Home /News /explained /
Coronavirus Isolation: করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর আইসোলেশন কবে শেষ করবেন? জেনে রাখুন বিশদে!

Coronavirus Isolation: করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর আইসোলেশন কবে শেষ করবেন? জেনে রাখুন বিশদে!

সতর্কতা অবলম্বন করার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই কার্যকলাপ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে

সতর্কতা অবলম্বন করার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই কার্যকলাপ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে

Coronavirus Isolation: স্বাস্থ্য আধিকারিকরা যে কোনও উপসর্গকে হালকা ভাবে নিতে অনুরোধ করেছে চলেছেন, পাশাপাশি আইসোলেশনের (Isolation) গুরুত্ব সম্পর্কেও আবেদন করে চলেছেন।

  • Share this:

ক্রমবর্ধমান করোনা (Coronavirus) সংক্রণের মধ্যে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করা এবং একজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওমিক্রন (Omicron) নামক একটি নতুন প্রজাতির বিশ্ব জুড়েই করোনা সংক্রমণের হার বাড়িয়েছে, তাই আমাদের অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এর বিস্তার রোধে কাজ করতে হবে। সতর্কতা অবলম্বন করার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই কার্যকলাপ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা যে কোনও উপসর্গকে হালকা ভাবে নিতে অনুরোধ করেছে চলেছেন, পাশাপাশি আইসোলেশনের (Isolation) গুরুত্ব সম্পর্কেও আবেদন করে চলেছেন।

ভারতে কোভিড রোগীদের জন্য হোম আইসোলেশন নির্দেশিকা:

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক (Ministry of Health and Family Welfare, Government of India) হালকা (Mild) এবং উপসর্গহীন (Asymptomatic) কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে হোম আইসোলেশন (Home Isolation) সংক্রান্ত নির্দেশিকা সংশোধন করেছে। এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে, গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী এবং ভারতে বেশিরভাগ কোভিড রোগীদের মধ্যে কোনও উপসর্গ ছিল না বা খুব হালকা উপসর্গ ছিল। এই ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত রোগীরা বাড়িতেই সুস্থ হয়ে ওঠে চিকিৎসকের নির্দেশিকা এবং পর্যবেক্ষণের অধীনে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার আইসোলেশনের সময়কাল ১০ দিন থেকে কমিয়ে ৭ দিন করেছে সেই সমস্ত রোগীদের, যাদের হালকা উপসর্গ রয়েছে বা একেবারেই উপসর্গ নেই বা যাদের শ্বাসকষ্ট ছাড়াই ৯৩ শতাংশের বেশি অক্সিজেন স্যাচুরেশন (Oxygen Saturation) রয়েছে। করোনা ধরা পড়ার পর কমপক্ষে ৭ দিন পার হওয়ার পরে এবং পর পর ৩ দিন জ্বর না এলে হোম আইসোলেশন শেষ করা যাবে। তবে, তাদের মাস্ক পরা চালিয়ে যেতে হবে। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। তাদের কবে ছাড়া হবে, তা নির্ভর করবে শারীরিক অবস্থার ওপর। আর যাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়বে, তাদের শারীরিক অবস্থা বিচার করে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে টানা ৩ দিন জ্বর, শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন স্যাচুরেশন যদি ৯৩ শতাংশের থেকে কমে যায়, বুকে ব্যথা থাকে, কোনও মানসিক বিভ্রম হয়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকে, তাহলে হোম আইসোলেশনে থাকলে হবে না। হাসপাতালে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা লোকজনের টেস্ট করার প্রয়োজন নেই বরং হোম কোয়ারান্টিনে থাকলেই চলবে।

আরও পড়ুন : নয়া ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রন কি আদৌ কোভিডের বিরুদ্ধে আজীবন ইমিউনিটি দিতে পারবে?

উপরন্তু, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (Indian Council of Medical Research)-র প্রধান বলরাম ভার্গব (Balram Bhargava) বলেছেন যে সংক্রমণ হয়েছে বুঝতে পারার প্রথম দিনেই কোভিড টেস্ট করার দরকার নেই। কারণ, প্রথমদিন যে টেস্টই করা হোক না কেন তা ভুল আসার সম্ভাবনা বেশি। তিনি বলেন, "শরীরে ভাইরাসের বৃদ্ধি হতে সময় লাগে এবং এটি সুপ্ত সময়কাল হিসাবে পরিচিত। তৃতীয়দিন থেকে অষ্টমদিন পর্যন্ত এটি সনাক্ত করা যায়, এই দিনগুলিই হল ভাইরাসের সংক্রামক সময়কাল। এই কারণেই আইসোলেশন নীতি সংশোধন করা হয়েছে।"

ব্রিটেনে আইসোলেশনের সময় কমিয়ে ৫ দিন করা হয়েছে, এটা কীভাবে কাজ করে?

ব্রিটেনে (UK) হোম আইসোলেশনের সময়কাল ভারতের তুলনায় কম। ওই দেশের নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, কারও যদি কোভিডের উপসর্গ দেখা দেয় বা রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তবে তাকে ৫ দিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। উপসর্গ দেখা দেওয়া বা রিপোর্ট আসার দিন থেকে দিন গোনা হয়। সংশোধিত নীতি অনুসারে, পঞ্চম দিনে কেউ বাড়িতেই টেস্ট করতে পারে, দু'টি পর পর নেগটিভ রিপোর্ট আসলেই আইসোলেশন শেষ করা যাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হোম আইসোলেশন কত দিনের?

ইউএস (US) সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Centers for Disease Control and Prevention) পজিটিভ রিপোর্ট আসার তারিখ থেকে কমপক্ষে ৫ দিনের জন্য আইসোলেশনের পরামর্শ দেয়। তবে এই স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি জানিয়েছে যে উপসর্গ দেখা দেওয়ার তারিখ থেকে কমপক্ষে ৫ দিনের জন্য আইসোলেশন শুরু করা উচিত। কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা লোকজন যদি টেস্ট করাতে না পারে, তবে তাকে ৫ দিনের হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। উপসর্গ না থাকলে হোম আইসোলেশন শেষ করা যাবে। যদিও, রোগ প্রতিরোধ কম এমন বা আগে থেকেই অন্য গুরুতর রোগে ভোগা লোকজনের থেকে দূরে থাকতে হবে অন্তত ১০ দিনের জন্য।

আরও পড়ুন : করোনায় দু'বছরের কম বয়সি শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে কেন? শিশুদের ক্ষেত্রে ওমিক্রনের প্রভাব কতটা মারাত্মক?

ইউরোপে হোম-আইসোলেশন:

ক্রমবর্ধমান কোভিড সংক্রমণ বাড়ার কারণে ফ্রান্স (France) এবং আয়ারল্যান্ড সহ অনেক ইউরোপীয় (Europe) দেশ টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য আইসোলেশনের সময়কাল কমিয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা সংক্রমিত হয়েছে, উপসর্গ দেখা দিয়েছে অথবা কোভিড রোগীর সংস্পর্শে এসেছে। এমনকী কয়েকটি দেশ কোভিড বিধিনিষেধ শিথিলও করেছে, পাশাপাশি কোয়ারান্টিনের নিয়মগুলিও শিথিল করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওমিক্রন প্রজাতির কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক স্থবিরতার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার কারণে ইউরোপীয় সরকারগুলি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ফ্রান্সে টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে তাকে ১০ দিনের পরিবর্তে ৭ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। যদি তার আগেই নেগেটিভ রিপোর্ট আসে এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য কোনও উপসর্গ না থাকে, তবে ৫ দিন পরে আইসোলেশন শেষ করা যাবে।

চিনের 'জিরো কোভিড' নীতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত প্রতিবেদন এবং ভিডিও অনুসারে চিন (China) 'জিরো কোভিড' নীতি নিয়েছে। যার কারণে সরকার নাগরিকদের উপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এটি প্রকাশ্যে এসেছে যে প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বয়স্কদের না কি দুই সপ্তাহের জন্য ধাতব ঘরে রাখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে চিনে এখন প্রায় ২০ মিলিয়ন লোক বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছে, এমনকী খাবার কেনার জন্য তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার উপরেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : এড়িয়ে যাবেন না এই ছোটো উপসর্গগুলি, অজান্তেই বাড়তে পারে আপনার কোলেস্টেরল!

কীভাবে নিজেকে সঠিকভাবে আইসোলেশন করতে হবে?

সেল্ফ আইসোলেশন মানে ঘরে থাকা এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া। এর অর্থ বহির্বিশ্বের সঙ্গে বা কোন ব্যক্তির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না করা। অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতি রুখতে হোম কোয়ারান্টিন (Home Quarantine) এবং আইসোলেশন খুবই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপায় হয়ে উঠেছে। কোভিডের উপসর্গ দেখা দিলে বা কোভিড রোগীর সংস্পর্শে আসার বিষয়টি জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে আইসোলেট করতে হবে। সংক্রমণ আদৌ হয়েছেন কি না তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হল টেস্ট করা। তাই নেগেটিভ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়েই থাকতে হবে।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published:

Tags: Coronavirus, COVID19, Isolation, Omicron

পরবর্তী খবর