• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Covid Or Flu, know How To Detect: কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, নাকি সাধারণ ফ্লু? বুঝবেন কীভাবে? জেনে নিন

Covid Or Flu, know How To Detect: কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, নাকি সাধারণ ফ্লু? বুঝবেন কীভাবে? জেনে নিন

মরসুমি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ার কারণে এমনও জল্পনা ছড়িয়েছে যে ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে দেরি নেই।

মরসুমি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ার কারণে এমনও জল্পনা ছড়িয়েছে যে ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে দেরি নেই।

মরসুমি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ার কারণে এমনও জল্পনা ছড়িয়েছে যে ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে দেরি নেই।

  • Share this:

#কলকাতা: ঋতু পরিবর্তনের কারণে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। যেমন ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু, সাধারণ জ্বর ইত্যাদি। প্রতি বছরই সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ধরনের রোগ দেখা দেয়। যেহেতু এই সময়ে ঋতু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়, সে কারণে এই রোগগুলির প্রাদুর্ভাব ঘটে। তবে, নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই এই রোগগুলি চলে যায়।

আমাদের আশপাশে অনেকেই ফ্লু-তে (Flu) আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা যেই কোভিড সম্পর্কে একটু কম চিন্তিত হতে শুরু করেছি, ঠিক সেই সময় ফ্লু-র বাড়বাড়ন্ত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জ্বর, সর্দিকে ভুগছে অনেকেই। সাধারণ জ্বরকে (Viral Fever) অনেকেই করোনা জ্বরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। বাড়ছে মানসিক চিন্তা। আসলে উদ্বেগ বাড়ারই কথা। কারণ, এই সময় ফ্লু অনেক বেশি গুরুতর এবং স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। তবে এটাও ঠিক বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

মরসুমি ফ্লু-র উপসর্গের সঙ্গে কোভিডের (Covid-19) উপসর্গের অনকগুলি মিল রয়েছে, যার অর্থ-সংক্রমণ সম্পর্কে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আর বিভ্রান্ত হওয়া অসম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে, বিভ্রান্তি দেরিতে বা ভুল রোগ নির্ণয়ের দিকেও নিয়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জ্বর হলে চিন্তা না বাড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মরসুমি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ার কারণে এমনও জল্পনা ছড়িয়েছে যে ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে দেরি নেই। কারণ, ওই উপসর্গের মিল।

কোভিড এবং ফ্লুর মধ্যে মিল:

কোভিড-১৯ এবং ফ্লু উভয়ই সংক্রামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংক্রমণ। যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। এই কারণেই মূলত এই সময়ে দু'টি ভাইরাল রোগের মধ্যে প্রাথমিকভাবে পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে। উপসর্গগুলির মধ্যে মিল বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। এখন অনেকেই টিকা নেওয়ার পরও কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে, তাদের মধ্যে মাঝারি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণত সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো। আবার, এই মুহূর্তে ফ্লুর সংক্রমণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময়ের জন্য রয়ে যাচ্ছে এবং ভয়ঙ্কর উপসর্গ থাকছে। যে কারণে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পর্যন্ত হচ্ছে। ফলে, সব মিলিয়ে একটা বিভ্রান্তি রয়েই যাচ্ছে।

ফ্লুর উপসর্গ কেন দীর্ঘস্থায়ী হয়?

মরসুমি ফ্লু-তে আমাদের চারপাশে অনেকেই আক্রান্ত। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের সংক্রমণের তীব্রতা মারাত্মক হতে পারে ও সংক্রমণ দীর্ঘসময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। যদিও চরম সংক্রমণের ক্ষেত্রে অনেকগুলি অন্য কারণ থাকতে পারে, যেমন-বয়স এবং অন্য রোগ। ফ্লুর উপসর্গগুলি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ হল, এই বছর লকডাউনের কারণে আমরা ভিড় এড়িয়ে চলেছি। তাতে আমাদের এক্সপোজারের অভাব রয়েছে।

সাধারণত, আমরা সকলেই ফ্লু সৃষ্টিকারী ভাইরাসের সংস্পর্শে আসি এবং কিছুটা প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা (এমনকি সংক্রমণ না হলেও) অর্জন করি। কিন্তু গত দু'বছরে এক্সপোজারের মাত্রা কম ছিল এবং সেই জন্য এটা এখন মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে। কিছু উপসর্গ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হতে পারে। ভাইরাল জ্বর থেকে সেরে ওঠার পরও অনেকের ব্যথা, ক্লান্তির মতো উপসর্গ থেকে যায় দীর্ঘদিন।

উপসর্গগুলি আসলেই যে কোভিডের, তা কী করে বোঝা যাবে?

একজন ব্যক্তি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে না কি সে সাধারণ ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়েছে, তা জানার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে পরীক্ষা। যাই হোক, যেহেতু দু'টি সংক্রমণের অনেকগুলি উপসর্গের মিল রয়েছে, তাই উপসর্গের বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং সঠিক সময় চিকিৎসা নেওয়া সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখনও দেশের অধিকাংশ মানুষই একটি করে টিকা নিয়ে নিয়ে ফেলেছেন। এর ফলে কোভিড আক্রান্ত হলে হালকা অথবা মাঝারি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অনেকেই আবার কোভিডে আক্রান্ত হলেও বুঝতেই পারবে না। এটা মনে রাখতে হবে যে টিকা নেওয়ার পর সংক্রমণের তীব্রতা কমে আসে। যদি কেউ ফ্লু ও কোভিডের টিকা নেয়, তাহলে এটি হতে পারে যে সে কেবলমাত্র রুটিন ফ্লু, এবং দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলিতে ভুগছেন।

আর কী কী পরীক্ষা করা উচিত?

সাধারণ জ্বর সাধারণত মানবদেহে দুই থেকে চার দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। অন্য দিকে, করোনাভাইরাস দুই থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত মানবদেহে থাকার সম্ভাবনা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে একই সময়ে কোভিড এবং সাধারণ জ্বরের ভাইরাসের মানবদেহে আক্রমণ হতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছেন যদি সঠিকভাবে সাধারণ জ্বরের মোকাবিলা করা সম্ভব না হয় তাহলে এই করোনা পরিস্থিতিতে তা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

যদি দেখা যায় যে দিনের পর দিন উপসর্গগুলি খারাপ হচ্ছে অথবা জ্বর ছাড়ছে না, তাহলে এটা কোভিডর সংক্রমণ হতে পারে। যেখানে একজন ব্যক্তির জ্বর এবং প্রদাহজনিত উপসর্গ থাকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত। বুকে ব্যথার মতো কয়েকটি অন্যান্য উপসর্গ থাকলে বোঝা যায় এটি কোভিডের সংক্রমণ।

আরও পড়ুন- ভ্যাকসিনের ককটেল নিরাপদ, কোভিশিল্ড-কোভ্যাকসিন মেশানো নিয়ে ঠিক বলছে ICMR?

আরেকটি বিষয় নজর রাখতে হবে। সেটা হল, দেখতে হবে চারপাশে অন্য কেউ একই রকমের উপসর্গে ভুগছে কি না। কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে, এটা সাধারণ বিষয় যে সংস্পর্শে থাকা লোকজনের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটা অবশ্যই সাধারণ ফ্লু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হারের তুলনায় বেশি।

কেউ কোভিড টিকা না নিলে তার উপসর্গ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখা দেবে। যেমন-শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি ইত্যাদি। অক্সিজেন স্যাচুরেশন ওঠানামা সাধারণত কোভিডের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। তাই উপসর্গ সম্পর্কে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

উভয় সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা করা উচিত:

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাবধানতা অবলম্বন করলেই এই দু'টি রোগ থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব। নিয়মিত হাত ধোওয়ার কথা চিকিৎসকরা বলেছেন, সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বার বার ভালো করে হাত ধুতে হবে। ব্যবহার করতে হবে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ। সাবান বা জলের ব্যবস্থা না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। মাস্ক (Mask) পরতে হবে, শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করতে হবে।

এছাড়াও উপসর্গ দেখা দিলেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। টিকা নেওয়া হোক বা না নেওয়া হোক, সাধারণ কোভিড বিধি মেনে চলতেই হবে এখনও। বাইরে বেরোলে মাস্ক পড়তে হবে। সামাজিক দুরত্ববিধি মানতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এই ধরনের জায়গা থেকে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

Published by:Suman Majumder
First published: