• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • EXPLAINED | Child Corona Superspreader: শিশুরা করোনার সুপারস্প্রেডার হতে পারে, কেন এমন বলছে সমীক্ষা?

EXPLAINED | Child Corona Superspreader: শিশুরা করোনার সুপারস্প্রেডার হতে পারে, কেন এমন বলছে সমীক্ষা?

EXPLAINED | Child Corona Superspreader

EXPLAINED | Child Corona Superspreader

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোভিডে আক্রান্ত হলে সুপারস্প্রেডার হতে পারে শিশুরা। (EXPLAINED | Child Corona Superspreader)

  • Share this:

#কলকাতা: সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়নি কোভিড। দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর আক্রমণের মাত্রা কিছুটা কমলেও পুজোর মরসুমে ফের বাড়তে শুরু করেছে। দৈনন্দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই পরিস্থিতিতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে আক্রান্ত হবে শিশুরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে সরকারের তরফে বিভিন্ন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ১৮ বছর বয়সের উর্ধ্বে যাঁদের বয়স তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে অতি দ্রুত। কিন্তু এরই সঙ্গে আরও একটি আশঙ্কার কথা শোনা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোভিডে আক্রান্ত হলে সুপারস্প্রেডার হতে পারে শিশুরা। বর্তমানে এই বিষয়টি ভাবাচ্ছে সরকার ও বিশেষজ্ঞদের। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও শিশুদের কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়নি। আর সেই কারণেই আরও চিন্তা বাড়ছে। এর ফলে তাদের যেমন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি তেমনই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকছে।

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্যও করোনার টিকা; সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে জানুন বিশদে!

যত দিন যাচ্ছে ততই আরও মারাত্মক হয়ে উঠছে কোভিড ১৯ ভাইরাস। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরাও কোভিডের সমপরিমাণ ভাইরাস বহন করতে সক্ষম। এবং সেই ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতাও তাদের রয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো। যেহেতু তাদের এখনও কোনও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি তাই এই সম্ভাবনার কথাই সব থেকে চিন্তা বাড়িয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

গবেষণা

এই বিষয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ ইনফেকশাস ডিজিজ্ (Journal of Infectious Diseases)। সেই গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে যে পরিমাণ করোনাইরাস বহন করার ক্ষমতা থাকে তাতে উপসর্গ প্রকাশ হওয়া স্বাভাবিক। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। ওই গবেষণাটি করেন ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল (Massachusetts General Hospital) বা MGH, ব্রিহাম এবং ওমেন হসপিটাল (Brigham and Women's Hospital), রাগোন ইন্সটিটিউট ( Ragon Institute) MIT এবং হারবার্টের (Harvard) একটি বিশেষজ্ঞদল। তাঁরা মূলত সমীক্ষাটি চালান ১১০ জন শিশুর উপরে। যাঁদের বয়স ২ সপ্তাহ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। ওই শিশুদের প্রত্যেকেই কোভিড পজিটিভ। এবং অধিকাংশজনকে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই গবেষণা রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের ভাইরাস থাকলেও তা মারাত্মক ভাবে প্রভাব ফেলে না। বেশ কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের পেডিট্রিয়াক বিশেষজ্ঞ লিয়েল ইউনকার জানিয়েছেন, “শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই সংক্রমন ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। এবং একজন প্রাপ্তই বয়স্ক যত পরিমাণ মানুষকে আক্রমণ করে শিশুরাও তত পরিমাণ ব্যক্তির দেহে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি এপ্রসঙ্গে আরও বলেন, “শিশুদের শরীরের জন্যও কোভিড ভাইরাসও অত্যন্ত ছোঁয়াচে।”

নতুন ভ্যারিয়ান্টের ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রয়েছে শিশুদের?

