advertisement

মাধ্যমিকের আগে একটানা ৪০ মিনিটের বেশি পড়া নয়, বলছেন সাইকোলজিস্ট

Last Updated:
মাধ্যমিক পরীক্ষা একেবারেই দোরগোড়ায়৷ জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে কাজ করে অজানা ভয়, টেনশন, আবার তেমনই থাকে উত্তেজনাও৷ এই সব কিছুর সঙ্গে যোগ হয় বাবা, মায়ের প্রত্যাশার চাপ৷ সব কিছু সামলেও ভাল ভাবে পরীক্ষা কীভাবে দেবে সেই টিপস দিচ্ছেন সাইকোলজিস্ট ইন্দ্রাণী ব্যানার্জি সারঙ্গি৷
উ: পরীক্ষা নিয়ে আসলে একটা অদ্ভুত চাপা টেনশন কাজ করে৷ সেটার জন্য কিন্তু পড়ুয়াদের দোষ দেওয়া যায় না৷ বাড়িতেই একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়৷ বেশি নম্বর পেতে হবে, রাত জেগে পড়তে হবে, এগুলো বলতে থাকলেই ওদের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়৷
আমাদের বুঝতে হবে অনেক ছেলেমেয়েই কিন্তু ভাল পড়াশোনা করেও আর্থিক কারণে মাধ্যমিক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না৷ আবার অন্যদিকে চিন্তা করলে দেখবে এই পরীক্ষাটা কিন্তু তোমরা একা দিচ্ছ না, সারা দেশের লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে একসঙ্গে এই পরীক্ষাটা দিচ্ছে৷
advertisement
advertisement
এত দিন ধরে যে পড়াশোনা, এত পরিশ্রম এবার কিন্তু সেটা সার্টিফায়েড হতে চলেছে৷ এগুলো ভাবলে কিন্তু একটা পজিটিভ ফিলিং তৈরি হবে৷ যখন চাপ কমে এক্সাইটমেন্টটা বাড়বে৷ কারণ চাপে থাকলে কিন্তু কখনই নিজের সেরাটা দেওয়া যাবে না৷ বাবা, মায়েদেরও বাড়ির পরিবেশ সহজ রাখতে হবে৷ কারণ শুধু দিনে ১৮ ঘণ্টা পড়লেই কিন্তু ভাল ফল করা যায় না৷
advertisement
প্র: এই যে ১৮ ঘণ্টা পড়ার কথা বলছেন, সত্যিই কি ১৮ ঘণ্টা মনযোগ দিয়ে পড়া যায়? বা যা পড়া হচ্ছে অতটা কি মাথায় রাখা সম্ভব হয়?
উ: না, থাকে না৷ আমরা সকলেই নিজস্ব ক্ষমতা নিয়ে জন্মাই৷ প্রত্যেকে আলাদা৷ কেউ ১৬ ঘণ্টা পড়তে পারে, কারও জন্য ৮ ঘণ্টাই যথেষ্ট৷ কিন্তু দেখা যায় এরা দুজনেই হয়তো একই নম্বর পাচ্ছে৷ আর এখান থেকে একটা খারাপ লাগা তৈরি হয়৷ যে আমি যতটা দিলাম, ততটা পেলাম না৷ তাই কোয়ান্টিটি নয়, জোর দিতে হবে কোয়ালিটিতে৷
advertisement
Graphic: News18 Bangla Graphic: News18 Bangla
প্র: সেটা কীভাবে করতে পারে তারা?
উ: প্রথমেই বলবো পরীক্ষা মানে কিন্তু খেলাধুলো সব ছেড়ে দেওয়া নয়, ৩ মাস বাড়ি থেকে না বেরিয়ে বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকা নয়৷ এমনটা হলেই কিন্তু পড়াশোনার প্রতি একটা নেগেটিভ মনোভাব তৈরি হয়৷ দ্বিতীয়ত, সারাক্ষণ বকা খেতে থাকলে পড়ুয়াদের মনে হয় যা করছি বাবা, মায়ের জন্য করছি৷ তাই তোমাদের বুঝতে হবে যে জীবনটা অনেক বড়৷ আমাদের পরবর্তী জীবনটা যাতে সুন্দর হয় তার জন্য এখন পড়াশোনা করাটা জরুরি৷ বাবা, মায়ের জন্য নয়৷ নিজের জন্য৷
advertisement
প্র: কিন্তু বাবা, মায়েরাও তো ঠিক এভাবেই চাপ দিতে থাকেন৷ যে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা ভাল হলে তবেই জীবনটা সুন্দর হবে...
উ: এখানে বাবা, মায়েদের জন্য আমি বলবো নিজের সন্তানকে বুঝুন৷ কীভাবে তার মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালটা বার করে আনা যায় সেটা আপনাদের থেকে ভাল কেউ জানে না৷
advertisement
পাশের বাড়ির কেউ ১৬ ঘণ্টা পড়লেই আপনার সন্তানকেও সেই চাপ দেবেন না৷
সে হয়তো ৮ ঘণ্টা পড়তে পারে৷ তার বেশি পড়লে কিন্তু আগের পড়াশোনাটাও তার মাথায় থাকবে না৷
প্র: পরীক্ষা নিয়ে অনেক স্টুডেন্টের মধ্যেই ফোবিয়া বা অজানা একটা আতঙ্ক কাজ করে৷ কারও অঙ্ক নিয়ে, কারও ইংরেজি নিয়ে, কারও বা ভয় কেমিস্ট্রিতে৷ এই ফোবিয়া কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়?
advertisement
উ: অঙ্ক নিয়ে তো বরাবরই ফোবিয়ার কোনও অন্ত নেই, বাংলা নিয়েও এখনকার স্টুডেন্টদের মধ্যে ফোবিয়া কাজ করে৷ ছোট থেকে আমাদের মধ্যে এটা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে আমাদের মূল্য নির্ভর করছে আমরা অঙ্কে কতটা ভাল তার ওপর৷ সুন্দর ছবি আঁকা বা ভাল কবিতা লেখা দিয়ে কিন্তু কাউকে বিচার করা হয় না৷ আমাদের বুদ্ধি, সামাজিক পারদর্শিতা, গ্রহণযোগ্যতা সবটাই মেপে দেওয়া হয় অঙ্কে কত পাচ্ছি তার ওপর৷
Graphic: News18 Bangla Graphic: News18 Bangla
প্র: আর মাত্র কয়েক দিন পর যখন অঙ্ক পরীক্ষা তখন কীভাবে এটার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব?
উ: প্রথমেই এটা মাথায় ঢুকিয়ে নাও যে এটা একটা সাবজেক্ট, কোনও বিপদ নয়৷ ভয় পেলে কিন্তু মনটা ভয়ের দিকেই এত বেশি চলে যায় যে যেটুকু অঙ্ক প্র্যাকটিস করে তৈরি হওয়া যেত, সেটুকু মনও দেওয়া যায় না৷ তাই ভয় পেয়ে যতটা তৈরি হওয়া যায়, ভয় না পেয়ে যদি তার থেকে একটু বেশিও তৈরি হওয়া যায় তাহলে কিছুটা বেশি নম্বর তো উঠবেই৷ সারাজীবন তো আর অঙ্ক করতে হবে না৷ তার চেয়ে বরং এই বেলা যতটা পারছো শিখে নাও৷
প্র: সাবজেক্ট নিয়ে ফোবিয়া ছাড়াও কিন্তু পুরো পরীক্ষা নিয়েও একটা ফোবিয়া কাজ করে৷ উৎকণ্ঠা বাড়লে তখন জানা জিনিসও মনে থাকে না, পরীক্ষার হলে গিয়ে নার্ভাস হয়ে গিয়ে জানা উত্তরও লিখে আসতে পারে না অনেকে৷ ভাল, খারাপ সব স্টুডেন্টদের মধ্যেই কিন্তু এটা দেখা যায়...
উ: পরীক্ষার আগের ৩টে মাস যদি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে জীবনটাকে কঠিন করে তোলা হয় তাহলে কিন্তু উৎকণ্ঠা বাড়বে৷ যথেষ্ট পড়াশোনার পাশাপাশি কিন্তু সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম, বিশ্রাম, পর্যাপ্ত এন্টারটেইনমেন্টও দরকার৷
প্রতিদিন যদি অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুম না হয় তাহলে কিন্তু সারাদিন যতই পড়া হোক সেটা মাথায় থাকে না৷ বিষয়টা কম্পিউটার প্রোগ্রাম সেভ করার মতো৷ রাত ১১-১২টার মধ্যে শুয়ে পড়তেই হবে৷
এছাড়াও পুষ্টিকর খাবার খেতেই হবে, সেই সঙ্গে মন ভাল রাখতে পছন্দের খাবারও খেতে হবে৷ আর প্রয়োজন এক্সারসাইজ৷ দিনে দুবার ৩০-৪০ মিনিট এক্সারসাইজ করা পরীক্ষার সময় ভীষণ জরুরি৷
প্র: মানে আমরা সারা দিন যতটা পড়লাম সেটা মনে গেঁথে নেওয়ার জন্য পড়ার পাশাপাশি এগুলো করতে হবে...
উ: হ্যাঁ, কারণ সাধারণ ভাবে আমরা কিন্তু ৪০ মিনিটের বেশি কনসেনট্রেশন ধরে রাখতে পারি না৷ তারপর আমাদের মনসংযোগ পড়তে থাকে৷ একটা বিষয়ের ওপর আর একাগ্রতা ধরে রাখা যায় না৷ দিনে ৮ ঘণ্টা পড়লেও সেই সময়টাকে ৪০ মিনিট করে ভাগ করে নিতে হবে৷
প্রত্যেক ৪০ মিনিট পর ১০ মিনিট ব্রেক নিতে হবে৷
কিন্তু এই ১০ মিনিট হোয়াটসঅ্যাপ চেক করা যাবে না৷ এই ১০ মিনিট কিন্তু জায়গা থেকে উঠতে হবে, হালকা স্ট্রেচিং করতে হবে, একটু ঘুরে আসতে হবে অন্য ঘর থেকে৷ কারণ এতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন হবে৷ তবেই আবার আমরা মন দিয়ে পড়তে পারবো আর আগের পড়াটাও মনে গেঁথে যাবে৷
view comments
বাংলা খবর/ খবর/ফিচার/
মাধ্যমিকের আগে একটানা ৪০ মিনিটের বেশি পড়া নয়, বলছেন সাইকোলজিস্ট
Next Article
advertisement
Bengal Assembly Election 2026: বাংলায় মাত্র দুই দফায় ভোট! প্রথম দফায় ১৫২ ও দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে! কোথায় কবে, জানুন
বাংলায় মাত্র দুই দফায় ভোট! প্রথম দফায় ১৫২ ও দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে! কোথায় কবে, জানুন
  • ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায়,

  • ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট, ফল প্রকাশ ৪ মে হবে

  • প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে

VIEW MORE
advertisement
ফরচুন কুকি
ফরচুন কুকি ভাঙুন আর ঝটপট জেনে নিন, আজ আপনার জীবনে কী সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে!
fortune cookie
advertisement