কোরান সন্ত্রাসবাদের উৎস, বাবরি মসজিদ তুলে দেওয়া হোক হিন্দুদের হাতে...এসব বলে কুখ্যাত কে এই ওয়াসিম রিজভি?

কোরান সন্ত্রাসবাদের উৎস, বাবরি মসজিদ তুলে দেওয়া হোক হিন্দুদের হাতে...এসব বলে কুখ্যাত কে এই ওয়াসিম রিজভি?

কোরান সন্ত্রাসবাদের উৎস, বাবরি মসজিদ তুলে দেওয়া হোক হিন্দুদের হাতে- এসব বলে কুখ্যাত কে এই ওয়াসিম রিজভি?

রিজভিকে ঘিরে ভারতীয় মুসলিমদের একাংশে উত্তেজনা তীব্র, কাশ্মীরে তাঁর কুশপুতুল দাহ করা হচ্ছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সংবিধানের দিক থেকে দেখলে এই দেশ ধর্মসহিষ্ণু। কিন্তু তার জনতা নয়। ফলে ধর্মীয় ব্যাপার নিয়ে মুখ খুলে মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন সৈয়দ ওয়াসিম রিজভি (Syed Waseem Rizvi)। ইসলাম সম্পর্কিত তাঁর অনেক মন্তব্যেই আছে বিতর্কের উপাদান। যেমন তিনি বলেছিলেন যে কোরান সন্ত্রাসবাদের উৎস। আবার দেশের বেশ কয়েকটি মসজিদ তিনি হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান, এর মধ্যে নাম ছিল বাবরি মসজিদেরও। ফলে, আপাতত রিজভিকে ঘিরে ভারতীয় মুসলিমদের একাংশে উত্তেজনা তীব্র। কাশ্মীরে তাঁর কুশপুতুল দাহ করা হচ্ছে। উগ্রবাদীরা তাঁর দেহচ্যুত মাথার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। তাঁর বাড়ির সামনে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কিন্তু কে এই ওয়াসিম রিজভি?

যদি পদাধিকারের কথা বলতে হয়, সেই সূত্রে রিজভি ওয়াকফের শিয়া সেন্ট্রাল বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। সেই দিক থেকে রিজভি বার বার বলার চেষ্টা করেছেন যে তিনি নিজেও ধর্মপ্রাণ মুসলিম, তিনি ইসলামের বিরোধিতা করছেন না। কোরানে ২টি আয়াত পরে কট্টরপন্থীদের দ্বারা যুক্ত হয়েছে, এই ছিল তাঁর অভিমত। তাই তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে কোরান থেকে ওই দুই আয়াতের অবলুপ্তির দাবি জানান। তাঁর মতে, ওই দুই আয়াত অবলম্বন করেই দেশে সন্ত্রাসবাদে প্ররোচণা দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে রিজভি দাবি করেছিলেন যে ঐতিহাসিক সূত্রে দেশের বহু মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছেন মুসলিম শাসকেরা। ফলে, সেই সব মসজিদ এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে হিন্দুদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিৎ।

পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

জানা যায় যে রিজভি যখন বেশ ছোট ছিলেন, সেই সময়ে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন ভারতীয় রেলের কর্মচারী। ফলে রিজভির পক্ষে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি, তিনি পরিবারের গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য কাজে যোগ দেন। সৌদি আরব, আমেরিকা, জাপানের মতো দেশগুলির অনেক দোকানে কাজ করেছিলেন রিজভি। এক সময়ে তিনি আবার নিজের দেশে ফিরে আসেন। লখনউতে ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে শিয়া নেতা হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকেন, পুরসভা নির্বাচনের সঙ্গেও জড়িয়ে যায় তাঁর নাম। এভাবে দেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে রিজভির জীবন। এই সময় থেকেই তিনি শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে কাজ করতে থাকেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। এবং বার বার তাঁর ইসলামবিরোধী বক্তব্যের জন্য সমালোচনার শিকার হয়েছেন।

বলিউডের সঙ্গে যোগাযোগ:

দেশের বৃহত্তম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেও চিত্রনাট্যকার এবং প্রযোজক হিসেবে জড়িয়ে আছে রিজভির নাম। রাম কি জন্মভূমি, আইশা-র মতো বেশ কয়েকটি ছবির জন্য তিনি এই দুই ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অন্য বিতর্কিত মন্তব্য:

রিজভি ইসলামের সবুজ পতাকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে এটি পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার দ্বারা প্রভাবিত, তাই ভারতের মাটিতে এর উত্তোলন কাঙ্ক্ষিত নয়। এছাড়া দেশের মাদ্রাসাগুলিও তিনি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। তাঁর দাবি ছিল, মাদ্রাসার ধর্মীয় শিক্ষা নতুন প্রজন্মকে ধর্মান্ধ করে তুলছে।

Published by:Rukmini Mazumder
First published:

লেটেস্ট খবর