Home /News /explained /
Russia Ukraine War: EXPLAINED: ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে না আমেরিকা! কারণ জানলে চমকে উঠবেন...

Russia Ukraine War: EXPLAINED: ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে না আমেরিকা! কারণ জানলে চমকে উঠবেন...

কেন আমেরিকার এমন সিদ্ধান্ত?

কেন আমেরিকার এমন সিদ্ধান্ত?

Russia Ukraine War: কয়েকজন সমালোচক মার্কিন সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) তথ্য অনুসারে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া (Russia) আক্রমণ করার পর থেকে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউক্রেন (Ukraine) থেকে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পালিয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) এখনও পর্যন্ত মাত্র কয়েকশো ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে (Ukrainian Refugees) আশ্রয় দিয়েছে। তা নিয়েই কয়েকজন সমালোচক মার্কিন সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কেন বেশি সংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়নি আমেরিকা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (US President Joe Biden) এবং তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলেছেন যে প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। তবে প্রশাসন বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইউক্রেনীয়দের প্রাথমিক গন্তব্য ইউরোপ হওয়া উচিত। ১১ মার্চ ফিলাডেলফিয়ায় সহযোগী ডেমোক্র্যাটদের একটি বৈঠকে বাইডেন বলেছিলেন, "আমরা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে যাচ্ছি, যদি তারা এখানে আসে।" ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস (Kamala Harris), সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন (Antony Blinken) এবং হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি (Jen Psaki) একই রকম মন্তব্য করেছেন। সাকি ১০ মার্চ বলেছিলেন যে মার্কিন প্রশাসন বিশ্বাস করে যে বিশাল সংখ্যক শরণার্থীরা স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলিতে থাকতে চাইবে। যেখানে অনেকের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রাক্তন নিয়োগকর্তারা রয়েছে।

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট (United States Department of State) বলেছে যে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের ইউরোপে সুরক্ষার অভাব দেখা দিলে তখন তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) সঙ্গে কাজ করবে ওয়াশিংটন। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত নয়। শরণার্থী পুনর্বাসনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। যদিও গত অগাস্টে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর বাইডেন প্রশাসন আফগানদের জন্য প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করেছিল। তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা অন্যান্য শরণার্থীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় গতি আনতে পারে।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে বিরাট আতঙ্ক, সামসাবাদে ঘরের বাইরে বেরোতেই ভয় সকলের! কী ঘটছে জানুন...

আরও শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার দাবি কারা জানাচ্ছে?

তিন ডজনেরও বেশি আইন প্রণেতাদের একটি দল ১১ মার্চের একটি চিঠিতে জো বাইডেনকে বেশি সংখ্যায় ইউক্রেনের শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও 'মানবিক প্যারোল' (Humanitarian Parole) নামে পরিচিত একটি অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউক্রেনীয়দের দ্রুত প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করেছিলেন তাঁরা। যাঁরা চিঠি লিখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে থাকা রাউল রুইজ এই মাসের শুরুতে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের একটি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসাবে পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তে ভ্রমণ করেছিলেন। বাইডেনকে লেখা চিঠিতে রুইজ বলেছেন, "শরণার্থী সঙ্কট সামলাতে বর্তমানে অনেক দেশ নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে। এমন দেশগুলিকে সহায়তা দিতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।"

ইন্ডিয়ানা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান এবং ইউক্রেনীয় অভিবাসী ভিক্টোরিয়া স্পার্টজ বলেছেন যে শরণার্থী সমস্যা ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডের একার সমস্যা হতে পারে না। এক্ষেত্রে তিনি ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelenskyy) স্ত্রী ওলেনা জেলেনস্কার (Olena Zelenska) আবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওলেনা ইউক্রেনীয় নারী ও শিশুদের আশ্রয়ে সহায়তা করার জন্য আমেরিকান মহিলাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দুই ডজনেরও বেশি ইহুদি-আমেরিকান সংস্থার একটি জোট বেশি সংখ্যায় ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাইডেনের উপর চাপ বাড়িয়েছেন। ওই জোট একটি চিঠি বলেছে, "আমেরিকা শরণার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিলে কী ঘটে, তা আমাদের সম্প্রদায় খুব বেদনাদায়কভাবে জানে।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি আরও ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পারে?

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৫১৪ জন ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। মার্চের মাসে কতজন শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য় নেই। জো বাইডেন এই বছরের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাইডেন ইউরোপ (Europe) এবং মধ্য এশিয়ার ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী স্লটের মধ্যে ১০ হাজার আলাদা করে রেখেছেন ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ার জন্য। ইউক্রেনও তার মধ্যে রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে।

মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের কী হবে?

হাজার হাজার ইউক্রেনীয় এবং রাশিয়ানরা আশ্রয় নেওয়ার জন্য মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে অপেক্ষায় রয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আগামীদিনে। এই অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে মার্কিন প্রশাসন প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইউক্রেনীয়র মুখোমুখি হয়েছিল। গত অর্থ বছরের এই সংখ্যাটি ছিল ৬৮০। বেশিরভাগ ইউক্রেনীয়দের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অভিবাসন মামলাগুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ইউক্রেনীয়রা আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছেছে, যদিও তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মার্কিন সরকার শরণার্থীদের জন্য কী করছে?

মার্কিন সরকার ইউরোপীয় দেশগুলিকে শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে। বাইডেন মঙ্গলবার একটি ১৩.৬ বিলিয়ন ডলারের বিলে স্বাক্ষর করেছেন, যা ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সাহায্য করার জন্য দেওয়া হবে। যার মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যায় করা হবে শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলায়। ওয়াশিংটন এই মাসের শুরুতে ঘোষণা করেছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আনুমানিক ৭৫ হাজার ইউক্রেনীয়কে অস্থায়ী সুরক্ষিত স্টেটাস (Temporary Protected Status) প্রদান করবে। এই স্টেটাসের বলে ইউক্রেনীয়রা ত্রাণ এবং ১৮ মাসের জন্য কাজের ছাড়পত্র পাবে। সময়ের শেষে স্টেটাস পুনর্নবীকরণ করা যেতে পারে, তবে, ১ মার্চের পরে যারা এসেছে তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য হবে না।

ইউক্রেন ছেড়ে শরণার্থীরা কোথায় কোথায় যাচ্ছেন?

দেশের বাইরে কোনও ফ্লাইট না থাকায় শরণার্থীরা গাড়ি, বাস, ট্রেন বা পায়ে হেঁটে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পৌঁছচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, পোল্যান্ড (Poland) অর্ধেকেরও বেশি ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। আক্রমণের পর থেকে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৩ জন দেশটিতে প্রবেশ করেছে। হাঙ্গেরি (Hungary) ১২ মার্চ পর্যন্ত ২ লাখ ৪৬ হাজার ২০৬ জন শরণার্থী গ্রহণ করেছে। অন্য দিকে, মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮০ জন ইউক্রেন থেকে স্লোভাকিয়ায় (Slovakia) প্রবেশ করেছে। ১০ মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ রাশিয়ায় আশ্রয় চেয়েছে। মলদোভায় (Moldova) বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন শরণার্থীর প্রবেশ করেছে। রোমানিয়া (Romania) জানিয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪২ জন শরণার্থী তাদের দেশে প্রবেশ করেছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল থেকে ৯৬ হাজার মানুষ রাশিয়ায় প্রবেশ করেছে।

চেক প্রজাতন্ত্রে (Czech Republic) ইউক্রেনীয় শরণার্থী প্রবেশের হার দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে এখনও পর্যন্ত এক লাখের বেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। সম্প্রতি, ফ্রান্সের (France) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের দেশে প্রায় আড়াই হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থী পৌঁছেছে। আয়ারল্যান্ড (Ireland) সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ শরণার্থী আয়ারল্যান্ডে পৌঁছেছে। এছাডা় অস্ট্রিয়া (Austria), ক্রোয়েশিয়া (Croatia), এস্তোনিয়া (Estonia), গ্রীস (Greece), ইতালি (Italy), লিথুয়ানিয়া ( Lithuania), নেদারল্যান্ডস (Netharlands), পর্তুগাল (Portugal) এবং সুইডেন (Sweden) হাজার হাজার ইউক্রেনীয়ের আগমনের খবর দিয়েছে।

ইউক্রেনের শরণার্থীদের সাহায্য করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী করছে?

রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর (UN Refugee Agency) শরণার্থী সমস্যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সংকট (Refugee crisis) বলে অভিহিত করেছে। ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ পোল্যান্ডে (Poland) প্রবেশ করেছে, আরও কয়েক হাজার নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ হাঙ্গেরি (Hungary), রোমানিয়া (Romania) এবং স্লোভাকিয়ায় (Slovakia) গিয়েছেন। যারা হামলা থেকে পালিয়ে গিয়েছে তাদের আশ্রয়, চাকরির সুযোগ, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি জরুরি 'সুরক্ষা ব্যবস্থা' (Emergency Protection System) চালু করেছে।

সুরক্ষা ব্যবস্থা কোনও দেশে প্রবেশের পদ্ধতিগুলিকে সুগম করে। এটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, নব্বইয়ের দশকে প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া এবং কসোভোতে যুদ্ধের কারণে যখন হাজার হাজার লোককে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সিরিয়া (Syria) থেকে ইউরোপে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের শরণার্থী (Refugee) হিসেবে চলে আসে। যদিও তখন এটি আগে ব্যবহার করা হয়নি। 'অস্থায়ী সুরক্ষা নির্দেশিকা' ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত ২৭টি দেশে প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে। সদস্য দেশগুলি চাইলে আরও অনুকূল পরিস্থিতি প্রদান করতে পারে। দেশগুলি চাইলে তাদের মধ্যে শরণার্থীদের স্থানান্তর করার পদ্ধতিগুলিকে সহজ করতে পারে, যদি শরণার্থীরা অন্য দেশে যেতে রাজি হয়।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানো শুরু করে। তাই 'সুরক্ষা ব্যবস্থা' সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তটি সমস্ত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বা তার পরে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে গিয়েছে। এটি তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য-স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান অথবা যারা যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে শরণার্থী ছিল। তবে বিদেশি ছাত্রদের মতো স্বল্প সময়ের জন্য ইউক্রেনে বসবাসকারীদের জন্য এটি প্রয়োজ্য নয়।

First published:

Tags: Refugee, Russia Ukraine War

পরবর্তী খবর