• Home
  • »
  • News
  • »
  • features
  • »
  • উত্তম কুমারের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শুনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছিলেন শ্রোতারা

উত্তম কুমারের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শুনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছিলেন শ্রোতারা

উত্তম আবেগের থেকেও সেদিন তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে এসেছিল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র নস্ট্যালজিয়া ৷ আর সে কারণেই হিট হয়নি উত্তম কুমারের মহালয়া ৷

উত্তম আবেগের থেকেও সেদিন তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে এসেছিল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র নস্ট্যালজিয়া ৷ আর সে কারণেই হিট হয়নি উত্তম কুমারের মহালয়া ৷

উত্তম আবেগের থেকেও সেদিন তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে এসেছিল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র নস্ট্যালজিয়া ৷ আর সে কারণেই হিট হয়নি উত্তম কুমারের মহালয়া ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: তিনি ছিলেন বাঙালি হৃদয়ের প্রমিক পুরুষ, তাঁর চাহনি আর ভঙ্গিমায় বুঁদ হয়ে গিয়েছিল আট-আশি বাঙালি হৃদয়, তাঁর কথা বলাকে যেন মর্ম দিয়ে অনুভব করতেন দর্শকরা ৷ কিন্তু এ হেন উত্তম কুমারকেও শূন্যহাতে ফিরিয়ে দিয়েছিল বাঙালি ৷ উত্তম আবেগের থেকেও সেদিন তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে এসেছিল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র নস্ট্যালজিয়া ৷ আর সে কারণেই হিট হয়নি উত্তম কুমারের মহালয়া ৷ শরতের হালকা ঠান্ডা, শিউলি ভেজা সকালে জলদগসম্ভীর স্বরে রেডিও থেকে ভেসে আসা সেই কণ্ঠ- ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে...৷’ বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ না শুনলে আজও বাঙালির ঘরে পুজো আসে না ৷ আজও ‘জাগো দুর্গা’র সঙ্গে বয়ে আসে মায়ের আগমণের আনন্দধ্বনি ৷ আলোর বেণু বেজে ওঠে আধা আলো ফোটা, আধা ঘুম ভাঙা প্রতিটা ঘরে ঘরে ৷

    Mahalaya1 আকাশবাণী কলকাতা থেকে ১৯৩২ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল মহালয়ার সরাসরি সম্প্রচার ৷ ১৯৬২ পর্যন্ত চলছিল এই রীতি ৷ তারপর আগে থেকে রেকর্ড করে রাখা মহালয়ার অনুষ্ঠান সেদিন চালানো হত ৷ আজও চলছে সেই পরম্পরা ৷ আসলে মহালয়া মানেই সেই তিন পরিচিত কণ্ঠ ৷ পরিচিত সুর, গলার ওঠা-নামা, সেই বিশুদ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণ... সবক’টা অক্ষর যেন মুখস্থ ৷ সংস্কৃত রূপকের অন্তর্গত বীথি গদ্যশৈলীর অনুসরণে মহিষাসুরমর্দিনী রচনা করেছিলেন উত্তর কলকাতার বাগবাজারের এক ব্রাহ্মণ যুবক, নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য ৷ কিন্তু সকলের কাছে তিনি পরিচিত বাণীকুমার নামে ৷ লাতিন শব্দ Oratorium শব্দ থেকে Oratorio শব্দটি এসেছে ৷ এর অর্থ ভক্তিমূলক সঙ্গীতকে সমবেতভাবে উপস্থাপন করা ৷ ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ এই ধারায় রচিত হয়েছিল ৷ গানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক ৷ শুধু গান নয়, পরিচালনার ভারও তাঁর ঝুলিতেই ৷ কড়া পরিচালক ছিলেন তিনি ৷ রিহার্সালে একটা দিন ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ ছিল না কারও ৷ এমনকি তাঁর কঠোর অনুশাসন থেকে মুক্তি পাননি স্বয়ং হেমন্ত মুকোপাধ্যায়ও ৷ তখন হেমন্তবাবু স্টার ৷ মুম্বইয়ের কাজ ছেড়ে অনুশীলন করতে আসা তাঁর পক্ষে অসম্ভব ৷ কেউ কেউ বলেছিলেন, ওঁনার তো গান তোলাই আছে ৷ ক’টা দিন রিহার্সাল করে নিলেই হবে ৷ কিন্তু তারকা কণ্ঠের কাছে সে দিন মাথা নোয়াননি পঙ্কজ মল্লিক, বাণীকুমাররা ৷ বলেছিলেন, ‘কোনও কম্প্রোমাইজ নয় ৷ টিম ওয়ার্ক ভাঙতে পারব না ৷’ শেষ পর্যন্ত দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় গাইলেন ৷ ভালভাবে উতরেও গেল সেই গান ৷

    Mahalaya কিন্তু একবার এই স্টার সিস্টেমের উপর নির্ভর করতে গিয়ে বহু নিন্দা কুড়িয়েছিল আকাশবাণী ৷ উত্তম কুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ে সেই মহালয়া বলা যায় একটা বিপর্যয় ছিল ৷ সেখানে না ছিল কোনও সমন্বয়, না ছিল অনুশীলন ৷ শুটিংয়ের ফাঁকে আকাশবাণী এসে নিজের অংশটুকু রেকর্ড করে গিয়েছিলেন উত্তম কুমার ৷ সঙ্গীতের দায়িত্বে ছিলেন হেমন্ত ৷ যেদিন সম্প্রচার হল, সেদিন শুধুই নিন্দা আর সমালোচনা ৷ বাবুঘাটে তর্পণ করতে এসেও লোকে আকাশবাণীর উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিয়েছিল ৷ শুধুমাত্র একটা অনুষ্ঠানকে ভালবেসে, তার জন্য এতটা জনরোষ ভারতের ইতিহাসে কোথাও, কখনও দেখা গিয়েছে কী না সন্দেহ ৷

    First published: