Home /News /explained /

Explained: ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে সরকারি অবস্থান কী? নতুন বিলের ফল কী হতে চলেছে?

Explained: ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে সরকারি অবস্থান কী? নতুন বিলের ফল কী হতে চলেছে?

Cryptocurrencies: কেন্দ্র দীর্ঘকাল ধরেই ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে সতর্কতা স্পষ্ট করেছে।

  • Share this:

#কলকাতা: সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন (Parliament Winter Session)। জানা যাচ্ছে, এই অধিবেশনেই ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency) নিয়ন্ত্রণে ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যান্ড রেগুলেশন অব অফিসিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বিল (Cryptocurrency and Regulation of Official Digital Currency Bill) আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মঙ্গলবার রাতে খবর হয়, এই বিলে সব বেসরকারি ক্রিপটোকারেন্সিকে ভারতে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। বদলে আরবিআই (RBI) আনতে পারে নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency)। যদিও, পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই সরকারি সূত্রের দাবি। কেন্দ্র দীর্ঘকাল ধরেই ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে সতর্কতা স্পষ্ট করেছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কী?

ক্রিপ্টোকারেন্সি হল এক রকমের ডিজিটাল কারেন্সি। এই কারেন্সি কোনও সরকার বা রাষ্ট্র উৎপাদন বা সরবরাহ করে না। বিভিন্ন জটিল সব অ্যালগোরিদম, ব্লক এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি অনুসরণ করেই একেকটি কয়েন বানাতে হয়। আমরা এটিকে নিজের সম্পত্তি হিসাবেই ব্যবহার করতে পারি, তবে এর জন্য কোনও ব্যাঙ্ক বা ATM নেই।

ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনলাইন শপিংয়ে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব কারেন্সি যেমন টাকা, রুপি, ইউরো, ডলার, পাউন্ড ইত্যাদি রয়েছে, সেগুলির সঙ্গে আমরা সকলেই কমবেশি পরিচিত, কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি এদের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। টাকা, রুপি, ইউরো, ডলার, পাউন্ড ইত্যাদির উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রন সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক করে থাকে। এমনকি এই মুদ্রার সরবরাহও ইচ্ছে মতো বাড়ানো কমানো যায়। কিন্তু প্রতিটি ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কয়েনের বেশি জেনারেট করা যায় না।

ভারতে কত লোকের ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে?

সূত্রের খবর, ১০ কোটিরও বেশি ভারতীয় নাগরিক ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ১০ কোটির মধ্য বেশিরভাগই অল্পবয়সী। দেশে প্রায় ১০.০৭ কোটি ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) এর থেকে কম সংখ্যক মানুষ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন। যদিও অনুমান করা হয় যে মোট বিনিয়োগ মূল্যে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে আমেরিকা।

ক্রিপ্টো রিসার্চ ফার্ম CREBACO বলেছে যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে মোট বিনিয়োগ ২০২১ সালের শেষের দিকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা ২০২০ সালের এপ্রিলে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কম ছিল। সংসদে ক্রিপ্টো বিল আনার খবর প্রচার হতেই বিটকয়েন (Bitcoin), ইথারিয়াম  (Ethereaum) ইত্যাদির মতো প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলির মূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। যদিও এই পতন সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে প্রস্তাবিত বিলের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত নয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে উদ্বেগগুলি কী কী?

নভেম্বরের মাঝামাঝি সিডনি ডায়ালগের (Sydney Dialogue) একটি ভার্চুয়াল মিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) বলেছিলেন যে ক্রিপ্টোকারেন্সি যাতে ভুল হাতে পড়ে শেষ না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত গণতান্ত্রিক দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যা আমাদের যুব সমাজকে নষ্ট করতে পারে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে একটি সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন।

যেখানে এটি উল্লেখ করা হয়েছিল যে অনিয়ন্ত্রিত ক্রিপ্টো বাজারগুলি আর্থিক তছরূপ (Money Laundering) এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থায়নের (Terror Financing) জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগে বিশাল আয়ের বিভ্রান্তিকর দাবি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছিল। সূত্রগুলি বলেছিল যে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত লাভ এবং ঝুঁকি লুকিয়ে রাখার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।

ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে সরকারি অবস্থান কী?

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিলটি এই বছরের বাজেট এবং বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদে উপস্থাপন করার কথা ভেবেছিল সরকার। যদিও তা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী (Finance Minister) নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) জুলাই মাসে বলেছিলেন যে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্যই অপেক্ষা করা হয়েছিল। শীতকালীন অধিবেশনে যে বিল পেশ করা হবে তাতে আগের বিলে থাকা শব্দগুলি রয়ে গিয়েছে। বিলে বলা হয়েছে যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডিজিটাল মুদ্রার জন্য একটি সুবিধাজনক কাঠামো তৈরি করতে চায়। ভারতে সমস্ত ব্যক্তিগত ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করা হবে। কিন্তু বিলে ক্রিপ্টোকারেন্সির অন্তর্নিহিত প্রযুক্তি এবং এর ব্যবহার প্রচারের জন্য কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে।

নিউজ এজেন্সি রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছিল যে বিলটি ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলির বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নীতিগুলির মধ্যে একটি হবে। ক্রিপ্টোকারেন্সির দখল, ইস্যু, খনন, ব্যবসা ও সম্পদ স্থানান্তরকে অপরাধকরণ করা হবে। বিনিয়োগকারীদের ক্রিপ্টো হোল্ডিংগুলি নিষ্পত্তি করার জন্য একটি উইন্ডো দেওয়া হবে, যার জন্য জরিমানা চালু করা হবে।

কিন্তু একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যে উৎসাহিত হয়েছেন যে সরকার ডিজিটাল বিশ্ব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার উপায়গুলি দেখছে। সূত্রের খবর যে সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা চাপাবে না। ক্রিপ্টোকারেন্সির অপব্যবহার রোধ করার জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনা করা হবে। ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কোনও ভাবেই আইনি মুদ্রা বলে চিহ্নিত করা হবে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি আইনি দরপত্র হিসাবে স্বীকৃত হবে না। কারণ এটি দেশের মুদ্রা এবং কর ব্যবস্থার (Taxation System) জন্য বিপজ্জনক হবে।

ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাণিজ্য কী ভাবে সম্ভব?

দেশে বিটকয়েন লেনদেনের (Bitcoin Trading) উপর নিষেধাজ্ঞা আছে কি না? গত বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সংসদে এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক ২০১৮ সালে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জারি একটি সার্কুলার দেখায়। তাতে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন না করার জন্য সমস্ত নিয়ন্ত্রিত সংস্থাকে বলা হয়েছিল। যদিও, সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালের একটি রায়ে আরবিআই-এর জারি করা সার্কুলারটিকে খারিজ করে দেয়। এর মানে হল যে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বাণিজ্য করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকেই একদিন বাড়িতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, এটা কী ভাবে সম্ভব?

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আদেশ সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি ব্যাঙ্ক তাদের গ্রাহকদের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন করতে দেয়নি আরবিআই-এর সার্কুলারটি দেখিয়ে। গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সম্পর্কিত লেনদেনের পরিষেবা দিতে অস্বীকার করার জন্য ব্যাঙ্কগুলি সার্কুলারটি উদ্ধৃত করতে পারে না। আরবিআই বলেন, "মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সার্কুলারটি রায়ের তারিখ থেকে আর বৈধ নয় এবং তাই এটির উদ্ধৃত করা যাবে না।"

কেন সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সতর্ক?

বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে চিন (China), যারা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাইনিং (Cryptocurrency Mining) স্পেসে একটি বড় খেলোয়াড় হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। বেশিরভাগ সরকারই উদ্বিগ্ন যে অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল মুদ্রাগুলি সরকারি মুদ্রা ইস্যু করার এবং আর্থিক নীতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করবে। এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি কর ফাঁকি দেওয়া এবং সম্পদ বাইরে স্থানান্তরিত করার একটি বাহক হয়ে উঠেছে৷

 আরও পড়ুন: মানি হাইস্ট-এ বড় চমক ! ভুবন বামকে দেখা যেতে পারে সিরিজে !

অর্থ মন্ত্রক এই বছরের অগাস্টে সংসদে জানিয়েছিল যে সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সিকে আইনি মুদ্রা বা কয়েন হিসেবে বিবেচনা করে না এবং এর অবৈধ ব্যবহার রুখতে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভার্চুয়াল কারেন্সি সম্পর্কিত সমস্যাগুলি দেখার জন্য গঠিত একটি উচ্চ-স্তরের কমিটি সুপারিশ করেছিল যে সরকার দ্বারা জারি করা যে কোনও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যতীত সমস্ত প্রাইভেট ক্রিপ্টোকারেন্সি ভারতে নিষিদ্ধ করা হবে। তবে মন্ত্রক বলেছিল যে সরকার ডিজিটাল মুদ্রার প্রচলনের জন্য সক্রিয়ভাবে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার খতিয়ে দেখবে।

Published by:Piya Banerjee
First published:

Tags: Bitcoin, Cryptocurrency, RBI

পরবর্তী খবর