কোভিড ভ্যাকসিনের নতুন নতুন ভ্যরিয়ান্ট সামনে আসছে। তার মধ্যে সব থেকে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভ্যারিয়ান্টগুলিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই বিষয়ে লিয়েল ইউনকার বলেন, “যে সব শিশু কোভিডে আক্রান্ত হবে কিন্তু সেভাবে উপসর্গ প্রকাশ পাবে না তাদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হতে পারে। এটা ভাবা উচিত নয় যে উপসর্গ প্রকাশ না পেলে কোভিড সেভাবে শরীরে প্রভাব ফেলতে পারবে না। ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও অনেকে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে একাধিক ভ্যারিয়ান্টের মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। তাই এক্ষেত্রে শিশুদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। এবং শিশুরা যাতে সুস্থ থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।” পাশাপাশি নতুন যে ভ্যারিয়ান্টগুলি প্রকাশ পাচ্ছে তা তুলনামূলক বেশি ছোঁয়াচে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: শীতের শুরুতেই ভাইরাল জ্বর? দ্রুত মুক্তি পাবেন কী ভাবে? এই পদক্ষেপগুলি জরুরি...

প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়েই উচ্চ ভাইরাল লোড বহন করে…

এক্ষেত্রে বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গিয়েছে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভাইরাল লোড অত্যন্ত বেশি থাকে। অনেকেই হয় তো মনে করতেন শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাল লোড তুলনামূলক কম থাকবে। কিন্তু ওই রিপোর্টে প্রকাশ এই ধরনের কোনও বিষয় গবেষণায় উঠে আসেনি। দেখা গিয়েছে যে একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে যে পরিমাণ ভাইরাল লোড থাকে একজন শিশুর শরীরেও সমান পরিমাণ ভাইরাল লোড থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Centers for Disease Control and Prevention)। তাদের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশুদের ন্যাজোফারনিক্সে (Nasopharynx) সমান পরিমাণ ভাইরাল লোড থাকে যতটা পরিমাণ ভাইরাস প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে থাকে। একই ভাবে রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে একজন প্রাপ্তবয়স্কের যে ভূমিকা থাকে একই শিশুর সমান পরিমাণ ভূমিকা থাকে।

আরও পড়ুন: শরীরে ক্যালসিয়ামের সমস্যা? সঠিক সময়ে না ধরতে পারলে বড় সমস্যায় ভুগবেন!

কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন শিশুদের কতটা সাহায্য করবে?

শিশুদের জন্য ভারতে কোভ্যাকসিনের ব্যবহারের অনুমতি পেলে কিছুটা স্বস্তি পাবেন অভিভাবকরা। এখনও সে অর্থে ব্যাপক ভাবে কোভিড ভ্যাকসিন শিশুদের মধ্যে দেওয়া শুরু হয়নি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, শিশুদের মধ্যে কোভিড ভ্যাকসিন ব্যাপক হারে দেওয়া হলে কোভিডের প্রকোপ অনেকটা কমবে। এর পিছনে একটি যুক্তি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, ইতিমধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অধিকাংশই কোভিড ভ্যাকসিন পেয়েছেন। সুতরাং তাঁদের ক্ষেত্রে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তাই এই মুহূর্তে ঝুঁকি রয়েছে শিশুদের। তাই শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ রোধ করার জন্য ভ্যাকসিন একমাত্র বিকল্প।

কোভিড ভ্যাকসিনের উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা বার বার কোভিড প্রোটোকল মেনে চলার কথা জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছেন বলে একাংশ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মাস্ক ঠিক মতো ব্যবহার করা হচ্ছে না। অভিভাবকরা মাস্ক পরলেও শিশুদের মাস্ক পরাচ্ছেন না তাঁরা। এতে বিপদ আরও বাড়ছে বলে মত তাঁদের। পাশাপাশি লোকাল ট্রেন চালানো এবং স্কুল খোলা নিয়েও মত জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, শুধু অভিভাবকরা নয়, শিশুদের ভালো রাখার দায়িত্ব এবার অনেকটাই পড়ল শিক্ষকদের হাতে। কারণ স্কুলে তাঁরা কেমন ব্যবহার করছে, সেই বিষয়ে নজর রাখতে হবে। দূরত্ব বিধি মেনে চলা, সঠিক ভাবে হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ইত্যাদিও সঠিক ভাবে পালন করা হচ্ছে কি না তাও নজর রাখার দায়িত্ব থাকছে শিক্ষকদের উপর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের জন্য ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হবে।

Published by:Raima Chakraborty
First published: