Home /News /explained /
EXPLAINED: করোনা হলে কি শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে? যা জানা জরুরি...

EXPLAINED: করোনা হলে কি শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে? যা জানা জরুরি...

করোনা হলে কি শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে? যা জানা জরুরি...

করোনা হলে কি শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে? যা জানা জরুরি...

কোভিডে আক্রান্ত হলে যে শুধু ফুসফুসে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এমনটা নয়। আরও বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। (Coronavirus) (Explainer)

  • Share this:

#কলকাতা: ২০২০ সাল থেকে শুরু হয়েও এখনও করোনা আক্রমণ চলছেই। করোনা সম্পূর্ণ নির্মূল হওয়া নিয়ে এখনও কোনও সুখবর এখনও বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। করোনার প্রথম দু'টি ঢেউ পেরিয়ে গেলেও বিশেষজ্ঞরা ধারণা চলতি বছরের মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে। এবং তৃতীয় ঢেউ শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনা আক্রমণ থেকে যতটা সম্ভব রক্ষা পাওয়া যায় তার জন্য সরকার, বিজ্ঞানীরা সহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ কাজ করে চলেছেন। করোনা টিকাকরণে জোর দিচ্ছে সরকার। যত বেশি সংখ্যক মানুষকে প্রতি দিন করোনা টিকাকরণ করা যায় সেই দিকে নজর রেখেছে তারা। তবে টিকা নেওযার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের তরফে। তাঁদের বক্তব্য, টিকাকরণ সম্পূর্ণ হলেও প্রত্যেক মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। মাস্ক পরতে হবে নিয়মিত এবং কোভিড প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।

কোভিডে আক্রান্ত হলে যে শুধু ফুসফুসে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এমনটা নয়। আরও বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি কোভিডের জেরে মানসিক বেশ কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: করোনা ভ্যকসিন নিয়ে ভুয়ো তথ্যে বিভ্রান্ত হচ্ছেন? আজই জেনে নিন ঠিক-ভুল...

কী কী শারীরিক সমস্যা হচ্ছে?

বধিরতা- করোনার প্রভাবে ফুসফুসের সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্নায়ুর রোগের ভুগছেন অনেকে। এবং দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তাঁরা। এরসঙ্গে গবেষণায় উঠে এসেছে করোনায় আক্রান্ত হলে আরও কয়েকটি সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। তার মধ্যে অন্যতম হল কানে কম শুনতে পাওয়া। এমনকী অনেকে বধিরও হয়েছেন বলে একটি রিপোর্টে প্রকাশ। এবিষয়ে একটি তথ্য প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অডিওলজি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ বধির হয়েছেন অথবা আংশিক বধির হয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই অডিও ভেস্টিবিউলার (Audio-Vestibular) রোগে ভুগছেন। এই রোগের উপসর্গ হল কানে সবসময় একটি শব্দ শুনতে পাওয়া। পরবর্তীতে যার কারণে বধির হতে পারে রোগী এবং মাথা ঘুরতে পারে।

গবেষণায় আর কী উঠে এসেছে…

কোভিড আক্রমণ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে বেশ কিছু অজানা তথ্য উঠে এসেছে। কোভিড সংক্রমণ কানে শোনার ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাঞ্চেস্টার এবং এন আই এইচ আর ম্যাঞ্চেস্টার বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার (NIHR Manchester Biomedical Research Centre)। সেই গবেষণায় উঠে এসেছে, কোভিড সংক্রমণের সঙ্গে বধিরতার সম্পর্ক আছে। এবং কোভিড আক্রমণের ফলে যে কেউ বধির হতে পারেন।

এবিষয়ে আরও একটি গবেষণা চালিয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার সেন্টার ফর অডিওলজি অ্যান্ড ডিফনেস (Manchester Centre for Audiology and Deafness)। সেখানকার গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, করোনাভাইরাস আক্রমণের ফলে শ্রবণ ক্ষমতা ও শারীরিক ব্যালান্সের উপর কতটা প্রভাব পড়েছে। এবিষয়ে সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে রয়্যাল ন্যাশনাল থ্রোট নোজ অ্যান্ড ইয়ার হসপিটাল (Royal National Throat Nose and Ear Hospital) এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (University College London)। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে করোনা ভাইরাস বেশ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শ্রবণ ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনতে পাওয়া (Tinnitus)

প্রায় ১৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনতে পান। দেখা গেছে এই শব্দ থেকে পরবর্তীতে অনেকে বধির হয়ে গিয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, লং কোভিডের ক্ষেত্রে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনতে পাওয়া একটি অন্যতম উপসর্গ। কোভিড সংক্রমণের প্রায় কয়েক মাস পর্যন্ত ওই ধরনের শব্দ শুনতে পান আক্রান্তরা।

শুধু কানের সমস্যা নয়, আরও কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে করোনা আক্রান্তদের। তার মধ্যে অন্যতম হল মানসিক হতাশা। এছাড়া দুশ্চিন্তা, ঘুম না হওয়া, অবসাদ সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যাগুলিও অনেক সময় বধিরতার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করে। এমনকী যাঁদের অতীতে এই ধরনের সমস্যায় ভুগতেন অর্থাৎ কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়ার সমস্যায় ভুগতেন তাঁদের মধ্যে যাঁরা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়েছে।

বধিরতা- কোভিডে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বধিরতা তৈরি হয়েছে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে অনেকে জানিয়েছেন তাঁদের শ্রবণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। প্রতি বছর এক লাখ মানুষের মধ্যে ২০ জন মানুষ বধির হয়ে যান। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে বধিরতা থেকে মুক্তি সম্ভব।

আরও পড়ুন: ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও কেন অনেকের শরীরে কোভিড আক্রমণ করছে?

মানুষের কানের তিনটি অংশ থাকে। সেগুলি হল বহিঃকর্ণ, মধ্য কর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে অন্তঃকর্ণের ভূমিকা সব থেকে বেশি। এমনকী অন্তঃকর্ণের সমস্যার জন্য মাথাঘোরার সমস্যা দেখা দেয়।

মাথাঘোরা- করোনার আক্রান্তদের মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে ১১ শতাংশের মধ্যে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, মাথা ঘোরার সঙ্গে বমি হতে পারে।

কোভিড থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা সবসময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি করোনা এখনও পুরোপুরি চলে যায়নি। ভারত সহ বিভিন্ন দেশে বারবার ফিরে আসছে করোনা। এই পরিস্থিতিতে কোভিড গাইডলাইন মেনে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন দিয়েছেন তাঁরা।

লং কোভিডের ভূমিকা

বধিরতা বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনার ক্ষেত্রে লং কোভিডের ভূমিকা রয়েছে। দেখা গেছে লং কোভিডে আক্রান্তরা দীর্ঘ দিন ধরে রোগগ্রস্ত ছিলেন। এমনকী কোভিডের উপসর্গগুলিও তাঁদের শরীরে ছিল দীর্ঘ দিন ধরে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছেন, যাঁরা মূলত কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের (Coronavirus Delta Variant) মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁদের শরীরে লং কোভিডের প্রভাব পড়েছে বেশি। এবং এটাও দেখা গিয়েছে যাঁরা লং কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের শ্রবণ ক্ষমতার উপরেও প্রভাব পড়েছে।

কোভিডে আক্রান্ত হলে শুধু যে শারীরিক প্রভাব পড়ে এমনটা নয়। মানসিক ভাবেও বিভিন্ন প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে মানুষ ঘরবন্দি। বন্দিদশাতেও অনেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে ঘর বন্দি অবস্থায় থাকতে থাকতে মানসিক অবসাদে ভুগছেন অনেকে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে দেখা করা বা কোথাও বেড়াতে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ । যার প্রভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বই পড়া বা গান শোনা ইত্যাদি কাজের উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: দু’টি টিকার পরও কতটা জরুরী করোনার বুস্টার ডোজ? জানুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মত

Published by:Raima Chakraborty
First published:

Tags: Coronavirus, COVID-19, India coronavirus

পরবর্তী খবর