ কে থানা পুলিশ করবে ? অত ঝক্কি পোয়াতে পারব না ৷’
advertisement
অবশেষে, তাদের 'ব্রোকার' দাদা অজয়ই আয়েশার অসহয়তার অবস্থা বুঝে সলিউশন দিল তাকে । তাঁর স্পষ্ট কথা, 'ম্যাডাম । আপনি একা মহিলা । কলকাতায় এমন মেয়েকে একলা ফ্ল্যাটে হোক কিংবা বাড়ি ভাড়া । কেউ দিতে চাইবে না । আপনি বরং সল্টলেকের দিকটায় একবার দেখতে পারেন ।' এই আলাপ আলোচনা চলাকালিনই ওই ব্রোকার দাদার থেকেই সল্টলেকের এক ব্রোকারের নাম নম্বর পায় নিধি । তত্ক্ষণাৎ আর দেরি না করেই সটান সল্টলেকের উদ্দেশে রওনা।
advertisement
শান্ত শিষ্ট । গোছান একটা জায়গা । কলকাতার মধ্যে হলেও কেমন যেন একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা । তবে, কি এখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে নিধি ? যথারীতি ওখানে পৌঁছেই ফোন করল সে ওই ব্রোকার দাদাকে । ফোন করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাইকে করে হাজির ব্রোকার দাদা । সে বলল, 'অজয়ের থেকে আমার সবটাই শোনা । আপনার কোনও সমস্যা হবে না । অনেকেই বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দেওয়ার জন্য এখানে ফেলে রাখেন বাড়ি । আর নিজেরা বিদেশে থাকেন । শুধু মাসের একেবারে প্রথম তারিখে ব্যাঙ্কে টাকা পড়ে যাওয়া চাই ।' ব্রোকারের কথা শুনেই আনন্দে লাফিয়ে উঠল নিধি । কাঠখড় অনেক পোড়াতে হল ঠিকই । কিন্তু থাকার একটা বন্দোবস্ত তো হল ।
advertisement
এ তো গেল নিধির কথা । আমাদের শহরে এমন কত মেয়ে রয়েছে । যাদের প্রতিদিন নাভিশ্বাস উঠছে শহরে একটা একা থাকার ঘর খুঁজতে গিয়ে । তিলোত্তমা । যে শহরের সঙ্গে একটা প্রবাদ আদিম কাল থেকে প্রচলিত রয়েছে । কলকাতার মন উদার । সকলকে আপন করে নিতে পারে । কিন্তু কোথায় সেই উদারতা-ভালবাসা ? দিনকে দিন কলকাতা যেন অচেনা হয়ে উঠছে তাদের পরিচিতদের কাছেই ।
advertisement
view comments
বাংলা খবর/ খবর/ফিচার/
একলা থাকবে? কলকাতার প্রশ্ন চিহ্নে নাকাল হচ্ছে মেয়েরা, শহর নাকি প্রাপ্তবয়স্ক !
Next Article
advertisement
Burdwan News: বর্ধমান মাতালেন ব্যারেটো বাইচুং, ইস্ট মোহনের লড়াইয়ে জিতল কারা?
বর্ধমান মাতালেন ব্যারেটো বাইচুং, ইস্ট মোহনের লড়াইয়ে জিতল কারা?
  • বর্ধমান মাতালেন হোসে রামিরেজ ব্যারেটো এবং বাইচুং ভুটিয়া। তাঁদের নাম এখনও ফুটবল প্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। সেই কিংবদন্তি ফুটবলারদের অতীত দিনের ঝলক আবার দেখা গেল বর্ধমানে। মাঠভর্তি দর্শক উপভোগ করল তাঁদের উদ্যম, উদ্দীপনা।

VIEW MORE
advertisement
advertisement