• Home
  • »
  • News
  • »
  • features
  • »
  • MILKHA SINGH STARTED HIS RUN SINCE HIS CHILDHOOD TO SURVIVE ARC

Milkha Singh : ডাকাত হওয়া হল না, বেটির বাড়িতে সাজানো আছে মিলখার দেওয়া নীল পাগড়ি

মিলখা সিং (১৯২৯-২০২১)

প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করেছিলেন ৷ পরে টের পেলেন এর নাম, জীবনযুদ্ধ ৷ যে যুদ্ধ মিলখা সিংয়ের (Milkha Singh) জন্য চিত্রনাট্যে লেখা ছিল জীবনের শুরুতেই ৷

  • Share this:

    বাড়ি থেকে স্কুলের দীর্ঘ পথ হাঁটতেন না ৷ ছুটতেন ৷ তখন অবশ্য জানতেন না একে বলে ‘দৌড়’ ৷ চোখের সামনে রক্তের হোলিখেলায় লুটিয়ে পড়তে দেখেছিলেন বাবা, মা, এক ভাই এবং দুই বোনকে ৷ প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করেছিলেন ৷ পরে টের পেলেন এর নাম, জীবনযুদ্ধ ৷ যে যুদ্ধ মিলখা সিংয়ের (Milkha Singh) জন্য চিত্রনাট্যে লেখা ছিল জীবনের শুরুতেই ৷

    ১৯২৯ সালের ২০ নভেম্বর যেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই গোবিন্দপুর এখন পঞ্জাবের মুজঃফরগড়ে ৷ ১৫ জন ভাইবোনের মধ্যে একজন হয়ে দিন কাটছিল গ্রামের ধুলোয়, গমের খেতে ৷ তাও অল্প কিছু বছরের জন্য ৷ দেশভাগের আগেই মারা যান আট জন ভাইবোন ৷

    এক দিদি সংসার করছিলেন দিল্লিতে ৷ তাঁর কাছেই ঠাঁই হল অনাথ মিলখার ৷ কিন্তু ঠাঁইনাড়া হতে হল কিছু দিনের মধ্যেই ৷ বিনা টিকিটে রেলসফরে মিলখাকে যেতে হল তিহাড় কারাগারে ৷ গয়না বেচে ভাইয়ের মুক্তির ব্যবস্থা করলেন দিদি ৷ কিন্তু তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ভাইয়ের থাকার মেয়াদ আর বাড়াতে পারলেন না ৷

    ক্রমে শরণার্থী শিবিরবাসী তরুণ মিলখা ঠিক করে নিয়েছিলেন তাঁর জীবনের লক্ষ্য—তিনি ডাকাত হবেন ৷ সে ইচ্ছে পূর্ণ হল না দাদা মলখনের দৌলতে ৷ ভাইকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে পরামর্শ দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের ৷

    সেখানেও বিধিবাম ৷ পর পর তিন বার ব্যর্থতা ৷ ১৯৫১ সালে, চতুর্থ বারের প্রচেষ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রবেশাধিকার পেলেন মিলখা ৷ সেকেন্দরাবাদে ইলেকট্রিক্যাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টারে শুরু হল কাজ ৷ জীবনের অভিধানে প্রথম বার পা রাখল ‘অ্যাথলেটিক্স’ শব্দ৷ নতুন নিযুক্তদের মধ্যে বাধ্যতামূলক দৌড়ের ইভেন্টে তিনি ষষ্ঠ স্থান পেলেন ৷ তাঁর প্রতিভা ধরা পড়ল জহুরির চোখে ৷

    শুরু হল তালিম৷ জীবনের দৌড়ে জুড়ল নতুন গতি ৷ মিলখা শুনলেন এই গতি নাকি দেশকে পদকও এনে দিতে পারে ! শৈশবে স্মৃতিকে পাখির চোখ করে দৌড়তেন তিনি ৷ চারপাশে সব অদৃশ্য হয়ে যেত, মিলখা দৌড়তেন সেই গোবিন্দপুর গ্রামে অথবা গ্রাম থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ৷

    দৌড়তে দৌড়তেই ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক্সের সুযোগ ৷ ফিরেছিলেন পদকশূন্য কণ্ঠ এবং অভিজ্ঞতায় ভরপুর হৃদয় নিয়ে ৷ মেলবোর্নেই আলাপ আমেরিকান অ্যাথলিট চার্লস জেনকিন্সের সঙ্গে ৷ সেই আলাপ অনুরণিত হয়েছিল অনুপ্রেরণা রূপে ৷

    এর পর ১৯৫৮-য় টোকিয়ো এশিয়ান গেমসে দু’টি সোনা ৷ স্বর্ণপদক এল ১৯৫৮ কমনওয়েলথ গেমসেও ৷ দেশবাসীর স্বপ্ন জমাট হচ্ছিল ১৯৬০-এর রোম অলিম্পক ঘিরে৷ কিন্তু ৪০০ মিটার ফাইনালের শেষে মিলখার নামের পাশে ‘ট্র্যাজিক নায়ক’-বিশেষণ ৷ সেকেন্ডের ভগ্নাংশের অমোঘ হিসেবে অধরাই থেকে গেল পদক ৷ দেশবাসীর চূর্ণ স্বপ্নে কি প্রশমন হতে পেরেছিল ১৯৬২ এশিয়ান গেমসের একাধিক স্বর্ণপদক?

    অলিম্পিক্সে ‘উড়ন্ত শিখ’-এর স্বপ্নভঙ্গের ক্ষত কিন্তু প্রশমিত হয়নি ৷ যদিও তাঁর জীবনে পাওয়ার পাল্লা ভারী হয়েছে ক্রমশ ৷ পঞ্জাব সরকারের ক্রীড়া দফতরের অধিকর্তা হয়েছিলেন মিলখা ৷ আকৈশোর ছিন্নভিন্ন পরিবার দেখতে অভ্যস্ত চোখদুটির সামনে ঘরসংসার নিপুণ হাতে সাজিয়েছিলেন স্ত্রী নির্মল৷ এক সময় মহিলাদের জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক নির্মলের সঙ্গে প্রথম আলাপ ১৯৫৫ সালে শ্রীলঙ্কায় ৷ পারিবারিক বাধা পেরিয়ে পরিণয় আরও ৭ বছর পর ৷ তিন মেয়ে এবং এক ছেলে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পরও দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেননি তাঁরা ৷ ১৯৯৯ সালে দত্তক নেন কার্গিল যুদ্ধে নিহত শহিদের সাত বছর বয়সি এক সন্তানকে ৷

    দান করে দিয়েছেন অর্জিত পদক ৷ এখন সে সব সাজানো আছে পাতিয়ালা স্পোর্টস মিউজিয়ামে ৷ ১৯৬০ সালের অলিম্পিক্সে ব্যবহৃত জুতোও তিনি দিয়ে দিয়েছিলেন চ্যারিটি শো-এ ৷ নিজের বায়োপিকের জন্যেও মাত্র ১ টাকা সাম্মানিক নিয়েছিলেন মিলখা ৷ শর্ত দিয়েছিলেন ছবি থেকে লভ্যাংশের বড় অংশ দিতে হবে মিলখা সিং চ্যারিটেবল ট্রাস্টে ৷ যে ট্রাস্টের উদ্দেশ্য দরিদ্র ও অভাবী খেলোয়াড়দের সাহায্য করা ৷

    তিনি নিজেও অকুণ্ঠ সাহায্য পেয়েছেন? সে ক্ষেত্রে বলতেন স্ত্রীর কথা ৷ নির্মল থেকে তাঁর আদরের ‘নিম্মি’ ৷ মিলখা নিজে ম্যাট্রিকুলেশনের পর আর পড়তে পারেননি ৷ তাঁর চার সন্তান যে উচ্চপ্রতিষ্ঠিত, তার কৃতিত্ব স্ত্রী নির্মলার ৷ বলতেন মিলখা ৷ কারণ তিনি সময় দিতে পারতেন না পরিবারে ৷ তাঁর সঙ্গে নির্মলার বয়সের ব্যবধান ছিল ৯ বছরের ৷ অতিমারিতে বিদায় নেওয়ার দিকে দুজনের মাঝে ফারাক কয়েক দিনের ৷ বেশিদিন একা থাকতে হল না কাউকেই ৷

    পার্থিব জীবনের বাইরে অন্য ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে আবার দেখা হয়েছে দু’জনের ৷ সেখানে অপেক্ষা করে আছেন বেটি কাথবার্টও ৷ অস্ট্রেলীয় এই অ্যাথলিটের কথা স্ত্রীর কাছে গোপন করেননি মিলখা ৷ ১৯৫৬-র মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে অষ্টাদশী বেটি প্রেমে পড়েছিলেন মিলখার রঙিন পাগড়ির ৷ মিলখা নিজের হাতে বেটির মাথায় পরিয়ে দিয়েছিলেন নীল পাগড়ি ৷ পরে ক্ষীণ হয়ে এসেছিল যোগাযোগ ৷ ২০০৬ সালে মেলবোর্নে কমনওয়েলথ গেমসের সময় মিলখা ফোন করেছিলেন বেটির বাড়িতে ৷ ফোন ধরেছিলেন বেটির ছেলে ৷ চিনতে পেরেছিলেন মিলখাকে ৷ জানিয়েছিলেন, বেটি চলে গিয়েছেন ক্যানসারে ৷ তবে তাঁদের বাড়িতে রাখা আছে সেই নীল পাগড়ি ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: