COVID-19 & KIDS: করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের সর্বাধিক সংক্রমণের আশঙ্কা! কীভাবে রক্ষা করবেন আপনার সন্তানকে, জানুন

উঠে আসছে ১৮ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের অত্যধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার খবর

উঠে আসছে ১৮ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের অত্যধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার খবর

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনা মহামারী নিয়ে বর্তমানে চিন্তিত আপামর দেশবাসী। এক দিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে টালমাটাল অবস্থা দেশের, তারই মধ্যে কানে আসছে আরও এক আশঙ্কার খবর। করোনার প্রথম তরঙ্গে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন প্রবীণরা। অন্য দিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যুব সমাজের জন্য। এবার করোনার তৃতীয় তরঙ্গের আশঙ্কায় দিন গুনছে দেশবাসী, আর সেই মুহূর্তেই উঠে আসছে ১৮ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের অত্যধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার খবর।

করোনা কেন প্রথমে তরুণ প্রজন্মের জন্য হানিকারক হয়নি? পরবর্তীকালে কেনই বা এই প্রজন্মের উপর আক্রমণ করছে? বাচ্চারা কি করোনা সংক্রমণ রুখতে কম সক্ষম? বাচ্চাদের জন্য এই মারণ ভাইরাস কি কম গুরুতর? সত্যিটা আসলে কী এবং এর কারণ কী হতে পারে? বাচ্চাদের কোভিড ১৯ সম্পর্কিত বেশ কিছু তত্ত্ব/অনুমান রয়েছে। এই নিয়ে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিকেত রাই (Niket Rai), MBBS, মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজ (Maulana Azad Medical College) এবং লোকনায়ক হসপিটাল, দিল্লির (Lok Nayak Hospital, Delhi) অ্যাসোসিয়েট।

১. নভেল করোনার ভাইরাস (nCoV) ন্যাসোফারিনেক্স, ফুসফুস, অন্ত্র, হার্ট, কিডনির কোষে উপস্থিত ACE2 রিসেপটরের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে প্রবেশ করে। ACE2 মূলত SARS-CoV-2 ভাইরাসের রিসেপটর হিসাবে কাজ করে এবং এটিকে কোষে সংক্রমিত করতে সাহায্য করে। ন্যাসোফারিনেক্স এবং ফুসফুসের এপিথেলিয়ামে ACE2-এর অভিব্যক্তি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়, সুতরাং NCoV-এর সঙ্গে ACE2 রিসেপটরের বন্ধুত্বও বয়সের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়, তাই কম বয়সের জনসংখ্যার মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে। প্রাণী গবেষণায় দেখা যায় যে, nCoV সম্পর্কিত ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে ACE2। nCoV সাধারণত ACE2 রিসেপটরের মাধ্যমে কোষগুলিতে প্রবেশের পরে ACE2-এর প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে nCoV গুরুতর রোগ সংক্রমণে সমর্থ হয়।

২. এন্ডোথেলিয়াম (রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ স্তর) এবং শিশুদের রক্ত জমাট বাঁধার ব্যবস্থাটি (Coagulation System) প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে অনেকটা আলাদা, তাই হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো থ্রম্বোটিক (Thrombotic) জটিলতার সম্ভাবনা তাদের কম থাকে।

৩. শৈশবকালে বেশিরভাগ ব্যক্তির শরীর সাধারণত করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাতে অ্যান্টিবডিগুলির বিকাশ ঘটায়। পূর্বে তৈরি হওয়া এই অ্যান্টিবডিগুলি কোষে নোভেল করোনার ভাইরাস প্রবেশের জন্য বেশ সুবিধাজনক এবং এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

৪. শিশুদের মধ্যে শক্তিশালী সহজাত এবং অভিযোজিত অনাক্রম্যতা থাকে যা তাদের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

৫. শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, COPD ইত্যাদি রোগের সম্ভাবনা কম, তাই তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা কম। এই রোগগুলির জন্যই প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কোভিড ১৯ মারাত্মক আকার ধারণ করে থাকে।

৬. ভিটামিন ডি-র ঘাটতি, যা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেটিভ নামেও পরিচিত, এই ঘাটতি শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি থাকে।

৭. হরমোন মেলাটোনিন, যা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেটিভ নামেও পরিচিত, এটি শিশুদের মধ্যে সর্বাধিক পরিমানে রয়েছে এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা হ্রাস পেতে থাকে। এর পরিমাণ কম হওয়ার ফলে তা করোনা ভাইরাসের হালকা লক্ষণগুলিতে আবদান রাখতে পারে।

৮. এছাড়া বড়দের তুলনায় বাচ্চারা কর্মক্ষেত্র, ভ্রমণ, কেনাকাটা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কমই যায়। তাই কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ বাচ্চাদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কী ভাবে আমরা আমাদের বাচ্চাদের কোভিড সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারি?

কোভিড সংক্রমণ ঠেকাতে হলে বাচ্চাদের সর্বদা সকলের থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মুখ, নাখ সর্বদা মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। খুব ভিড়ে যাওয়া থেকে আপনার বাচ্চাকে বিরত রাখুন। প্রসঙ্গত, আমরা খুব শীঘ্রই হয় তো দু'বছর বা তারও বেশি বয়সের বাচ্চাদের জন্য ভ্যাকসিন পেতে পারি।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: